বাসরঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কেমনে জানি ভয় লাগতেছে আবার লজ্জাও। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আস্তে করে দরজাটা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলাম। দরজাটা লাগিয়ে দিলাম।
দেখলাম রিদি মাথা নিচু করে বসে আছে। আমি গিয়ে খাটের উপর বসলাম। এমন সময় রিদি আমাকে বললো....
রিদিঃ তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
আমিঃ কি কথা বলেন ।
রিদিঃ দেখো তোমাকে আমি কখনোই স্বামী হিসেবে মানতে পারবো না। কারন তুমি আমার অনেক ছোট ।
আমিঃ তাহলে এই বিয়েতে মত দিলেন কেন?
রিদিঃ তোমার কি ধারনা আমি নিজে থেকে মত দিয়েছি? জীবনেও না। বাবা আমাকে উনার ম*রা*র কসম দিয়েছে। সেজন্য আমি বিয়েটা করেছি।
আমিঃ আপনার বাবার কসম এর জন্য আপনি আমার জীবন নষ্ট করবেন নাকি? তো আপনি এখন কি চান ?
রিদিঃ তুমি আমার কাছে স্বামীর অধিকার দেখাতে পারবে না। তুমি তোমার মতো আর আমি আমার মতো।
আমিঃ ওকে, আমি আপনার উপর না হয় কোনো অধিকার খাটাবো না। অন্তত আমার মা বাবার সামনে একটু নাটক কইরেন । না হলে উনারা অনেক কষ্ট পাবে।
রিদিঃ চেষ্টা করবো।
আমি আর কিছু না বলে খাটে ঘুমাতে যাবো এমন সময় রিদি আবারও চিৎকার দিয়ে উঠে আর আমাকে বলে....
রিদিঃ কি করছো তুমি ?
আমিঃ কি করলাম, ঘুমাতে যাচ্ছি।
রিদিঃ ঘুমাবে ভালো কথা কিন্তু খাটে কেন ?
আমিঃ তাহলে কোথায় ঘুমাবো?
রিদিঃ যেখানে খুশি সেখানে ঘুমাও, দরকার হলে সোফায় ঘুমাও বাট খাটে ঘুমাতে পারবে না।
আমিঃ এটা আবার কেমন কথা, খাট থাকতে সোফায় কেন ঘুমাবো?
রিদিঃ কারন তোমার সাথে এক খাটে ঘুমানোর কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। সো তুমি খাটে ঘুমাবে না।
আমি আর কিছু না বলে একটা বালিশ নিয়ে লাইট অফ করে সোফায় ঘুমিয়ে পড়লাম, রিদিও খাটের উপর শুয়ে পড়লো। আমার কিছুতেই ঘুম আসছে না। পরে আমি উঠে বেলকনিতে চলে গেলাম।
মনে মনে ভাবতে লাগলাম, আমার মতো অভাগা হয়তো পৃথিবীতে আর ২য় টা নেই। এই বাসরঘর নিয়ে কতো কিছু চিন্তা করে রাখছি বাট কিছুই হলো না।
এমন সময় খেয়াল করলাম রুম থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। আমি তাড়াতাড়ি রুমে ঢুকে লাইট টা অন করলাম।
দেখলাম রিদি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। লাইট অন করাতেই কান্না বন্ধ করে দিলো। তারপর আমি বললাম....
আমিঃ কি ব্যাপার আপনি এখনো ঘুমান নি, আর কান্না করতেছেন কেন ?
রিদিঃ না এমনি । তুমি কোথায় ছিলে ?
