অন্তরা নীল শাড়ি পড়ে ঠোঁটে হালকা করে গোলাপি লিবিসটিক দিয়ে রেডি হয়ে গেল । অন্তরা রেডি হয়ে বসে আছে রুমে । কিছুক্ষণ পর মাহিম সাদ থেকে রুমে আসলো ,, রুমে এসেতো অন্তরার দিকে মাহিম অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ।
অন্তরা : কি দেখো তুমি এভাবে ,, আমার তো লজ্জা লাগে ।
মাহিম : রাতের আলোতে আলোকিত সেই চাঁদটি দেখছি আমি।
অন্তরা : ওই বুড়া এই ঘরের ভেতর তুমি আবার চাঁদ কোথায় পেলে ?
মাহিম : আকাশের চাঁদ তো সবাই দেখে ,, কিন্তু আমার চাঁদ আমার ঘরের ভেতর ,, আমি শুধু আমার চাঁদকে দেখি ।
অন্তরা : হয়ছে এতো ঢং করতে হবে না ,, কই নিয়ে যাবে চলো তো তাড়াতাড়ি । আবার রাই এসে পড়বে এসে যদি আমাদেরকে না দেখে তাহলে তার মনটা খারাপ হয়ে যাবে ।
মাহিম : হ্যাঁ চলো ।
এ বলে যখন দুজন রুম থেকে যাচ্ছে সদর দরজার কাছে যাওয়ার সাথে সাথে পায়েল বলে উঠলো ,, আব্বা আম্মা আপনারা কোথায় যাচ্ছেন এভাবে এতো সেজেগুজে । এই কথা বলে তারা অন্যদিকে তাকিয়ে হাসছে ,, এই বিষয়টা অন্তরা বুঝতে পেরে মনটা অনেক খারাপ করে ফেললো ।
মাহিম : বৌমা আমরা একটু দরকারে যাচ্ছি আমাদের জন্য দুপুরে রান্না করিও না আমরা দুপুরের খাবার বাহির থেকে খেয়ে আসবো।
পায়েল : আব্বা আপনারা তো যাচ্ছেন হসপিটালে কোথায় খেয়ে আসবেন হসপিটালে কি খেতেও দেয় নাকি ।
এগুলো বলে তারা মজা নিচ্ছে এটা মাহিম আর অন্তরা সেটা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে । মাহিমরা আর কিছু না বলে সদর দরজা চাপিয়ে রেখে বাহিরে যেয়ে জুতা পাইয়ে দিচ্ছে। জুতা পায়ে দিতে দিতে ভেতর থেকে ছেলের বউদের কথা শোনা যাচ্ছে ।
পায়েল বলছে বয়সকালেও এদের একটু লজ্জা সরম হয়না ।
রেশমি : দেখতেই তো পেলি কি রকম নীল টকটকে শাড়ি পরেছে । এই শাড়িতে ওনাদের মানাচ্ছে কি ?
