অচেনা এক কন্ঠের সুর

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ঐ রাতে আরো বেশ কিছু গান গেয়েছি। থাকে না মানুষের কাছে একটা "মেড ফর ইচ আদার" টাইপ গাটস ফিলিং হয়,,?
আমার ও হচ্ছিলো।

এখন,এই বয়সে যদিও সেটা কৈশোরের পাগলামি বই কিছু মনে হয় না,, তখন এই কিঞ্চিত সময়ের মাঝে আমি ঐ কন্ঠস্বরের উপর একেবারে প্রেমে পড়ে মরো মরো দশা।

ঐদিন বেশিক্ষণ এসব চলে নি,, ডাইনিং এ আলো জ্বলতে দেখলাম আমার বন্ধ ঘরের দরজার নিচ থেকে।

চোরের মত দ্রুত বিছানায় এসে কাঁথা টেনে ঘুমের ভান ধরলাম। আব্বুর কাছে ধরা পড়া যাবে না।
ওদিক থেকে ও আর কোনো সাড়া পাওয়া যায় নি।

কি ভাবছেন,,?? এই ছেলেকে পরে খুঁজে বের করে প্রেম করে বিয়ে করেছি,,,??😁😁

আরে না ! এসব তো সিনেমায় হয় কিন্তু এটা বাস্তব।এসব চিন্তা সাইডে সরান,,😎😎

কারণ ঐ রাতের পরে আমার জীবনেও আর সেই ছেলেকে খুঁজে পাইনি।😥😥
আমি না জানি ছেলের বয়স, না চিনি চেহারা, না জানি নাম ঠিকানা, শুধু তার গান শুনেছি।

এই যে এতগুলো বছর পার করলাম, আমার কপালে আর এই ফাজিলকে খুঁজে পাওয়ার মতো সিনেমাটিক কাহিনী ঘটলো না।

এটা কে - ড্রামা হলে অবশ্যই একে খুঁজে পেতাম, প্রেম হতো,,
হয়নি কিচ্ছু না।😓😓

এই গল্প আমি পরেরদিন স্কুল খোলার পর প্রমিকে বলেছিলাম।প্রমি আমাকে টিটকিরি মেরে একদম উড়িয়ে দিলো ! ওর তাচ্ছিল্য দেখে আর আমি কখনো কাউকে বলিনি।

কে বিশ্বাস করবে এসব কথা,,?? তার উপর আমার মতো গান গাচ্ছে রাত বিরাতে,, আশেপাশের কেউ আমার কন্ঠ চিনে নি,, বাসায় অভিযোগ আসেনি।তাই কি হয়,,??

অথচ দুই টা রাতের গল্প একেবারে আমার মনের গহীনে চাপা পড়ে গেল।😔😔

থাকে না নিজের কিছু গল্প যেটা আর কাউকে বলা যায় না,, ? কিংবা বলতে ইচ্ছে করে না,,?

মনে হয় গল্পের পাতাগুলো মন সিন্দুকে তালা মেরে রাখি,, মাঝে মাঝে সেই গল্পের পৃষ্ঠায় হাত
বুলাতে ও শান্তি লাগে ।😊😊
হয় না এমন,,??
আমার এই গল্পটাও এমন।☺️☺️

আমি ধীরে ধীরে বড় হলাম। আমি যখন ইস্ট ওয়েস্টে ভর্তি হলাম,, তখন আপুর বিয়ে হয়ে গেছে।

সারা বাড়িতে আমার একার রাজত্ব।আর ভার্সিটিতে ও খুব দাপিয়ে বেড়াই।😁😁

সে সময় সুস্ময় ভাইয়ার সাথে পরিচয় হলো। দুর্দান্ত ভোকালিস্ট এবং গিটারিস্ট। পাকিস্তান জাল ব্যান্ডের ফ্যান আমি তখন সুস্ময় ভাইয়ার ব্যান্ডে জয়েন করলাম।

না রে ভাই,, না। সুস্ময় ভাইয়া সেই রহস্যময় ছেলেটা না।😓😓
ঐ ছেলের কন্ঠ আমার ঠিক মনে আছে। মানে গান গাইলে অবশ্যই চিনতে পারবো। কিন্তু সেটা সুস্ময় ভাইয় না। এমনকি সেটা আমার পুরো ভার্সিটির আর কেউ কিনা তাতেও সন্দেহ।

আমি মেয়ে হিসেবে মেয়ের কন্ঠ দিতাম। বেশিরভাগ সময় ব্যাকগ্ৰাউন্ডে হাল্কা সুরে গাইতাম।
ব্যান্ডের নাম ছিল ; " রঙ্গিলা"

আমি সাড়ে তিন বছর তাদের সাথে ছিলাম। অথচ •••••••••



চলবে,,,

158 Views
1 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: