৬ বছরের ফারিহা সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করছে মা বাবা দেখে যাও ,, দাদা বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে আসছে ,,, আশিক সদর দরজার কাছে আসলো ,,, এসে ফারিয়া কে বলল কিসের জন্য এত সকালে চিল্লাচিল্লি করিস ।
তোর জন্য সকালে আমরা ঘুমাতেও পারি না সারারাত কি করিস এত সকালে ঘুম থেকে উঠিস । ফারিহা আশিক কে বলল চাচ্চু দাদা এসেছে ,, আশিক বলল কই ,ফারিহা বলল দরজার দিকে তাকাও চাচ্চু আমার দিকে না তাকিয়ে ,,,
আশিক তখনই দরজা দিকে তাকালো তাকিয়ে ছিটকে উঠার মত অবস্থা হয়ে গেল আশিকের ,,,। আশিক তখনই ফারিহার মতোই সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করলো ।
আশিকের মতোই সবাই বকাবকি করতে করতে দরজার কাছে আসলো ,, এসে বলল তোরা এমন করছিস কেন ? তখন্ই তাদের বাবাকে দেখলো তারাও দেখে অনেকটা অবাক হয়ে রইল ,,, একে একে সবাই একসাথে হল ।
একজন একজনের মুখের দিকে তাকালো আরেকজন আরেক জনের মুখের দিকে তাকালো সেখানে ,,,, সবাই অনেক টা অবাক হয়ে রইলো ।
তামিমা : বাবা তুমি কোথায় ছিলে এটা কে ,,, বাবা বলো তুমি আমাদের সাথে মজা করছো ,, বলো না বাবা এটা কাকে নিয়ে আসছো ।
মোল্লা সাব : তোরা কি এখানেই কথা বলবি নাকি আমাদেরকে সম্মানের সাথে গড়ে তুলবি ,,, কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো এখানে সেটা বল ।
ইসরাক : বাবা সরি তোমার সাথে আমি রাগ করে ফেলছি ,, তোমাকে রেখে আমরা আর কোথাও যেতে চাইবো না বেড়াতে ,, সব সময় তোমার কথা মতোই চলবো ,, বাবা এই মহিলা কি তোমার বান্ধবী লাগতো আগে ,,তুমি কি আমাদের সাথে প্যাঙ্ক করতেছো ,, বাবা বল ।
মোল্লা সাব : আগে আমাদের ঘরে যেতে দে তারপর সব বলছি ,,, তোরা এত কথা বলতে লাগলি কেন এখনই ,,, আগে আমাদের জন্য পোলা ও মাংস রান্না কর ।
আশিক : বাদ দাও তোমার পোলা মাংস আগে আমাদের প্রশ্নের জবাব দাও ,,, তোমাদেকে এখন সবাই এই অবস্থা দেখলে আমাদের মান সম্মান কোথায় থাকবে ,, তুমি এত প্র্যাঙ্ক করো কেন আমাদের সাথে ,?, তাও সব ফালতু প্র্যাঙ্ক ।
তন্নি : এই চুপ কর আমি বলি ,,, বাবা তোমার কি বয়সকালে ভীমরতি ধরেছে ,,, তুমি রাতে উধাও হয়ে গেলে আমরা কেউ ঘুমাতেও পারলাম না ,, এখন আবার এই কোন ফালতু মহিলাকে বাড়িতে নিয়ে আসছো ,,, তুমি কি আমাদের মানসম্মান সব শেষ করে ফেলবে ,,। তাড়াতাড়ি এই মহিলাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলো এখনই ।
মোল্লা সাব : সবাইকে অনেক জোরে একটি ধমক দিল ,,, তোরা কথা সাবধানে বলিস ,, তোরা একা একাই বকবক করতে শুরু করেছিস ,,, আমাকে তো আগে কিছু বলতে দিবি নাকি ,,,। সারাটা রাত যে তোদের বাবা বাড়িতে ছিল না তোদের কি কোন টেনশন আছে নাকি সেটা বল আগে । বেলা বাজে আটটা এখনো তোরা একেক জন ঘুম থেকে উঠিস নি । কোন টেনশন কি আছে তোদের আমার জন্য।
আমাকে ঘরে নিয়ে যে তোরা খাওয়াবি সেটা তো তোরা কোনদিন করবিই না বরং আরো প্রশ্নের উপর প্রশ্নই করে চলেছিস ।
তামিমা : বাবা আসো ভেতরে আসো ,,, তোরা কি সবাই চুপ করবি নাকি সেটা বল ,, নয় আমি এখনই চলে যাব তোদের জামেলা রেখে । তোদের ঝামেলায় আমার আর সংসার ঠিকমতো করা হচ্ছে না । বাবা আসো ঘরে আসো ,,, আসেন আপনিও আসেন ।
আশিক : তামিমা আপু আগে বলতে বল এই মহিলাটি কে ? আর কেন আমাদের বাড়িতে আসছে ?
ফারিহা : চাচ্চু তুমি বোঝনা ,, আমরা যে একটা আন্টির বিয়ে খেতে গিয়েছিলাম সেদিন ,,, এর মত করে বড় ঘুমটা দিয়েছিল ,, সেই বউ । তোমরা এত বড় হয়ে গেছো তাও কেন তোমরা কিচ্ছু বুঝনা ,,, এই কথা বলে ফারিহা মুখ হাত দিয়ে চেপে হাসছে ,,, আর বলছে চাচ্চু এটা আমার দাদার বউ ।
ওমি : অনেক জোরে ফারিহা কে একটি ধমক দিল ,,, তুই এখানে কি করছিস ,,, যা তাড়াতাড়ি ঘরে যা পড়তে বস ,,, এখনো দাঁড়িয়ে আছিস যাবি নাকি মার খাবি ।
ফারিহা : যাচ্ছি মা ।
ওমি : ইশরাক তোমাদের বাড়িতে এগুলো কি হচ্ছে ,,, আমার ডেলিভারির টাইম হয়ে গিয়েছে প্রায় ,,,আর মাএ এক মাস । আজকে আমার মার আসার কথা ,,, এসে যদি এগুলো তোমাদের লীলা দেখতে পায় তাহলে কি বলবে বলো তোমরাই । আর তোমাদের এসব আচরণও এ তো আমার সন্তানও দেখে দেখে শিখতে থাকবে । এত ভেজাল আমার আর কুলাচ্ছে না ,,, এত বড় বড় দুইটা ছেলে মেয়ে বাড়িতে বসে থাকে আমার হাতে হাতে একটু কাজ করেনা ,,,, আরেকজন তো আছে আশিক সাহেব সেতু দুদিন পরপরই বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বাড়িতে ফুর্তি করে সেগুলোরও তো আমাকে সব কাজ করতে হয় ।
তামিমা : এমন কথা বলিস কেন ? জমেলা তো করেই সব কাজ নাকি । জমেলা কি এই বাড়িতে পায়ের উপর পা তুলে বসে খায় । এমন ভাবে কথা বলছিস যেন সবার কাজকর্ম তুই করিস ওমি । জমেলা কে আমরা ১৫০০০ টাকা দিয়ে রাখছি ,, বাড়ির সব কাজ করানোর জন্য ।
মোল্লা সাব : দমক দিয়ে বলল তোরা কি চুপ করবি নাকি আগে সেটা বল । আমার বাড়িতে আমারই কোন দাম নেই তোদের কাছে ।
আশিক : বাবা এই মহিলাকে আগে ঘর থেকে বের কর আমার আর দেখতে মন চাচ্ছে না এই মহিলা কে । দেখে তো মনেও হচ্ছে না আমাদের কোন আত্মীয়ও লাগে ,,,।
মোল্লা সাব : কথা সাবধানে বলবি ,, এই মহিলা তোদের মা লাগে ,, তোদের নতুন মা ,,, এখন থেকে তোরা ওকে মা বলে ডাকবি । আশা করি তোদের কে আর কিছুই বুঝিয়ে দিতে হবে না ,,, যথেষ্ট পরিমাণ তোরা বুঝিস ,,।
ইসরাক,,তামিমা ,, আশিক,,তন্নি সবাই যার যার দিকে বারবার তাকাচ্ছে আর একটা কারেন্টের শর্ট খাওয়ার মত শর্ট খেয়েও গিয়েছে ,,,। সবাই একসাথে বলে উঠলো কি, কি, কি । তামিমা তো এই কথা শুনে মাটিতেই বসে পড়ল ।
চলবে,,,,
ফারিহা নিখোঁজ ( পর্ব 2 )
229
Views
2
Likes
1
Comments
4.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (1)
very nice.