অবহেলা (পর্ব:৩) (শেষ পর্ব)

অমি
অমি
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
_ তারপর সবাই অনেক ডাকল,,, কিন্তু কোনো সারা সবদো পেলো না,,,আর নাদিয়া খালি কাঁদছে,,,নাদিয় মনে হচ্ছে তার ভাইয়া কিচ্ছু একটা হয়েছে।
।।

তারপর সবাই মিলে দরজা ভেংগে ফেললো, দরজা ভেংগে সেই রাকিবের রুম গেলো । সবাই চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে কেও কোনো কথা বলতে পারছে না।নাদিয়া ২মিনিট পর ভাইয়া বলে চিৎকার দিয়ে নাদিয়া বেহুস হয়ে গেলো। রাকিবের লাশ দেখলে যে কেনো মানুষ বেহুস হয়ে যাবে ।
কারণ রাকিবের শরীর পচে গিয়েছিলো জায়গাই জায়গাই।

কেউ ভাবতে ও পারে নাই,যে রাকিব মারা গিয়েছে,আম্মু নাদিয়াকে জ্ঞান ফিরিয়ে স্বাভাবিক করলো,,, নাদিয়া যখন জ্ঞান ফিরলো তখন নাদিয় বলতে লাগলো।

»নাদিয়া: তোমরা একটা খুনি তোমরা আমাকে ছুবে না তোমাদের আমাকে ছুয়ার কোনো অধিকার নাই, তোমরা ও খুনি তোমরা ভাইয়া মেরে ফেলছো তোমরা আমার আব্বু- আম্মু না।( কান্না করতে করতে)
আব্বু-আম্মু কিছু বলছে না,,চুপ করে দারিয়ে আছে । হঠাৎ করে আব্বু-আম্মু বসে পরলো ফ্লরে।
নাদিয়ার এমন কান্না চিৎকার শুনে পাশের রুমে থাকা রাকিবের ছোট ভাই চলে আসলো,এসে দেখলো রাকিবের অদ্ধেক পঁচা দেহটা ফ্লরে পরে আছে।
»রাকিবের ছোট ভাই জিসান বলতে লাগলো: আব্বু-আম্মু ভাইয়া কি হয়েছে এমন করে শুয়ে আছে কেনো আর ভাইয়া শরীর থেকে এমন গন্ধ কেনো বের হচ্ছে,,আর আপু এমন করে কাঁদছে কেনো ।।।(রাকিবের ছোট ভাই অনেক ছোট ক্লাস
2 তে পড়ে।)

তার আব্বু-আম্মু কোনো কথা বলছে না।।
কিবা বলবে,,তারপর হঠাৎ করে
আব্বুর চোখ গেলো ডাইরির ওপর,
তারপর আব্বু ফ্লরে থেকে উঠে ডাইরিটা হাতে নিয়ে,,রাকিবের জীবনে শেষ লেখা গুলে পড়তে লাগলো । আব্বু ডাইরিটা পড়ে,,,ডাইরিটা হাত থেকে পরে গেলো,
ফ্লরে বসে পরলো আব্বু। তারপর আব্বু জোরে জোরে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে
লাগলো। আম্মু ডাইরিটা হতে নিয়ে পড়তে লাগলো,ডাইরিটা পরে আম্মু ও কাঁদতে লাগলো । নাদিয়া পাশে বসে ছিলো ,তাই সে উঠে ডাইরিটা পড়তে লাগলো। নাদিয়া ডাইরিটা পড়ে পাগলের মতো করতে লাগলো।

[আজ রাকিব মরে গেলে ও খুশি কারন তার বাবা মা তার জন্য আজ কাঁদছে,
রাকিব যদি আজ বেঁচে থাকতো তাহলে অনেক খুশি হতো,তার আব্বু-আম্মু তাকে নি্রযে ভাবচ্ছে ]

তার আব্বু- আম্মু শুধু কাঁদছে রাকিবের লাশের পাশে বসে।

»নাদিয়া: আজকে কেঁদে কোনো লাভ নেই,ভাইয়া আর এই নিষ্ঠুর পৃথীবিতে ফিরে আসবে না,তোমাদের তো খুশি হবার কথা তোমরা কাঁদছ কেনো, তোমরা হাসো অনেক হসো,, তোমাদের খুনি ছেলে আর তোমাদের মানুষের কাছে ছোট করবে না তোমরা এখন মানুষের কাছে,মাথা উচো করে চলবে। তোমাদের মতো একটা বাবা-মা ও কেউ দেখে নি,এমন বাবা মা হয়,যারা নিয়ের সন্তান কে মেরে ফেলে । আজ যদি লাশ থেকে গন্ধবের না হতো,, তাহলে তো তোমরা জানতে না তোমাদের খুনি ছেলে মারা গিয়েছে। (কাঁদতে কাঁদে)
।।

