মায়াবী চোখ গুলো

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সকালে খুব মিষ্টি একটা কন্ঠে আমার ঘুম ভাঙলো । আগে তো এরকম কন্ঠ এই বাড়িতে শুনি নি । কে সেই মিষ্টভাসি মানুষ । তাকে একবার দেখতেই হবে ।

তাই চোখ ডলতে ডলতে আমি নিচে গেলাম । আর নিচে আমি পুরো হা হয়ে গেছি ।

কারন সেই মিষ্টভাসি মানুষটা হলো মায়াবী চোখ গুলো দেখে ক্রাশ খাওয়া মেয়েটি । মানে রিদি । সকালে উঠেই এমন সারপ্রাইজ হবো ভাবতেই পারি নি ।

কিন্তু আজ শুধু তার মায়াবী চোখ গুলো দেখতে পাই নি । সাথে তার পুরো মায়াবী মুখটাও দেখতে পাইছি । পড়নে তার নীল শাড়ি,,নীল চুড়ি,,,নীল টিপ সবকিছু ম্যাচিং করে পড়ে এসেছে । দেখতে একদম নীল পরীর মতো লাগছে ।

আমি অনেক খুশি হলাম । তাকে দেখে আমার মুখে হাসি ফুটছে । আম্মু আমাকে অনেক দিন পর এরকম হাসতে দেখে সেও অনেক খুশি হইছে । আম্মু হয়তো ব্যাপার টা বুঝতে পারছে আমি ওর প্রতি আসক্ত আছি ।

তারপর রিদি আমার আম্মুর সাথে কথা বলতে লাগলো,,,,

রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম আন্টি ।

আম্মুঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম । কেমন আছো মা ?

রিদিঃ আলহামদুলিল্লাহ আন্টি ভালো আছি । আপনারা কেমন আছেন ?

আম্মুঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি । তা তোমার নাম কি মা ?

রিদিঃ আমার নাম রিদি । এই বাসাটা আমাদের ই । শুনলাম আপনারা নতুন আসছেন,,,তাই একটু দেখা করতে এলাম আন্টি ।

আমি মনে মনে বললাম,,,,,

আমিঃ ওহহ তার মানে রিদি এই বাড়িতেই থাকে । মানে বাড়িওয়ালার মেয়ে । (মনে মনে)

আমার মনে তো লাড্ডু ফুটছে । আমার ক্রাশ এই বাসাতেই থাকে আর আমি জানি না । যাইহোক তারপর আম্মু বললো,,,,,,,,,

আম্মুঃ খুব ভালো করেছো মা । তুমি মাঝে মাঝে আমার সাথে দেখা করতে আসবে । ওর আব্বু তো চাকরি নিয়ে ব্যস্ত । আর আমার ছেলে তো কলেজে যায় । আমিই একা থাকি। তাই যদি আসতে খুব ভালো লাগতো মা ।

রিদিঃ সমস্যা নেই আন্টি সময় পেলে আমি অবশ্যই আসবো ।

তারপর আম্মু আমাকে দেখিয়ে বললো,,,,,,

আম্মুঃ মা এ হলো আমার ছেলে রাজ ।

রিদিঃ আসসালামু আলাইকুম ।

কি ব্যাপার রিদি আমাকে দেখে না দেখার ভান করলো কেন ?? তারপর আম্মুর ডাকে ধ্যান ভাঙলো,,,,

আম্মুঃ কি রে শুনতে পেলি না । তোকে সালাম দিলো ।

আমিঃ ওহহ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।

আম্মুঃ কোথায় পড়াশোনা করো মা ।

রিদিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।

আম্মুঃ আমার ছেলেকেও ওখানে ভর্তি করে দিয়েছি ।

রিদিঃ ওহহ আচ্ছা । কোন ইয়ার,,?

আমিঃ সেকেন্ড ইয়ার । আপনি ??

রিদিঃ চতুর্থ বর্ষ ।

আমিঃ ওহহ আচ্ছা ।

রিদিঃ আচ্ছা আন্টি এখন তাহলে আমি আসি । আবার পরে আসবো ।

আম্মুঃ ঠিক আছে মা এসো ।

আমার মনে তো লাড্ডু ফুটতে লাগলো । এ তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি ।

আম্মু আমাকে এসে বললো,,,,

আম্মুঃ তোর মেয়েটাকে পছন্দ হইছে তাই না ।

আম্মুর কথা শুনে আমি তো অবাক । আম্মু কেমনে জানলো । তারপর আমি বললাম,,,,,

আমিঃ না মানে ইয়ে ,,

আম্মুঃ থাক আর না মানে করতে হবে না । আমারো মেয়েটাকে অনেক পছন্দ হইছে ।

আমি লজ্জা পেয়ে আমার রুমে চলে আসলাম । এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম । তারপর আবার কলেজে চলে গেলাম ।

এসেই সোজা ক্লাস রুমে ঢুকে পড়লাম । তিনটা ক্লাস করলাম ।

ক্লাস শেষ করে আমি আম তলায় এসে বসে আছি । তখন দেখি রিদিও ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে যাচ্ছে ।

হঠাৎ একটা সিনিয়র ছেলে এসে রিদিকে হাটু গেড়ে প্রোপোজই করে বসলো ।

ছেলেটিঃ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি রিদি । প্লিজ একসেপ্ট মাই লাভ ।

নিমিশেই আমার মন খারাপ হয়ে গেল । আমার ক্রাশ কে প্রোপোজ করেছে । খারাপ লাগার ই কথা ।

তারপর দেখি রিদি ওই ছেলেটার কাছ থেকে ফুলের তোরা নিলো । নেওয়ার পর ফুলটা একটু নেড়ে চেড়ে দেখে সোজা ছেলেটার মুখে মে*রে দিলো ।

তারপর সে সেখান থেকে চলে গেল । কলেজের সবাই হা করে তাকিয়ে আছে । আমিও তাকিয়ে আছি ।

তবে আমি অনেক খুশিই হয়েছি ।

হঠাৎ একটা ছেলে এসে আমাকে বললো,,,,,

ছেলেটিঃ হাই আমি মেহেদী ।

আমিঃ হাই আমি রাজ ।

মেহেদীঃ আমি তোমার ডিপার্টমেন্টেই সেম ইয়ারে । তাই বন্ধুত্ব করতে এলাম ।

আমিঃ ধন্যবাদ ।

যাক বাবা অন্তত একটা বন্ধু তো পেলাম । তারপর মেহেদীর সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে এলাম । তারপর দুপুরে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়লাম ।

কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে যানি না । উঠে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসলাম । অনেক্ষন পড়ে রাতে ডিনার করলাম ।

তারপর রুমে এসে শুয়ে রিদির মায়াবী চোখের কথা ভাবতেছি । কিভাবে একটা মানুষের চোখ এতো সুন্দর হতে পারে । তখনি হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধির উদয় ঘঠলো । বুদ্ধি টা হলো,,,,,,,,,,,

""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
225 Views
13 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: