মায়াবী চোখ গুলো

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রুমে এসে শুয়ে রিদির মায়াবী চোখের কথা ভাবতেছি । কিভাবে একটা মানুষের চোখ এতো সুন্দর হতে পারে । তখনি হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধির উদয় ঘঠলো । বুদ্ধি টা হলো,,,

আমার পুরোনো সিম তো আমার কাছেই আছে । তাই আমার ফোনে পুরোনো সিমটা তুলে রিদির নাম্বারটা ডায়াল করলাম ।

তারপর তাকে একটা মেসেজ পাঠালাম,,,,,,,,

""""আপনার মতো অপরুপাকে রাগলে যে এতো মিষ্টি লাগে তা নিজের চোখে না দেখলে বুঝতাম ই না ।""""

মেসেজটা সেন্ট করার পর ভয় ও লাগলো । যদি রাগ করে । তার পরে ভাবলাম আমার এই নাম্বার তো চিনেই না । আমি কতো বোকা । ধ্যাত ।

অনেক্ষন ফোন নিয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে ফোনে টাং শব্দ করে একটা মেসেজ এলো । মেসেজ টা রিদির ই ছিলো,,,,সে লিখছে,,,,

কে আপনি ?

আমিও লিখে দিলাম,,,,

""মুখোশের আড়ালে থেকে আপানাকে ভালোবেসে যাওয়া একটা মানুষ ।""

আবার অনেক্ষন পর আরেকটা মেসেজ আসলো । মেসেজে লেখা ছিল,,,

""মানে বুঝলাম না "" ।

কিন্তু মেসেজটা দেখার আর সৌভাগ্য আমার হলো না । কারন কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না ।

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করলাম । তারপর এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম ।

তার একটু পর আম্মু এসে আমাকে ডেকে গেল । কিন্তু উঠলাম না । ইতিমধ্যে আমাদের বাসায় বাড়িওয়ালার মেয়ে মানে রিদি আসছে ।

রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।

আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।

রিদিঃ আন্টি আপনাদের জন্য আম্মু এই পায়েশ টা পাঠিয়েছে ।

আম্মুঃ প্লিজ টেবিলের উপর রাখো । আমার হাতে অনেক কাজ রান্না করছি ।

রিদিঃ আন্টি কাউকে দেখছি না যে ?

আম্মুঃ তোমার আঙ্কেল অফিস গেছে আর রাজ ঘুমাচ্ছে ।

রিদিঃ কিহহ এতো বেলা করে কেউ ঘুমায় নাকি ।

আম্মুঃ আমার ছেলেটা এতো অলস । কি আর বলবো মা । আমি কত ডাকলাম উঠলো না ।

রিদিঃ আন্টি আমি গিয়ে ডাক দিবো ?

আম্মুঃ তাহলে তো অনেক ভালো হয় মা ।

রিদিঃ ঠিক আছে আন্টি ।

বলেই রিদি আমার রুমে চলে আসলো । এসেই আমাকে বললো,,,,,,

রিদিঃ এই রাজ উঠো ।

আমিঃ আম্মু আর একটু ঘুমাই না প্লিজ ।

রিদিঃ আমি তোমার আম্মু নই । আর কয়টা বাজে দেখছো ।

বলেই আমার ফোনের লক বাটনে ক্লিক করলো । আর সাথে রাতে রিদির পাঠানো মেসেজ টা দেখতে পেলো ।

তখনই রিদি বুঝে গেল রাতে মেসেজ গুলো আমি পাঠাইছি । তখন ই আমার ঘুম ভেঙে গেল । আর চোখ খুলেই আমি আবার মায়াবী চোখ গুলো দেখতে পেলাম ।

উফফ এই চোখ গুলো আমাকে ঘায়েল করেই ছাড়বে । তারপর আমি বললাম,,,,,,

আমিঃ আপনি আমার রুমে কি করেন ।

রিদিঃ তোমাকে ডাকতে আসছিলাম । তোমার আম্মু পাঠাইছে ।

আমিঃ ঠিক আছে আপনি যান ।

রিদিঃ ওকে ।

বলেই রিদি আমার রুমে চলে গেল । তারপর ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । আজকেও ভার্সিটি আসতে দেরি হয়ে গেলো ।

তাই ক্লাসরুমের সামনে এসে দেখি ম্যাডাম ক্লাস নিচ্ছে । আমি ম্যাডামকে বললাম,,,,

আমিঃ ম্যাডাম আসতে পারি ?

ম্যাডাম আমার দিকে চোখ তুলে তাকালো । এরপর বলল,,,,,,,

মেডামঃ প্রতিদিনই তোমার লেট হয় কেন ?

আমিঃ আসলে ম্যাডাম রাস্তায় জ্যাম ছিল । এজন্য লেট হয়েছে ।

মেডামঃ সব স্টুডেন্ট তো ঠিক সময়ে আসছে । ওদের তো জ্যামে পড়তে হলো না । জ্যামে মনে হয় খালি তুমি পড়ো।

সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠি এ কথা বললে ইজ্জত থাকবে না । মেডাম আবার বললো,,,,,,

মেডামঃ এই ছেলে বির বির করে কি বলছো ?

আমিঃ কিছু না ম্যাডাম ।

মেডামঃ ভেতরে আসো । আর চুপচাপ ফাঁকা ছিটে বসে পড়ো ।

আমি আর কোনো কথা না বলে মেহেদীর পাশে বসলাম । তারপর মেহেদী বললো,,,,,

মেহেদীঃ দোস্ত আমাদের ম্যাডাম কিন্তু সেই দেখতে ।

আমিঃ আরে ব*ল*দ ম্যাডাম কম করে হলেও তোর পাঁচ-ছয় বছরের বড় । ম্যাডাম কে দেখে তোর লাভ নাই । এরচেয়ে ক্লাসের কোনো মেয়ের উপর লাইন মা*র । এতে মেয়েটা পটতেও পারে।

মেহেদীঃ যাহহ বাবা তোকে কি বললাম আর তুই কি বললি ।

আমিঃ চুপ কর ।

তারপর আমরা দুইজন মিলে সব ক্লাস করলাম ।
তারপর অনেক্ষন আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম । বিকেলে ছাদে গিয়ে বসে থাকি যে রিদি ছাদে আসে কি না ।

কিন্তু আজকে সে এলো না । মন খারাপ করে রুমে চলে আসলাম । রাতে খাওয়া দাওয়া শুয়ে আছি ।

ফেসবুকে রিদি নামে সার্চ দিয়ে অনেক আইডিতে নক দিয়ে রাখলাম । কিন্তু তেমন কোনো উপকার পেলাম না ।

তাই মন খারাপ করে ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম । পরের দিন সকালে উঠে নামাজ পড়লাম । আজ শুক্রবার তাই আর ভার্সিটি যেতে হলো না । রুম থেকে বের হয়ে ব্রাশ নিয়ে ছাদে চলে আসলাম,,,,,

এসে আমি তো অবাক হয়ে গেলাম । কারন,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
230 Views
10 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: