তামিমা : আমাদের মা লাগে মানে তুমি এগুলো কি বলছ বাবা ,,,, তুমি আমাদের সাথে মজা করছ একবার বল ?
মোল্লা সাব : আমি তোদের সাথে কোন মজা করছি না আমাদেরকে একটু আরাম করতে দে,,, খেতে দে,,, আমি বিয়ে করছি সত্যি সত্যি । তোদেরকে বললে তোরা এমনই করতি । এর জন্য আর আগে তোদেরকে কিছু জানাইনি ।
ইসরাক : বাবা তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো ,, বাবা আমাদের মানসম্মানের একটা ব্যাপার আছে ,, এগুলো লোকে জানলে কি বলবে । তাড়াতাড়ি তুমি এই মহিলাকে বাড়ি থেকে বের করে দাও ।
মোল্লা সাব: কথা সাবধানে বলবি একবার বললামই তো এটা তোদের নতুন মা লাগে ,,, এতবার কেন এক কথা বলতে হয় তোদেরকে । এখন আমার চশমায় এগিয়ে দেওয়া,, পানি এগিয়ে দেওয়া,,, এগুলো এখন তোদের কে আর করতে হবে না ।
জমেলা : আজকে এত সকালে আপনাদের দরজা কেন খোলা । জমেলা মোল্লা সাবের দিকে তাকিয়ে ,,, মুখ আঁচল দিয়ে লুকিয়ে হাসতে শুরু করল ,, চাচা এই মহিলা আবার কেডা ,,, এরে তো আগে কোনদিন কোন জায়গায় দেহি নাই ,,, চাচা আন্নে কি বিয়া করে ফেলছেন । এগুলো কথা বলে জমেলা তার কাপড়ের আঁচল দিয়ে মুখটি ঢেকে হাসতে লাগলো ।
মোল্লা সাব: জমেলা চুপ করবি কি ,, নাকি কাজ থেকে বের করে দিব ।
জমেলা : সাহেব মাফ করবেন আমার ভুল হয়ে গেছে,, কাম থেকে বের কইরেন না । আপনাদের এত বড় বাড়িতে কাম করতে আমার ভালই লাগে গরমের সময় এসি,,, মজাই আলাদা,, সাথে আবার বিনোদনও আছে । এই বলে জমেলা একটু মুচকি হাসলো ।
তামিমা : জমেলা চুপ করবে কী ? জমেলা বুবু আজকে তুমি চলে যাও বাড়িতে আজকে আমরা একাই সব কাজ করে নিব ,,, তোমাকে আজকে ছুটি দিলাম । কাল থেকে এসো ।
জমেলা : না বুবু আমি আজকে অনেক ভালো কইরা কাম করমু ,,তোমাগো বাড়ির সব কাম করে দিয়া যামু ,,তোমাগো সব পোশাকও ধুইয়া দিয়া জামু ,,,আজকে আমি কাম করি বুবু ?
তামিমা : আমি তোমাকে চলে যেতে বললাম তো ,,এখন যদি এখান থেকে না যাও জমেলা বুবু তাহলে আর কোনদিন আমাদের বাড়িতে কাজ করতে আসবে না । এই কথা যেন তোমার মনে থাকে ।
জমেলা : আচ্ছা বুবু আমি যাইতাছি গা । এই বলে জমেলা চলে গেল ।
ইসরাক : তামিমা আপু এটা তুমি কি করলে তাড়াতাড়ি জমেলাকে ডাক দিয়ে এখানে আনো ,,, না হয় সর্বনাশ হয়ে যাবে ।
তামিমা : কিসের সর্বনাশ কিসের জন্য ডাক দিব আগে তো সেটা বল ।
ইসরাক : তোমাকে জমেলাকে ডাক দিতে হবে না আগে আমি ডাক দিয়ে নিয়ে আসি । এই বলে ইশরাক দরজার বাহিরে জমেলাকে ডাক দিতে যাচ্ছে ,,, কিন্তু দরজার বাহিরে যেয়ে দেখলো ,,, জমেলা গাড়িতে চড়ে চলে গিয়েছে অনেক দূরে,,,, পিছন থেকে ডাক দিয়েও জমেলাকে থামানো গেল না আর । না পেরে ইসরাক আবার ঘরে চলে গেল ,, ঘরে যেয়ে বলল অনেক ভালো হয়েছে এখন ,,, তোমরা কথা বলতে লাগলে আর সহজে থামো না ,,যখন বললাম তখনই কথা না বাড়িয়ে যদি জমেলাকে ডাক দিয়ে আনতে তাহলে এখন এত টেনশন করতে হত না আমার ।
তামিমা : কি হয়েছে সেটা তো আগে বলবি বকবক করতে লাগলি । কিসের আবার টেনশন?
ইসরাক : তোমরা জানো না জমেলা ডোলের মতো,,, ডোলের মধ্যে বারি দিলে যেমন অনেক দূর পর্যন্ত শব্দ চলে যায় ,,, তেমনি জমেলা একটা কথা শুনা মানে সারা শহর শুনা একই কথা । আমার মান সম্মান সব শেষ । আমার কিছু ভালো লাগছেনা ,,এই বলে ইসরাক সোফায় বসে পড়লো।
তামিমা : বাবা এটা তুমি কেন করলে তোমার তো এখন অনেক বয়স হয়েছে ,,, মা মারা গিয়েছে তাও ১০ বছর এই ১০ বছর পর তুমি এই কাজটা করতে পারলে । তুমি জানো না তোমার এবং আমাদের নাম ডাক এই ঢাকা শহরে প্রায় সব জায়গায় । তোমার ঢাকা দুইটা কোম্পানি আছে ,,, কত তোমার নাম ডাক এই শহরে । আমাদেরকে কম বেশি সবাই চিনে ,,, বাহিরে বের হলে সবাই কি বা বলবে আমাদের,, আমার ভাবতেই অনেক খারাপ লাগছে ,,,।
মোল্লা সাব : আচ্ছা তোদের এত লজ্জা হঠাৎ কোথা থেকে আসলো ,,, ভাই বোন যখন তোরা ঝগড়ার তালেই থাকিস সারা দিন রাত,,, কই তখন তো তোদের কোন লজ্জা বোধ থাকে না । আমি বিয়ে করছি ,,, বিয়ে করা কি পাপ ,, নাকি এটা হারাম সম্পর্ক,, তাহলে তোরা এমন করছিস কেন । আমি কি তোদের টাকা পয়সা খাওয়াবো ,,,। মানুষের কথায় আমার কিছু আসে যায় না ।
আশিক : কাল থেকে আমি আর কলেজেই যাব না ,, সবাই বলবে তোর বাবা নাকি বিয়ে করেছে নতুন মা দেখাবি না ,, ধূর আমার জীবন শেষ । এই বলে আশিক তার রুমে যেয়ে দরজাটা অনেক জুরে ধাক্কা দিয়ে শব্দ করে বন্ধ করে ফেলল ।
তন্নি : একই অবস্থা তারও ।
মোল্লা সাব : চলো তো মৌ আমরা ঘরে যাই ,,, এই বলে মোল্লা সাব তার ঘরে চলে গেল নতুন বউকে নিয়ে ।
আর ঐদিকে বাহিরে সবাই চিল্লাচিল্লি করতে লাগছে ,,, মোল্লা সাব ঘরের ভেতরেই চলে গেল ,,,,
আর হ্যাঁ বলে রাখি ,, এই মহিলাটির নামই মৌ ,,, আমরা তাকে মৌ বলেই ডাকবো ,,,
মৌ : আপনি কেন আমাকে বিয়ে করে নিয়ে আসতে গেলেন বলেন?,, আপনার পরিবারে কত বড় অশান্তি শুরু হয়ে গেল আমার জন্য ,,, রাহাত তুমি এটা কি করলে ,, আমি বারবার না করছি তোমাকে ,,, আমি একা থাকতে পারবো বলছিলাম তো ,,, বিয়ে করে আপনার কাছে কেন আমাকে নিয়ে আসলেন ,,,?
( "মোল্লা সাব এর আসল নাম হচ্ছে রাহাত ,,, রাহাত সাহেবের বাড়িকে সবাই অনেক আগে থেকে মোল্লাবাড়ি বলে ,,, এর জন্য আমরাও রাহাত সাহেবকে মোল্লা সাব বলে ডাকবো ")
মোল্লা সাব : আমার সন্তানেরাও অনেক ভালো ,,, কিন্তু সব সময় ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকে এদের মধ্যে,, । তুমি চিন্তা করিও না মৌ দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে । ওদের কথায় তুমি অনেক কষ্ট পেয়েছো মৌ তাইনা ,,,
মৌ : আরে না এদের কথায় কি কষ্ট পাবো এরা তো আমার সন্তানের মত ,,,।
এখন কি সবার মনে এমন প্রশ্ন আছে ,,, এদের কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে এরা অনেক দিনের পরিচিত ।
চলবে,,,
ফারিহা নিখোঁজ ( পর্ব 3 )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
166
Views
1
Likes
0
Comments
4.0
Rating