আমিঃ বারান্দায় ছিলাম। ঘুমিয়ে পড়েন বেশি রাত জাগলে আবার শরীর খারাপ করবে ।
রিদিঃ হুম, তুমিও ঘুমিয়ে পড়ো ।
আমি আর কিছু না বলে লাইট টা অফ করে দিলাম। খেয়াল করে দেখলাম ওর মোবাইলে একটা ছেলের ছবি। এবার বুঝতে পারছি রিদি কেন কান্না করছে।
হয়তো ছেলেটাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু ছেলেটা ওকে ঠকালো । মেয়েরা এমন ছেলেই বেছে বেছে কেন ভালোবাসে আল্লাহ জানে ।
মনে মনে বললাম বালিকা তুমি আমাকে চেনো না, আমি কোন জলের মাছ, তোমাকে আমার প্রতি দূর্বল করে তারপর প্রত্যেক টা কথা প্রতিশোধ নিবো। কোথাকার একটা ছেলের জন্য তুমি আমার ভালোবাসাকে ২ টাকার দামও দিচ্ছো না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই।
সকালবেলা একটা মিষ্টি কান্ডে ঘুম ভাঙলো, তাকিয়ে দেখি এটা রিদি । এই মাত্র গোসল করে আসছে। ওর চেহারাটা অনেক মায়াবী লাগছে । আবারো ক্রাশ খেয়ে গেলাম । আমি অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর রিদি বললো....
রিদিঃ ওই এই ভাবে ছ্যাঁচড়াদের মতো তাকিয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও । আম্মা এসে কয়েকবার ডেকে গেছে, নাস্তা করার জন্য।
আমি কিছুই না বলে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। ফ্রেশ হতে হতে ভাবলাম রিদি মনে হয় জীবনেও আমাকে মেনে নিবে না। ফ্রেশ হয়ে রুমে আসতে দেখালাম রিদি মনমরা হয়ে বসে আছে। আমাকে দেখেই নিচে চলে গেলো।
আমিও রেডি হয়ে নিচে গেলাম। গিয়ে দেখি আমি ছাড়া সবাই বসে আছে। সবাই একসাথে নাস্তা করলাম।
এরপরে রাতে যখন আবার ঘুমাতে যাই, গিয়ে দেখি রিদি আগে থেকেই বিছানায় শুয়ে আছে। আমি কিছু না বলে সাদে চলে গেলাম। সারা রাত ওখানেই কাটিয়ে দিলাম।
এইভাবে ১ সপ্তাহ চলে গেলো । রিদির সাথে আমার আর তেমন কথা হয় না, দরকার ছাড়া আর কোনো কথা নেই।
আরো কয়েকদিন পর সকালে নাস্তা করে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । কলেজে এসেই মেহেদীর সাথে দেখা । তখন সে বললো,,,,,,
মেহেদীঃ কিরে দোস্ত কি অবস্থা?
আমিঃ এই তো ভালো । তবে একটা কথা বলবো,,?
মেহেদীঃ বল ?
আমিঃ আমি বিয়ে করে নিয়েছি রিদিকে ।
মেহেদীঃ কিহহহ । ফাইজলামি করছিস তাই না ।
আমিঃ আরে না । শোন তাহলে,,,,,
তারপর ওকে সব ঘটনা খুলে বললাম ।
মেহেদীঃ কি বলিস দোস্ত । ট্রিট দে ।
আমিঃ আরে ট্রিট পরে নিস । সে আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে । সেটার কি করা যায় ।
মেহেদীঃ চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে ।
তারপর ক্লাস করলাম । দুপুরে খাওয়ার সময় হয় গেল । তাই ক্যান্টিনে বসে চিন্তা করলাম রিদিকে একটা কল দিই। খেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করি। এরপর রিদিকে কল দিলাম। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর কলটা ধরলো, বিরক্ত নিয়ে বললো....
রিদিঃ কি ব্যাপার তুমি এ সময় কেন কল দিলে কেন ?
আমিঃ না মানে খেয়েছেন কিনা জানার জন্য।
রিদিঃ দেখো তোমার আমাকে নিয়ে এতো ভাবতে হবে না। আমাকে আমার মতো থাকতে দাও ।
এ কথা বলে কলটা কেটে দিলো। তারপর,,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
মায়াবী চোখ গুলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
220
Views
5
Likes
0
Comments
5.0
Rating