আজকের গল্প টা সিফাত ভাইয়ার। তিনি বলেন যে আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে হুম টিউটর। পাশাপাশি লেখাপড়াও করতেছি। পরিবারের পুরো দ্বায়িত্বটা আমারই।
পরিবারে খরচ নিজের লেখাপড়ার খরচ দিয়ে কোনো মতে টানাহেঁচড়ার করে চলি। এই যুগে এসেও একটা বাটন ফোন চালাই। আমার একটা ছাত্রীর নাম চৈতী। ওর আম্মু অনেক বারই জিজ্ঞেস করেছে বাবা তুমি বাটন ফোন কেন চালাই। আমি স্বভাবতই হাসি মুখে উত্তর দিয়েছি। আন্টি স্মার্টফোন লাগে না।
চৈতীর বাবা কাতার প্রবাসী। চতুর্থ শ্রেণিতে থাকতে ওকে পড়ানো শুরু করেছিলাম। এখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে এখনো পড়াইতেছি। গতকাল চৈতীর বাবা দেশে আসছে। প্রতিদিনের মতো আজও ওকে বিকেলে পড়াতে যাই। আর ওর বাবা আমাকে দেখে বলে চৈতীর পড়া-শেষে হলে
যাবার সময় আমার সাথে দেখা করে যেও। মনে মনে ভাবলাম বেতন তো আগেই চৈতীর মা দিয়ে দিছেন তাহলে দেখা করার কথা কেন বললেন।
পড়া শেষ করে যখন ওনার রুমে গেলাম তখন-ই তিনি আলমারি খুলে আমার সামনে সেমসাং কোম্পানির একটা ফোন রেখে বললেন এটা গতকাল আসার সময় তোমার জন্য নিয়ে আসলাম। আজ থেকে এটা তোমার।
বিশ্বাস করুন এই কথা শুনবার পর আমার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে। একজন স্টুডেন্ট এর গার্ডিয়ানের এমন ভালোবাসা আমার জীবনে স্বরনীয় হয়ে থাকবে।
আবার এমনও অবিজ্ঞাতা আছে যে গার্ডিয়ানরা আমাকে চোখে চোখে রেখেছে যেন ওনাদের বাসা থেকে কোন কিছু চুরি করে না নিয়ে যাই।
আসলে সবার মন মানসিকতা এক নয়। আর এটাই তার জলন্ত প্রমান।
হোমটিউটরের উপহার
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
123
Views
8
Likes
0
Comments
5.0
Rating