পায়েল : একদমই মানাচ্ছে না ।
অন্তরা আর মহিম বাহির থেকে এগুলো শুনছে যতক্ষণ জুতা পায়ে দিল এতক্ষণ পর্যন্ত ,, না জানি তারা যাওয়ার পর আরো না কত কি আলোচনা করে এগুলো তারা মনে মনে ভাবছে ।
অন্তরা : ওইদিকে কান দিও না তো ,, চলো তো যাই ,আমি তো কিছু মনে করছি না । আমার স্বামী যেভাবে বলবে আমি সেভাবেই চলবো ,, এতে লোকে যদি আমাকে পাগল বলে বলুক এতে আমার কোন সমস্যা নেই । আমার স্বামী আমাকে ভালো বললেই হবে । তা আমার বুড়া আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে ।
মাহিম : আজকেউ তোমাকে তোমার প্রিয় জায়গায় নিয়ে যাব ।
অন্তরা : আজকেও কি তুমি সমুদ্র পারে নিয়ে যাবে আমাকে ।
মাহিম : শুধু সমুদ্র পাড়ে নিয়ে যাব না আজকে তোমাকে অনেক কিছু কিনেও দিবো । আমরা আজকে অনেক মজা করব । একদম সেই বিয়ের পরের দিনগুলো যেভাবে কাটিয়েছিলাম সেভাবেই কাটাবো ।
অন্তরা : আচ্ছা সবই ঠিক আছে কিন্তু একটি সমস্যা আছে ,, এই সাদা চুল গুলো রেখে কালো চুল গুলো নিয়ে আসতে পারলে না সেই আগের মতো ,, এ কথা বলে দুইজনে অট্টহাসিতে মেতে উঠলো।
মাহিম : তুমিতো রিক্সায় ঘুরতে পছন্দ কর তাই না ,, চলো আজকে তোমাকে অনেকক্ষণ রিস্কায় নিয়ে ঘুরবো ।
অন্তরা : আজকে হঠাৎ করে তোমার মনটি এত বড় কিভাবে হলো ,, আজকে কি কোন একটি বিশেষ দিন ? যাইহোক সমস্যা নেই আজকে তো রিস্কায় চড়ে বেড়াবো এটা ভেবে আনন্দ লাগছে অনেক । আচ্ছা আমাকে আজকে কি কি কিনে দিবে গো ।
মাহিম : বুড়ি হয়ে গেছে তাও সখ কমেনি ,, এই বুড়ি বয়সে তোমার কি লাগবে লিবিসটিক, আয়নায়ালা ,কাজল,, চুলের সেই আগে বেনুনিতে বেধেছো লাল লাল ফিতে সেগুলো কিনার শখ লেগেছে বুঝি তোমার ।
অন্তরা : এত কথা শোনান লাগবে না তুমি কিনে দিবে না সেটা বললেই তো হয় । আমি শুধু তোমাকে জিগালাম কি কিনে দিবে তুমি ,,আমি কি বলছি আমাকে লিবিসটিক আয়নালা কাজল এগুলো কিনে দাও । তুমি বুড়া হচ্ছ আর ঝগড়াটে হচ্ছ ।
এরপর দুজন রিক্সায় উঠলো ,, এমনিতে যেখানে যায় সেখানে তো তারা তাদের নিজস্ব গাড়ি নিয়েই যায় । কিন্তু অন্তরার অনেক শখ রিক্সায় চড়বে কিন্তু কোন কারনে রিক্সায় চড়া হয় না । সেই যখন নতুন বিয়ে হয়েছিল তাদের তখন মাঝে মাঝে ঘুরেছে রিক্সায় । আর এখন তো তাদের ছেলেমেয়েরা তাদেরকে রিক্সায় চড়তেই দেয় না ।
অন্তরা : অনেক ভালো লাগছে গো আমার এই খোলা আকাশের নিচে তোমার সাথে এভাবে ঘুরতে ভীষণ ভালো লাগছে ।
মাহিম : তোমার ভালোলাগা দেখে আমারও ভীষণ ভালো লাগছে ,,, তা কোথায় কোথায় যাবে গো রিক্সায় চড়ে ।
অন্তরা : যেখানে মন চায় সেখানেই আমাকে নিয়ে যাও তুমি।
মাহিম : আচ্ছা আমরা সমদ্র সৈকত থেকে বাড়ি ফেরার সময়ও তোমাকে রিকশায় চরাবো ,,,।
তারা দুইজন সমুদ্র সৈকত পার এসে রিক্সা থামিয়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে চলে গেল ।
আর এদিকে ফাহাদ আর রাহাতকে খাবার দিচ্ছে ডাইনিং টেবিলে ।
ফাহাদ : বাবা-মা আসেনি এখনো ,,,
পায়েল : না আসেনি তারা তো সেজে গুজে বের হয়েছে বাড়ি থেকে ।
ফাহাদ : আলতু ফালতু কথা একদম বলবে না তারা গিয়েছে হসপিটালে ,, সেজে বের হয়েছে মানে । হয়তো আসতে একটু দেরি হচ্ছে মা বাবার জন্য খাবার রেডি করে রাখো এসে তারা খাবে ।
পায়েল : কথা বলতে পারি না তোমাদেকে ঝগড়া বাদিয়ে দাও ,, তোমাদের মা-বাবার নামে একটি কোথাও বলার কোন ইচ্ছা আমাদের নেই । যাওয়ার সময় বলে গিয়েছে তাদের জন্য রান্না যেন না করে রাখি বাহিরে খেয়ে আসবে । আম্মা শাড়ি পড়ে গিয়েছে আর আব্বা পাঞ্জাবি ।
ফাহাদ : ওহ আচ্ছা সমস্যা নেই । হয়তো বাহিরে খাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে এর জন্য খেয়ে আসবে তাহলে তোমরা খেয়ে নাও ।
এখানে তারা আর কোন কথা বাড়ালো না । আর ঐদিকে মাহিম আর অন্তরা এক হোটেলে গিয়েছে খাবার খাওয়ার জন্য । মাহিম একটি কেক অর্ডার দিয়েছে তাদের জন্য।
অন্তরা : আজকে কি গো হঠাৎ করে কেক অর্ডার দিলে ।
মাহিম : ৫৫ বছর আগে এই দিনে আমি তোমাকে বিয়ে করে আমার ঘরে নিয়ে এসেছিলাম । আজকে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী । অনেক অনেক খুশির দিন আমার কাছে । আজকে অসহায় লোকজনকে অনেক কিছু কিনে দিবো ঠিক আছে ।
অন্তরা : আমাদের বিয়ের এত বয়স হয়ে গিয়েছে তুমি এই কথাটাও মনে রেখেছো । তুমি পারওগো ,,হ্যা অনেক ভালো হবে অসহায় লোকের মুখে হাসি দেখে ভীষণ ভীষণ ভালো লাগবে আমাদের । চলো আমরা যাই ।
এ কথা বলে তারা শুরু করে দিল অসহায় লোককে খুজা ,,, এর আগে কিছু খাবার, অনেকগুলো পোষাক এগুলো কিনে অসহায় লোকের উদ্দেশ্যে চলে গেলো । এভাবে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত তারা ঘুরে ঘুরে সেই পোশাক খাবার টুকটাক জিনিস দিয়ে গরিবের মুখে হাসি ফুটালো ,,, এভাবে কিছুক্ষণ পর বিকেল পাঁচটা বেজে গেল এখন তাদের বাড়ি ফিরতে হবে ।
মাহিম : আচ্ছা বুড়ি আমরা তো আজকের দিন অনেক সুন্দরভাবে কাটালাম আল্লাহর রহমতে ,, এখন চলো আমরা বাড়ি ফিরে যাই । আর তোমাকে তো কথা দিয়েছিলাম যাওয়ার সময়ও তোমাকে রিক্সায় চড়িয়ে নিয়ে যাব ।
অন্তরা : থাক এখন আর রিক্সায় যেতে হবে না তুমি যেভাবে নিয়ে যাবে আমি সেভাবেই যাব ।
মাহিম : আমারও ভালো লাগবে তোমাকে রিক্সায় চড়িয়ে নিয়ে যেতে । খোলা আকাশের নিচে এই রিক্সা গাড়িটা অনেক ভালো ,, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুভব করা যায় ।
এ কথা বলে তারা দুজন একটি রিক্সায় চড়ে বসলো ,, এভাবে ১০ মিনিট যাওয়ার পর তাদের রিক্সাটা এক্সিডেন্ট হয়ে গেল ,,,,,
আজকে এই পর্যন্তই থাক পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকার অনুরোধ রইলো সকলকে ❤️ ❤️
চলবে,,,,,,
তুমি আছো তাই ( পর্ব 10 )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
98
Views
5
Likes
1
Comments
5.0
Rating