রাকিবের আব্বু-আম্মু কিছু বলছে না, কি বা বলবে তারা তো আজ তার ছেলেকে মেরে ফেলেছে ।

[আস্তে আস্তে রাকিবের বাসাতে অনেক মানুষ চলে এসেছে তার মৃত্যু খবর শুনে,তার ফুপা- ফুপি সবাই চলে এসেছে এবং কি তার ফুপাতো বোন ও আসছে।]

তারপর নাদিয়া তার ফুপাতো বোনকে জিগ্যেস করলো ।

»নাদিয়া:আপু আজকে সত্যি করে একটা কথা বলবে,ভাইয়া কি সেই দিন তোমার সাথে কোনো খারাপ কাজ করতে চেয়েছিলো সত্যি করে বলবে, সবার সামনে ।(কিছুটা রেগে গিয়ে)

»ফুপাতো বোন:না মানে সেই..
»নাদিয়া : হে বলো সেই দিন কি
হয়েছিলো।(ধমক দিয়ে)
»ফুপাতো বোন:সেই দিন আমি রাকিবকে প্রপোজ করেছিলাম । কিন্তু রাকিব না করে দেয় । আমি রাকিবকে অনেক করে প্রপোজ করি, কিন্তু রাকিব আমাকে বলে সে নাকি প্রেম করতে পারবে না ।
আমি বলি কেনো প্রেম করতে পারবে না ।আমি কি দেখতে খারাপ না আমার ভিতরে কোনো খামতি আছে,কেনো প্রেম করবে না ।

তারপর রাকিব আমাকে বলে।
রাকিব:আমি এমনে আমার আব্বু-আম্মু কাছে একটা খুনি ছেলে হয়ে আছি,যদি তোমার সাথে প্রেম করি তাহলে তারা আমাকে খারাপ ভাব্বে, আর আর আব্বু-আম্মুর কাছে আর খারাপ হতে চাই না। আর যদি তোমার আব্বু এই কথা শুনে তাহলে আমার আব্বু-আম্মু কে তোমার আব্বু অনেক অপমান করবে । আমি চাই না আমার জন্য আমার আব্বু-আম্মু মানুষের কাছে ছোট হক।(রাকিব এই কথা বলে সেখান থেকে চলে আসলো)

»ফুপাতো বোন:কিন্তু আমার অনেক রাগ হয়েছিলো,,,আমার ভালোবাসার কোনো দামই দিলো না।তাই আমি রাকিবকে একটা শিহ্মা দিতে চেয়েছিলাম। তাই আমি শুযক খুজতে ছিলাম,আর পেয়ে ও গিলাম,,, দেখলাম রাকিব একটা রুমে বসে আছে, আমার মাথাই একটা বৃদ্ধি আসলো,তাই আমি দরজা লক করে,চিৎকার করতে লাগলাম। বিশ্বাস করুন রাকিবের সেই দিন কোনো দোষ ছিলো না,,সব দোষ আমার ছিলো। আমি জানতাম না আমার জন্য আপনারা রাকিবের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিবেন ।(কেঁদে কেঁদে)
ফুপাতো বোনের কথা শুনে আব্বু-আম্মু আরো ভেংগে পরলো ।
»ফুপাতো বোন: আমার এমন টা করা ঠিক হয়নি প্লিজ আমাকে হ্মমা করে দেন।
»আব্বু: আমরা কি করে হ্মমা করবো,আমারই তো হ্মমার যোগ্য না। সে তো আমাদের হ্মমা করবে না কোনো দিন। আমরা যে তোমার থেকে ও বড় অঅপরাধী,,আমরা যে অনেক বেশী অন্যায় করছি।( কেঁদে কেঁদে)

»আম্মু: আমরা এতোটাই খারাপ যে আজ আমাদের ছেলেকে মেরে ফেললাম । আমরা এতো অবহেলার পর ও আমাদের কাছে আসতো একটু কথা বলার জন্য, একটু ভালবাসার পায়ার জন্য। আর আমরা কি করতাম,,ভালবাসা তো দূরে থাক,,,রাকিবের সাথে কথা প্রযন্ত বলতাম না।আমার কাছে এসে বলতো আম্মু আমার মাথা বেথা করছে,কিন্তু আমি তার কোনো কথা শুনতাম না আরো তাকে অপমান করে দিতাম। যদি পারিস এই খুনি মাটাকে হ্মমা করে দিস, জানি আমরা হ্মমার,,,ও যোগ্য । আমরা এতো বড়ই সার্থপর যে ছেলে মরার ৫ দির পর তার লাশের গন্ধ শুনে যানতে পারলাম,তার মৃত্যু খবর।আমাকে হ্মমা করে দেরে( রাকিবের পাটা ধরে, কেঁদে কেঁদে)
»নাদিয়া: তোমরা এই পাঁপি হাত দিয়ে,, আমার ভাইয়াকে ছুবে না,, তোমরা যদি এই পাপি হাত দিয়ে আমার ভাইয়াকে ছোও তাহলে আমার ভাইয়ার পাঁপ লাগবে তোমরা আমার ভাইয়াকে ছিবে না, বলে দিলাম তোমরা সবাই ভাইয়াকে অবহেলা করছো । তোমাদের কোনো হ্মমা নেই।( রেগে,,কেঁদে কেঁদে)

নাদিয়া রাকিবের লাশের কাছে গিয়ে বলতে লাগলো ।
»নাদিয়া: দেখ ভাইয়া একবার চোখ খুলে দেখ আজকে আব্বু-আম্মু তোর সাথে কথা বলতে চাচ্ছে,দেখ ভাইয়া আব্বু-আম্মুর চোখে আজকে পানি,, তুই না আব্বু-আম্মুর চোখে পানি দেখতে চেয়েছি তোর জন্য,প্লিজ একটা বার চোখটা খুলে দেখ আব্বু- আম্মুর চোখে অনেক পানি,খোল না চোখটা দেখ আজকে সবাই তোর জন্য কাঁদছে । তুই বলতি না,,,
তুই আপুর সাথে কোনো খারাপ কাজ করিস নি। আজকে আপু তার মুখে শিকার করছে, তুই কোনো খারাপ কাজ করিস নি,,, কেউ তোকে আর অবহেলা করবে না । আমিও তোর সাথে কথা বলবো তোর হাতে খাবো,তোর সাথে দুষ্টুমি করবো।আম্মু বকা দিলে ও আম্মু কথা শুনবো না,,তোর সাথে কথা বলবো । তুই না আমার সোনা ভাইয়া,,, দেখ একবার সবাই আজ তোর সাথে কথা বলবে আচ্ছে । তুই তো এটাই চাইতি সবাই তোর সাথে কথা বলবে,,কেউ তোকে আর অবহেলা করবে না । তাহলে তুই কেনো চোখ খুলছিস না। আমি জানি তুই আমাকে ছারা কোথায় যাবি না, তোর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে,একটা বার কথা বল না।
(কেঁদে কেঁদে)
[ নাদিয়া কথা শুনে সবাই আরো জোরে কান্না শুরু করে দিয়েছে]

রাকিবের লাশ থেকে গন্ধ বের হবার কারণে, রাকিব কে তারাতারি করে দাফন করা হলো। রাকিবকে যখন কবর দেয়ার জন্য নিয়ে যায়া হয়। তখন নাদিয়া পাগলের মতো অনেক কান্নাকাটি করে,,সাথে তার আম্মু ও।
রাকিবের মৃত্যু আজ ১মাস হয়ে গিয়েছে ।
এখন প্রতি দিন রাকিবের কবরের কাছে গিয়ে কাঁদে রাকিবের আব্বু-আম্মু তারা সব সময় রাকিবের কাছ থেকে মাপ চাই। আর কান্নাকাটি করে ।
[ কিন্তু এখন কান্নাকাটি করলে তো আর রাকিব এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে ফিরে আসবে না,রাকিবকে এই নিষ্ঠুর পৃথীবি অনেক কিছু দিয়েছে ।যখন রাকিব বেঁচে ছিলো তখন তো কেউ রাকিবের একটা বার ও খবর নেই নি। রাকিব বাঁচতে ছেয়েছিলো কিন্তু রাকিবকে কেউ বেঁচতে দেই নি ।রাকিবকে তো খুন করা হয়েছে। রাকিব তো তার বোন কে ইচ্ছা করে মারে নি,সেটা তো একটা দূর ঘটনা ছিলো,কিন্তু রাকিব তার বোনের খুনি ছিলো তার আব্বু-আম্মু কাছে । সেই দিন যদি রাকিব খুনি হয়ে থাকে,,,তাহলে আজকে তার আব্বু-আম্মু রাকিব থেকেও বড় খুনি,রাকিব তো আর তার বোন কে ইচ্ছে করে মারেনি,,কিন্তু রাকিবের আব্বু-আম্মু রাকিবকে ইচ্ছে করে মেরেছে ।। রাকিব তো অনেক বলেছিল সে তার বোন কে মারেনি কিন্তু রাকিবের কোনো কথা তার শুনে নি ]
!
!

-------সমাপ্ত---------
254 Views
3 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: