Virtual Love

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ভার্চুয়াল পৃথিবীটা অনেকটা স্বপ্নের মতো। স্বপ্নে যেমন নিজের অবস্হানের কোনো পরিবর্তন না করে সেখানে যাওয়া যায়, ভার্চুয়াল জগতেও তেমন নিজের অবস্হান না পরিবর্তন করে যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়। তবে পার্থক্য এটাই যে স্বপ্নের সাথে বাস্তবের কোনো মিল থাকে না। কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের সাথে বাস্তব সম্পর্কযুক্ত। ভার্চুয়াল জগৎটি তো তৈরিই হয়েছে বাস্তব জগতের মানুষদের নিয়ে। এর মাধ্যমে পৃথিবীর দুই প্রান্তে বসে দুজন মানুষ একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। কেমন হবে, এমনই দু'প্রান্তের মানুষের প্রেমের মাধ্যম যদি এই ভার্চুয়াল জগৎ হয়? আদও কি তাদের সম্পর্ক পরিনতি পাবে? আজ এমনই একটি ছোটগল্প নিয়ে হাজির হয়েছি আমি আপনাদের সামনে। আজকের কাহিনীটি একটু অন্যরকম ও আলাদা হবে।তাই গল্পটি শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইল।

✨______________________________✨

     অধরা নিজের ঘরে বসে ফেসবুক চালাচ্ছে।আর ফেসবুক মানেই নানান রকম তথ্য-উপাত্ত, ছবি, ভিডিও,নাচ গান ইত্যাদির সমাহার। অধরার সামনেও তখন একটা ভিডিও দৃশ্যমান হলো। ভিডিওটা ছিলো এরকম যে একটি ছেলে তার প্রিয়তমার জন্য অনলাইন থেকে বিভিন্ন শাড়ি,জুয়েলারি,প্রসাধনীসহ অনেককিছু অর্ডার করেছে তাকে গিফট করবে বলে। সেই অনলাইন পেজের ওনার সেটির পার্সেল ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।সে সেই পেজের নাম দেখলো "কাব্যকথা"। আজকাল প্রায়ই ফেসবুক খুললে অধরার ফোনে এই পেজের এরকম আরও পার্সেল ভিডিও ভেসে ওঠে। তার যদিও এরকম ভিডিও দেখতে ভালোলাগে,কিন্তু তার মাঝেমধ্যে আফসোস হয়।সে আফসোসের স্বরে বলে-


-নিজে তো কোনোদিন কারও কাছ থেকে এসব গিফট পেলাম না,তাই অন্যেরটা দেখেই চোখ ভরাই।

অধরা কাব্যকথা পেজের একটার পর একটা ভিডিও দেখেতে থাকে।সে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও দেখতে পায় যেখানে একটি কলেজ পড়ুয়া ছেলে তার প্রেয়সীর জন্য একটি নীল শাড়ি, নীল চুরি এবং আরও কিছু জুয়েলারি অর্ডার করেছে তাদের সম্পর্কের দু'বছর পূর্তি উপলক্ষে। অধরা যদিও কোনো ভিডিওতে তেমন কমেন্ট করে না,কিন্তু আজ সে একটা কমেন্ট না করে থাকতে পারলো না।অধরা ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে যায় এবং টাইপ করে-


-"কারা এরা?কোথা থেকে পায় এরা এমন বয়ফ্রেন্ড? ইস্, আমার যদি এমন কেউ থাকতো"

অধরা কমেন্টটি send করে দেয়।

প্রায় তেরোমিনিট পর একটি ছেলে অধরার কমেন্টের রিপ্লাই করে-

-এইতো আমি আছি একজন।আমার গার্লফ্রেন্ড হবে?

অধরা সেটা দেখে কিছুটা রেগে যায় এবং সেখানে লেখে -


-কোনো কাজ পান না তাই না? কমেন্ট বক্সে এসে এমন বড় বড় কথা তো সবাই বলতে পারে। গিফট তো আর দিতে পারবেন না।

কিছুক্ষণ পর আবার তার রিপ্লাই এলো-


-কে কী পারে,না পারে সেটা তো ইনবক্সে এলেই দেখতে পারবেন ম্যাডাম।

অধরা এবার সেই আইডি থেকে একটু ঘুরে আসে।সে দেখতে পায় সবার উপরে Araf নামটা জ্বলজ্বল করছে। সে আরাফের কিছু পোস্ট করা ছবি দেখে। দেখতে মোটামুটি ভালোই আছে।


অধরা ইনবক্স ওপেন করে দেখে সেখানে সেই আইডি থেকে মেসেজ এসেছে।

-Hello madam

-হ্যাঁ, বলুন কি বলবেন।

-আপনার নাম কী?

-আপনাকে কেনো বলবো?

-আচ্ছা বাদ দিন, আমি এমনিই খুঁজে বের করবো আপনার নাম।I'm Araf and I live in Rajshahi.আর সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি pure single. 

-আজব তো আপনি এসব আমাকে কেনো বলছেন?

-তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড হবে আর আমার সম্পর্কে details জানবে না?

-এই কে আপনার গার্লফ্রেন্ড?

-কেনো তুমি।

-আপনি তো আমাকে দেখলেনই না। Even আপনি আমাকে চিনলেনই কিছুক্ষণ আগে। তাহলে আমি কিভাবে আপনার গার্লফ্রেন্ড হলাম?

-ও হওনি বুঝি?তাহলে হয়ে যাও।

-মগের মুল্লুক পেয়েছেন? এমনি এমনি আপনি আপনার গার্লফ্রেন্ড হয়ে যাবে?

-ও এমনি এমনি হবে না। আচ্ছা আমি তোমার জন্য অনলাইন পেজ থেকে গিফট অর্ডার করছি। যদি আমি সেটা পারি, তাহলে তোমাকে আমার গার্লফ্রেন্ড হতে হবে। রাজি?

অধরা অনেকক্ষণ কোন মেসেজ দিল না। আরাফ এর থেকে আবার মেসেজ এলো-


-তুমি কি ভেবেছো আমি তোমার সাথে মজা করছি। আমি সত্যিই তোমার জন্য গিফট পাঠাবো।

-ঠিক আছে। আপনার যা ইচ্ছে করুন। আমি সিঙ্গেল। তবে সিওরলি বলতে পারছি না।

-আচ্ছা তোমার বাড়ি বা এলাকার এড্রেস দাও।

অধরা তাকে তার এলাকার এড্রেস দিলো।

-পার্সেলটা যদি তোমার এলাকায় পৌঁছে যায় তাহলে কিন্তু তোমাকে আমার গার্লফ্রেন্ড হতে হবে।

-দেখা যাবে।


এরপর দুদিন আরাফ ও অধরার সাথে কোনোরকম কথা হয়নি। আরাফ কোনো মেসেজ দেয়নি বলে অধরাও তাকে আর ঘাটায়নি। প্রায় ভুলেই গিয়েছিলো সে আরাফের কথা। অধরা ভেবেছিলো, আরাফ হয়তো তার সাথে মজা করছে।সে অধরার জন্য কোনো গিফট পাঠাবে না। নাহলে একটি অপরিচিত মেয়ের জন্য কে টাকা খরচ করে গিফট পাঠায়? কিন্তু তার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে দুদিন পর সত্যিই অধরার জন্য একটি পার্সেল এলো। সে প্রথমে সেটা নিতে অস্বীকার করলেও তাকে সেটা নিতেই হয়। Parcel received করার পর অধরা কাব্যকথা পেজের ওনারের সাথে কথা বললো।


-হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।

-ওয়ালাইকুমুস সালাম।

-কাব্যকথা পেজের ওনার অস্মিতা আপু বলছেন?

-হ্যা,বলছি।বলুন কী দরকার আপনার? কোনো কিছু অর্ডার করবেন?

-না,না,আপু। আমার একটা ইনফরমেশন নেওয়ার ছিলো

-বলুন কি জানতে চান। আমি চেষ্টা করছি উত্তর দেওয়ার।

-আপনার পেজ থেকে ****** এড্রেসে একটা পার্সেল এসেছে। আমি আসলে ওটা অর্ডার করিনি।

-কিন্তু আমাকে তো এই এড্রেসে পার্সেল পাঠাতে বলা হয়েছিল।

-আচ্ছা,আপু আপনি কি বলতে পারবেন এটা কে অর্ডার করেছে?

-হ্যাঁ, আরাফ নামের কেউ।


অধরার তখন মনে পড়লো আরাফের কথা। সে সত্যিই অনেক অবাক হলো। এটা একদমই আশা করেনি অধরা।

অধরারর থেকে কোনো কথা শুনতে না পেয়ে অস্মিতা আবার বলে উঠলো-

-Any Problem madam?

অস্মিতার কথায় অধরার স্তম্ভিত ফেরে। তারপর সে আরাফের সব কথা অস্মিতাকে বললো। সব শুনে অস্মিতা বললো-


- তো কী ভাবছেন, accept করবেন ওনাকে?

