রুমে এসে শুয়ে রিদির মায়াবী চোখের কথা ভাবতেছি । কিভাবে একটা মানুষের চোখ এতো সুন্দর হতে পারে । তখনি হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধির উদয় ঘঠলো । বুদ্ধি টা হলো,,,
আমার পুরোনো সিম তো আমার কাছেই আছে । তাই আমার ফোনে পুরোনো সিমটা তুলে রিদির নাম্বারটা ডায়াল করলাম ।
তারপর তাকে একটা মেসেজ পাঠালাম,,,,,,,,
""""আপনার মতো অপরুপাকে রাগলে যে এতো মিষ্টি লাগে তা নিজের চোখে না দেখলে বুঝতাম ই না ।""""
মেসেজটা সেন্ট করার পর ভয় ও লাগলো । যদি রাগ করে । তার পরে ভাবলাম আমার এই নাম্বার তো চিনেই না । আমি কতো বোকা । ধ্যাত ।
অনেক্ষন ফোন নিয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে ফোনে টাং শব্দ করে একটা মেসেজ এলো । মেসেজ টা রিদির ই ছিলো,,,,সে লিখছে,,,,
কে আপনি ?
আমিও লিখে দিলাম,,,,
""মুখোশের আড়ালে থেকে আপানাকে ভালোবেসে যাওয়া একটা মানুষ ।""
আবার অনেক্ষন পর আরেকটা মেসেজ আসলো । মেসেজে লেখা ছিল,,,
""মানে বুঝলাম না "" ।
কিন্তু মেসেজটা দেখার আর সৌভাগ্য আমার হলো না । কারন কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম জানি না ।
খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করলাম । তারপর এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম ।
তার একটু পর আম্মু এসে আমাকে ডেকে গেল । কিন্তু উঠলাম না । ইতিমধ্যে আমাদের বাসায় বাড়িওয়ালার মেয়ে মানে রিদি আসছে ।
রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।
আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।
রিদিঃ আন্টি আপনাদের জন্য আম্মু এই পায়েশ টা পাঠিয়েছে ।
আম্মুঃ প্লিজ টেবিলের উপর রাখো । আমার হাতে অনেক কাজ রান্না করছি ।
রিদিঃ আন্টি কাউকে দেখছি না যে ?
আম্মুঃ তোমার আঙ্কেল অফিস গেছে আর রাজ ঘুমাচ্ছে ।
রিদিঃ কিহহ এতো বেলা করে কেউ ঘুমায় নাকি ।
আম্মুঃ আমার ছেলেটা এতো অলস । কি আর বলবো মা । আমি কত ডাকলাম উঠলো না ।
রিদিঃ আন্টি আমি গিয়ে ডাক দিবো ?
আম্মুঃ তাহলে তো অনেক ভালো হয় মা ।
রিদিঃ ঠিক আছে আন্টি ।
বলেই রিদি আমার রুমে চলে আসলো । এসেই আমাকে বললো,,,,,,
রিদিঃ এই রাজ উঠো ।
আমিঃ আম্মু আর একটু ঘুমাই না প্লিজ ।
রিদিঃ আমি তোমার আম্মু নই । আর কয়টা বাজে দেখছো ।
বলেই আমার ফোনের লক বাটনে ক্লিক করলো । আর সাথে রাতে রিদির পাঠানো মেসেজ টা দেখতে পেলো ।
তখনই রিদি বুঝে গেল রাতে মেসেজ গুলো আমি পাঠাইছি । তখন ই আমার ঘুম ভেঙে গেল । আর চোখ খুলেই আমি আবার মায়াবী চোখ গুলো দেখতে পেলাম ।
উফফ এই চোখ গুলো আমাকে ঘায়েল করেই ছাড়বে । তারপর আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ আপনি আমার রুমে কি করেন ।
রিদিঃ তোমাকে ডাকতে আসছিলাম । তোমার আম্মু পাঠাইছে ।
আমিঃ ঠিক আছে আপনি যান ।
রিদিঃ ওকে ।
বলেই রিদি আমার রুমে চলে গেল । তারপর ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । আজকেও ভার্সিটি আসতে দেরি হয়ে গেলো ।
তাই ক্লাসরুমের সামনে এসে দেখি ম্যাডাম ক্লাস নিচ্ছে । আমি ম্যাডামকে বললাম,,,,
আমিঃ ম্যাডাম আসতে পারি ?
ম্যাডাম আমার দিকে চোখ তুলে তাকালো । এরপর বলল,,,,,,,
মেডামঃ প্রতিদিনই তোমার লেট হয় কেন ?
আমিঃ আসলে ম্যাডাম রাস্তায় জ্যাম ছিল । এজন্য লেট হয়েছে ।
মেডামঃ সব স্টুডেন্ট তো ঠিক সময়ে আসছে । ওদের তো জ্যামে পড়তে হলো না । জ্যামে মনে হয় খালি তুমি পড়ো।
সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠি এ কথা বললে ইজ্জত থাকবে না । মেডাম আবার বললো,,,,,,
মেডামঃ এই ছেলে বির বির করে কি বলছো ?
আমিঃ কিছু না ম্যাডাম ।
মেডামঃ ভেতরে আসো । আর চুপচাপ ফাঁকা ছিটে বসে পড়ো ।
আমি আর কোনো কথা না বলে মেহেদীর পাশে বসলাম । তারপর মেহেদী বললো,,,,,
মেহেদীঃ দোস্ত আমাদের ম্যাডাম কিন্তু সেই দেখতে ।
আমিঃ আরে ব*ল*দ ম্যাডাম কম করে হলেও তোর পাঁচ-ছয় বছরের বড় । ম্যাডাম কে দেখে তোর লাভ নাই । এরচেয়ে ক্লাসের কোনো মেয়ের উপর লাইন মা*র । এতে মেয়েটা পটতেও পারে।
মেহেদীঃ যাহহ বাবা তোকে কি বললাম আর তুই কি বললি ।
আমিঃ চুপ কর ।
তারপর আমরা দুইজন মিলে সব ক্লাস করলাম ।
তারপর অনেক্ষন আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম । বিকেলে ছাদে গিয়ে বসে থাকি যে রিদি ছাদে আসে কি না ।
কিন্তু আজকে সে এলো না । মন খারাপ করে রুমে চলে আসলাম । রাতে খাওয়া দাওয়া শুয়ে আছি ।
ফেসবুকে রিদি নামে সার্চ দিয়ে অনেক আইডিতে নক দিয়ে রাখলাম । কিন্তু তেমন কোনো উপকার পেলাম না ।
তাই মন খারাপ করে ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়লাম । পরের দিন সকালে উঠে নামাজ পড়লাম । আজ শুক্রবার তাই আর ভার্সিটি যেতে হলো না । রুম থেকে বের হয়ে ব্রাশ নিয়ে ছাদে চলে আসলাম,,,,,
এসে আমি তো অবাক হয়ে গেলাম । কারন,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
মায়াবী চোখ গুলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
230
Views
10
Likes
1
Comments
5.0
Rating