মাহিম আর অন্তরা রিক্সা এক্সিডেন্ট হয়ে রাস্তার মাঝে পড়ে আছে ,,,
আর মাহিম চৌধুরীকে তো সবাই চিনে আর এত বড় কোম্পানির মালিক বলে কথা ,,,
মাহিম রাস্তার ডান সাইটে পড়েছে,,, এরজন্য মাহিম অনেক বেশি আঘাত পেয়েছে ,, মাহিমের একপা ভেঙ্গে গিয়েছে আর অন্তরা রাস্তার বাম সাইটে পড়েছে ঘাসের উপর এরজন্য অতো বেশি ব্যাথা পাইনি ।
অন্তরা কান্না করা শুরু করতে লাগছে ,, কিন্তু নিজের জন্য না তার প্রিয় মানুষের জন্য । হেল্প হেল্প বলে সাহায্য চাচ্ছে মানুষের কাছে কিন্তু কিছু কিছু মানুষতো এই এক্সিডেন্ট এর কারনে ভীষণ খুশি,, বলতে গেলে তাদের লাভ হয়েছে বটে ,,,
এক ইউটোভার আর সময় নষ্ট না করে সাথে সাথে লাইভে চলে গেল ,,,,
সত্যের সন্ধান পেইজ থেকে আমি জামাল আপনাদের জন্য নতুন সত্য একটি ধামাকা খবর নিয়ে এসেছি ,, আপনারা সবাই পাশে থাকবেন,, এখানে একটি এক্সিডেন্ট হয়ে গিয়েছে তাও এটা বাংলাদেশের বড় একটি কম্পানির মালিকের,,, আপনারা দেখলেই চিনতে পারবেন ,,,এই বলে ওই ইউটিউবার মাহিম আর অন্তরার দিকে ক্যামেরাটি ধরে রাখলো ,,,
আর ঐদিকে অন্তরা অনেক আকুতি মিনতি করে সাহায্য চাচ্ছে,,, মাহিমকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ,, কিন্তু যেই আসে সেই ভাইরাল হওয়ার জন্য আগে ভিডিও করছে,,,,ঐ জামাল ইউটোভার আরো বলতে লাগলো ,,,,
মাহিম চৌধুরীকে সবাই চিনেন ,, মাহিম চৌধুরী এতো বড় কোম্পানির মালিক সে রাস্তার সামান্য রিকশা দিয়ে তার বউকে নিয়ে যাচ্ছিলো ,,, কিন্তু রাস্তার মাঝে তাদের এক্সিডেন্ট হয়ে যায় ,,
কিন্তু তাদের পড়োনে অনেক সুন্দর সুন্দর নতুন নতুন পোষাক দেখে মনে হচ্ছে তাদের আজকে অনেক ভালো একটি বিশেষ দিন ছিল ,,,,
আর দেখেন এতো বয়স হওয়ার পরেও ওদের মধ্যে কেমন ভালোবাসা যেন ২০ বছরের যুবক-যুবতীর ভালোবাসা কেউ হার মানিয়ে দিবে এই দাদা দাদিরা ।
আমাদের মাহিম চৌধুরী আর অন্তরা চৌধুরীর কাছ থেকে ভালোবাসা শিখতে হবে ।
আর দেখেন অন্তরা চৌধুরী তার স্বামীকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাই চেষ্টা করছে ,, হায়রে ভালোবাসা ,, একটি ভাই আমার লাইভে কমেন্ট করছে ,,,ঐ লোকটি মাহিম চৌধুরীর পরিচিত এক লোক আপনাদের কাছে শেয়ার করবো ঐ ভাইয়ের কমেন্ট ,,,
কমেন্ট : আমি হলাম মাহিম চৌধুরীর পরিচিত এক লোক,,, ওনাদের এই বুড়ো বয়সের ভালোবাসার কোন তুলনা হয় না ,,, কিন্তু ওনার দুই পুএ বধু তাদের শশুর শাশুড়ির এই ভালোবাসা সহ্য করতে পারে না ।
ইউটোভার : এই কমেন্ট পড়ে ভীষণ কষ্ট লাগলো ,, মাহিম চৌধুরীর পুত্র বন্ধুদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই এই লাইভে ,,কেন ভাবি ? আপনারা কেন আপনাদের শশুর শাশুড়ির এতো ভালোবাসা সহ্য করতে পারেন না ,,, এই বিষয়টা আমাদের সারাদেশের মানুষ পছন্দ করছে না ,,, আমরা সকলেই চাই এই সুন্দর ভালোবাসা যেন তাদের মধ্যে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে ।
রাহাত ভাই আর ফাহাদ ভাই আপনারা আপনাদের বউকে বুঝিয়ে দিয়েন ।
আরেকটি কমেন্ট আপনাদের মাঝে পড়তে চাই ,,, এই কমেন্টটি বারবার এসেছে এখন যদি রিপ্লে না দেই তাহলে আমাকে ভুল বুঝতে পারেন ,,,
আরেকটি কমেন্ট : ভাই আপনারা ভিডিও না করে উনাদেরকে সাহায্য করেন ,, আপনাদের মতো সাংবাদিকরা শুধু ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু সাহায্য করার চেষ্টা করে না ।
ইউটোভার : ভাই আপনাকে বলছি , আমাদের মত সাংবাদিক আছে বলে আপনারা এত নিত্য নতুন খবর সাথে সাথে পেয়ে যান ,,, আর ইতিমধ্যে উনাদেরকে হসপিটালে নেওয়া হয়েছে ,, দুটি লোক তাদেরকে তাদের গাড়ি দিয়ে হসপিটালে নিয়ে গিয়েছে ,,,
আমি এখন এখানে বিদায় নিতে চাই ,, আমাকে ফলো করে রাখেন যাতে করে নিত্য নতুন তাজা সতেজ খবর সাথে সাথে পেয়ে যান ।
এভাবে ঐ ইউটিউবার লাইভ থেকে বের হয়ে গেল ,,, এই খবরটি সাথে সাথে ভাইরাল হয়ে গেল ,,,
আর ঐদিকে রাহাতদের বাসার কেও জানে না তার বাবা-মায়ের এক্সিডেন্ট হয়েছে এটা ,, আর আজকে মাহিম আর অন্তরা কেউ তাদের সাথে করে মোবাইল নিয়ে যায়নি ।
মাহিমের মেয়ে রাইও এসেছে তার স্বামীকে নিয়ে। তারা অনেক চিন্তিত তাদের মা বাবা এখনো বাড়ি ফেরেনি এটা নিয়ে ,,,
আজকে তারা সবাই তাড়াতাড়ি অফিস থেকে এসে পড়েছে কারণ আজকে তাদের সম্পত্তি তাদের ভাই বোনের মধ্যে ভাগাভাগি হওয়ার কথা ,,, এই কারণে তারা সব কাজ তাড়াতাড়ি করে বাসায় এসে পড়েছে ।
রাকিব : বাবা, দাদা দাদু এখনো আসে নাই কেন ? তুমি দাদাকে ফোন দাও ,, আর তাড়াতাড়ি আসতে বল আজকে অনেক ভালো ভালো রান্না হয়েছে দাদা দাদু আসলে আমরা একসাথে বসে খাবার খাব ,, আমার অনেক খিদে পেয়েছে।
আর ঐদিকে পায়েল আর রেশমি তাদের মনে যেন শশুর শাশুড়ির জন্য কোন টেনশন নেই ,, তারা অনেক খুশিতে আছে কারণ আজকে তাদের শ্বশুর এই সয় সম্পত্তি সবকিছু তাদের মধ্যে ভাগবানি করে দিবে । এই নিয়ে তাদের আনন্দ যেন শেষ হচ্ছে না ,,,
রাহাত : ফাহাদ আমার কিন্তু অনেক টেনশন হচ্ছে মা বাবার জন্য ,, ওনাদের তো আবার কোন বিপদ হলো না ।
সন্ধ্যা হয়ে গেল এখনো কেন বাড়ি ফিরছে না ,,,
ফাহাদ : ভাই আমারো অনেক টেনশন হচ্ছে ,,,
রাই : ভাই তোরা কথা না বলে যা মা বাবাকে খোঁজে নিয়ে আস ,,,তাদেরতো কোন সমস্যা হতেও পারে ।
ফাহাদ আর রাহাত বের হবেই তখন তাদের মোবাইলে ফোন আসতে শুরু হলো ,,,,
রাহাতের বন্ধু : হ্যালো রাহাত, মাহিম আঙ্কেল আর আন্টি কেমন আছে ,,,
রাহাত : ভালোই আছে হঠাৎ করে আমার মা বাবার খোঁজ নিচ্ছিস ?
রাহাতের বন্ধু : এগুলো কি বলিস ,,, শুধু আমি না সারা বাংলাদেশ এখন থেকে তোর মা বাবার খোঁজ নিবে ,, আঙ্কেল আন্টি তো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে । আরে বেটা মোবাইল বের কর , আর সত্যের সন্ধান এই পেইজে ঢুকে দেখ ।
রাহাত তখনই তার বন্ধুর ফোন কেটে দিল ,,,আর সবাই মিলে ঐ ভিডিও দেখতে শুরু করে দিল ,,,,
ভিডিও দেখার শেষে রাগে রাহাত তার মোবাইলটি ছুড়ে ভেঙ্গে ফেলে দিল ,,,
যে সন্তানেররা এতোক্ষণ তাদের মা বাবার জন্য টেনশন করলো সেই সন্তানেরা এখন রাগে একদম আগুন হয়ে আছে ।
কিন্তু পায়েল আর রেশমি, তারা শুনে ভীষণ খুশিই হচ্ছে ,,, এতদিনে তার সন্তানেরা মা বাবার উপর রাগ করলো ।
তারা সবাই মিলে হসপিটালের দিকে রওনা হলো ,,,
আর ঐদিকে এতোক্ষণে মাহিমের পা ব্যান্ডেজ করা হয়ে গিয়েছে ,,,অন্তরা তার প্রিয় মানুষের পাশে বসে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর মাহিমের জন্য অন্তরা কান্না করেই যাচ্ছে সেই কান্না যেন কোনভাবে শেষ হচ্ছে না ।
মাহিম : আরে বুড়ি এভাবে কান্না করছো কেন ? তোমায় দেখে সবাই বলবে তোমার স্বামী যেন মারা গিয়েছে , সামান্য আমার পা ভেঙে গিয়েছে,, আরে পাগলী এখনো আমি মারা যাইনি ,,, তোমাকে ভালোবাসার জন্য বেঁচে আছি ,,, আল্লাহ পাক আমাকে ভালো রেখেছে ।
অন্তরা : আমার জন্য তোমার এমন হয়েছে ,,, কেন আমার খুশি তোমার এতো দেখতে হবে হুম ,,,
এখন যে আমার এতো কষ্ট দেখছো এখন তোমার ভালো লাগছে ,,?
মাহিম : হ্যাঁ ভালো লাগছে ,,, আমাকে ভালোবেসে তুমি কান্না করছো এটা ভেবেই ভালো লাগছে ,,
আজকে এই পর্যন্তই থাক ❤️ ❤️
চলবে,,,,,
তুমি আছো তাই ( পর্ব 11 )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
151
Views
5
Likes
1
Comments
5.0
Rating