সকালে খুব মিষ্টি একটা কন্ঠে আমার ঘুম ভাঙলো । আগে তো এরকম কন্ঠ এই বাড়িতে শুনি নি । কে সেই মিষ্টভাসি মানুষ । তাকে একবার দেখতেই হবে ।
তাই চোখ ডলতে ডলতে আমি নিচে গেলাম । আর নিচে আমি পুরো হা হয়ে গেছি ।
কারন সেই মিষ্টভাসি মানুষটা হলো মায়াবী চোখ গুলো দেখে ক্রাশ খাওয়া মেয়েটি । মানে রিদি । সকালে উঠেই এমন সারপ্রাইজ হবো ভাবতেই পারি নি ।
কিন্তু আজ শুধু তার মায়াবী চোখ গুলো দেখতে পাই নি । সাথে তার পুরো মায়াবী মুখটাও দেখতে পাইছি । পড়নে তার নীল শাড়ি,,নীল চুড়ি,,,নীল টিপ সবকিছু ম্যাচিং করে পড়ে এসেছে । দেখতে একদম নীল পরীর মতো লাগছে ।
আমি অনেক খুশি হলাম । তাকে দেখে আমার মুখে হাসি ফুটছে । আম্মু আমাকে অনেক দিন পর এরকম হাসতে দেখে সেও অনেক খুশি হইছে । আম্মু হয়তো ব্যাপার টা বুঝতে পারছে আমি ওর প্রতি আসক্ত আছি ।
তারপর রিদি আমার আম্মুর সাথে কথা বলতে লাগলো,,,,
রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।
আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম । কেমন আছো মা ?
রিদিঃ আলহামদুলিল্লাহ আন্টি ভালো আছি । আপনারা কেমন আছেন ?
আম্মুঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । তা তোমার নাম কি মা ?
রিদিঃ আমার নাম রিদি । এই বাসাটা আমাদের ই । শুনলাম আপনারা নতুন আসছেন,,,তাই একটু দেখা করতে এলাম আন্টি ।
আমি মনে মনে বললাম,,,,,
আমিঃ ওহহ তার মানে রিদি এই বাড়িতেই থাকে । মানে বাড়িওয়ালার মেয়ে । (মনে মনে)
আমার মনে তো লাড্ডু ফুটছে । আমার ক্রাশ এই বাসাতেই থাকে আর আমি জানি না । যাইহোক তারপর আম্মু বললো,,,,,,,,,
আম্মুঃ খুব ভালো করেছো মা । তুমি মাঝে মাঝে আমার সাথে দেখা করতে আসবে । ওর আব্বু তো চাকরি নিয়ে ব্যস্ত । আর আমার ছেলে তো কলেজে যায় । আমিই একা থাকি। তাই যদি আসতে খুব ভালো লাগতো মা ।
রিদিঃ সমস্যা নেই আন্টি সময় পেলে আমি অবশ্যই আসবো ।
তারপর আম্মু আমাকে দেখিয়ে বললো,,,,,,
আম্মুঃ মা এ হলো আমার ছেলে রাজ ।
রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম ।
কি ব্যাপার রিদি আমাকে দেখে না দেখার ভান করলো কেন ?? তারপর আম্মুর ডাকে ধ্যান ভাঙলো,,,,
আম্মুঃ কি রে শুনতে পেলি না । তোকে সালাম দিলো ।
আমিঃ ওহহ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।
আম্মুঃ কোথায় পড়াশোনা করো মা ।
রিদিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
আম্মুঃ আমার ছেলেকেও ওখানে ভর্তি করে দিয়েছি ।
রিদিঃ ওহহ আচ্ছা । কোন ইয়ার,,?
আমিঃ সেকেন্ড ইয়ার । আপনি ??
রিদিঃ চতুর্থ বর্ষ ।
আমিঃ ওহহ আচ্ছা ।
রিদিঃ আচ্ছা আন্টি এখন তাহলে আমি আসি । আবার পরে আসবো ।
আম্মুঃ ঠিক আছে মা এসো ।
আমার মনে তো লাড্ডু ফুটতে লাগলো । এ তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি ।
আম্মু আমাকে এসে বললো,,,,
আম্মুঃ তোর মেয়েটাকে পছন্দ হইছে তাই না ।
আম্মুর কথা শুনে আমি তো অবাক । আম্মু কেমনে জানলো । তারপর আমি বললাম,,,,,
আমিঃ না মানে ইয়ে ,,
আম্মুঃ থাক আর না মানে করতে হবে না । আমারো মেয়েটাকে অনেক পছন্দ হইছে ।
আমি লজ্জা পেয়ে আমার রুমে চলে আসলাম । এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম । তারপর আবার কলেজে চলে গেলাম ।
এসেই সোজা ক্লাস রুমে ঢুকে পড়লাম । তিনটা ক্লাস করলাম ।
ক্লাস শেষ করে আমি আম তলায় এসে বসে আছি । তখন দেখি রিদিও ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে যাচ্ছে ।
হঠাৎ একটা সিনিয়র ছেলে এসে রিদিকে হাটু গেড়ে প্রোপোজই করে বসলো ।
ছেলেটিঃ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি রিদি । প্লিজ একসেপ্ট মাই লাভ ।
নিমিশেই আমার মন খারাপ হয়ে গেল । আমার ক্রাশ কে প্রোপোজ করেছে । খারাপ লাগার ই কথা ।
তারপর দেখি রিদি ওই ছেলেটার কাছ থেকে ফুলের তোরা নিলো । নেওয়ার পর ফুলটা একটু নেড়ে চেড়ে দেখে সোজা ছেলেটার মুখে মে*রে দিলো ।
তারপর সে সেখান থেকে চলে গেল । কলেজের সবাই হা করে তাকিয়ে আছে । আমিও তাকিয়ে আছি ।
তবে আমি অনেক খুশিই হয়েছি ।
হঠাৎ একটা ছেলে এসে আমাকে বললো,,,,,
ছেলেটিঃ হাই আমি মেহেদী ।
আমিঃ হাই আমি রাজ ।
মেহেদীঃ আমি তোমার ডিপার্টমেন্টেই সেম ইয়ারে । তাই বন্ধুত্ব করতে এলাম ।
আমিঃ ধন্যবাদ ।
যাক বাবা অন্তত একটা বন্ধু তো পেলাম । তারপর মেহেদীর সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম । তারপর দুপুরে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম ।
কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে যানি না । উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসলাম । অনেক্ষন পড়ে রাতে ডিনার করলাম ।
তারপর রুমে এসে শুয়ে রিদির মায়াবী চোখের কথা ভাবতেছি । কিভাবে একটা মানুষের চোখ এতো সুন্দর হতে পারে । তখনি হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধির উদয় ঘঠলো । বুদ্ধি টা হলো,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,
পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
মায়াবী চোখ গুলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
225
Views
13
Likes
1
Comments
5.0
Rating