-ভাবছি accept করেই নেবো। যতই হোক, সে আমায় এত গিফট দিলো।

-আপনি কিন্তু খুব লাকি। শুধুমাত্র একটা কমেন্ট করেই আপনি এত ভালো একজনকে পেয়ে গেছেন।

-আমি নিজেও ভাবছি, আমি এত লাকি কবে হলাম।

বলেই অধরা হেসে উঠলো।


অধরার সামনে এখন আরাফের দেয়া গিফটবক্স।  সে একদৃষ্টে কিছুক্ষণ সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর আস্তে আস্তে সেগুলোকে নিজের হাতে নিয়ে মোড়ক খুলতে লাগলো সে। এক অদ্ভুত অনূভূতি তার মনে উঁকি দিচ্ছে। জিনিসগুলোতে হয়তো আরাফের ছোঁয়া লাগেনি।কিন্তু তার মধ্যে যে ভালোবাসা লুকিয়ে রয়েছে সেটা উপলব্ধি করছে অধরা। মোড়ক খুলতেই প্রথমে দৃশ্যমান হলো কালো রঙের ওপর সোনালি রঙের কাজ করা একটি শাড়ি। শাড়িটি দেখেই অধরার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। নাল রঙ তার এমনিই অনেক প্রিয়।এই ছেলে কী তার মনের কথা জানে নাকি! এরপর একে একে অধরা কালো রঙের রেশমি চুরিসহ  কিছু ম্যাচিং জুয়েলারি পেলো। তারপর সে আরও কিছু সুন্দর সুন্দর জুয়েলারি পেলো যেগুলো সব ধরনের জামার সাথে পড়া যাবে। এরপর সে কিছু প্রসাধনীও পেলো। প্রতিটি জিনিসই তার খুব পছন্দ হলো। জুয়েলারিগুলোর তো কথাই নেই। প্রতিটির ডিজাইন এত সুন্দর আর ইউনিক যে সেগুলোর থেকে চোখ ফেরানো দায় হয়ে গেছে। এতদিন সে এগুলো কাব্যকথা পেজে দেখেছে। আর আজ এগুলো সব তার হাতের মুঠোয়। আরাফের পাগলামো দেখে অধরা আনমনে হেসে উঠলো।


✨________________________________✨


-কী ম্যাডাম, গিফটস্ পেয়েছেন?

আরাফ অধরাকে মেসেজ করলো।অধরাও তাকে মেসেজ করলো-

-হ্যাঁ, পেয়েছি।

-পছন্দ হয়েছে?

-হুম, আপনার চয়েজ আছে বলতে হবে।

-তাইতে তোমাকে পছন্দ করেছি।

-আপনি ঠিক আপনার প্রশংসা করছেন নাকি আমার প্রশংসা করছেন তা বুঝতে পারছি না।

-দুজনেরই। যাই হোক আমি কিন্তু আমার কথা রেখেছি। এবার তোমার পালা।

-কী কথা দিয়েছিলাম আমি?

-ওমা,,,তোমার মনে নেই?

-না, ভুলে গেছি। আপনি একটু মনে করিয়ে দিন প্লিজ।

-Okey আমিই বলে দিচ্ছি। তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে, গিফটগুলো তোমার কাছে পৌঁছালে তুমি আমার প্রপোজাল এক্সেপট করবে। তাহলে তোমার উত্তরটা দাও এবার।

-গিফট যখন পেয়ে গেছি, তখন উত্তর আর জানার প্রয়োজন আছে?

-তার মানে তুমি রাজি?

-বুঝতে পারছেন না?

-উফ্, আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে।

-এখন নেচো না, আমি সামনে থাকলে নেচো।তাহলে তোমার নাচ দেখতে পাবো। তো আর কি কি পারো তুমি?

-একবার শুধু সামনে এসো, তারপর দেখাবো আমি কি পারি।

-সেদিন যে কবে আসবে।

-Side-effect of Virtual Love.


আরাফ আবার মেসেজ দিলো-

-তবে যাই বলো আমাদের love টা ভার্চুয়ালি হলেও কিন্ত বিয়েটা ভার্চুয়ালি হবে না।

-সত্যি সেটা হবে তো। না মানে, তার আগে যদি আমাদের breakup হয়ে যায়? আজকাল তো সত্যিকারের ভালোবাসাই টিকে থাকে না, সেখানে আমাদের সম্পর্ক তো..............

-সেটা তোমার উপর নির্ভর করবে। কারণ আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে যাবো না।

-তাহলে আমিও ছাড়ছি না।



সমাপ্ত

বি:দ্রঃ গল্পটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
194 Views
4 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: