মাহিম : আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি গো ,, হয়তো আমাদের ছেলেরা ঠিকই বলছে,, সবকিছু আমার নামে আছে আমাকে ছাড়া কিছু হয় না । আমরা বুড়া বুড়ি হয়ে গিয়েছি আমরা আর সম্পত্তি টাকা পয়সা দিয়ে কি করব । আমাদের সন্তানদের ভালোবাসা থাকলে আমাদের হয়ে যাবে । আর তুমি আমার পাশে থাকলেই আমার আর কিছু লাগবে না ।
অন্তরা : হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ তাই কর এতেই আমাদের ভালো হবে । তোমাকে এই বয়সে আর বেশি ঘুরা ঘুরি করতে হবে নাগো । তুমি শুধু আমাকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াবে ।
মাহিম : হ্যাঁ বুড়ি আমি তাই করতে চাই ,, টাকা পয়সা, গাড়ি, বাড়ি এত সয়-সম্পত্তির মাঝখানে আমার আর ভালো লাগছে না । এখন আমি খোলা আকাশে তোমাকে নিয়ে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে চাই ।
অন্তরা : রাতে ছেলেদেরকে ডাক দিয়ে বলো কাগজপত্র সব রেডি করতে ,, তাদের তিনজনকে সব সম্পত্তি দিয়ে দিবো । এতে বউ মারাও হয়তো ভালো থাকবে খুশিতে থাকবে । আমরা আর এগুলো দিয়ে কি করব । নাতি নাতনি ছেলের বউরা ছেলেরা পাশে থাকলেই হবে আমাদের ।
মাহিম : হ্যাঁ তাই করবো রাতে ওদেরকে একসাথে বসতে বলবো এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ।
তুমি ফোন দিয়ে আমাদের মেয়ে রাইকে আর তার হাজবেন্ড কামালকে আসতে বলো এই বাড়িতে ।
অন্তরা : হ্যাঁ আমি এক্ষুনি ফোন দিচ্ছি তুমি যাও রাহাতকে বলে আসো এই বিষয়টা ।
তখনই চলে গেল মাহিম রাহাতকে বলতে ,রাতে একসাথে হওয়ার জন্য । আর এদিকে অন্তরাও চলে গেল তার মেয়েকে ফোন দিতে , ফোন দিয়ে বলবে যেন আজকেই চলে আসে এই বাড়িতে তারা ।
মাহিম : রাহাত বাবা একটু দরজাটা খোল ।
রাহাত : আসছি বাবা ,, রাহাত দরজাটি খুলে তার বাবাকে তাদের ঘরে নিয়ে গেল ।
মাহিম : আমি যা বলতে আসছি তাই বলি আগে,, রাতে ফাহাদ কে নিয়ে বৌমাদেরকে নিয়ে আমার ঘরে আসিস তোদের সাথে কিছু আলোচনা আছে ।
রাহাত : কি কথা নিয়ে আলোচনা বাবা ?
মাহিম : এইতো সয়-সম্পত্তি এগুলো নিয়েই ,, তোরা তো এটাই চাষ তোদেরকে যেন সব ভাগাভাগি করে দিয়ে দেই ।
রাহাত : বাবা আমরা এভাবে বলতে চাইনি ,, তুমি কি মনে কোন কষ্ট পেয়েছো আমার কথায় ?
মাহিম : না কষ্ট পাইনি রাতে আমাদের ঘরে আসিস রাইকেও আসতে বলছি ।
রেশমিতো এই কথা শুনে মনে মনে অনেক খুশি । খুশিতে যেন গোলুমোলু হয়ে যাচ্ছে । আর ভাবছে কখন পায়েলকে যেয়ে বলবে এই কথাগুলো ।
রাহাত : আচ্ছা বাবা আমি ফাহাদকে বলব ,,
মাহিম : আর শোন রাহাত আমরা এখন একটু দরকারে বাহিরে যাবো ,, আসতে দেরি হতে পারে আমাদের জন্য চিন্তা করিস না ।
রাহাত : বলো বাবা তোমাদের কি দরকার আমাকে বল আমি এনে দিচ্ছি ।
মাহিম : তেমন কিছু দরকার না তোর মার ডাইবেটিক্স হয়তো একটু বেড়েছে । যাই পরীক্ষার করে নিয়ে আসি আর ওষুধপাতিও ফুরিয়ে গিয়েছে ।
রাহাত : তোমরা একা একা কিভাবে যাবে পায়েলকে নিয়ে যাও ।
পায়েল : আমার শরীরটা ভালো লাগছে না গো মাথাটা অনেক ব্যাথা করছে ।
মাহিম : নারে বাবা সমস্যা নেই আমরা এখনো অতটা বুড়ো হইনি যেতে পারবো । আচ্ছা আমার কাছে কোন টাকা নেই এখন সব টাকা তো এখন থেকে তোদের কাছেই থাকে ২ হাজার টাকা আমাকে দে ।
রাহাত : পায়েল যাও বাবাকে তিন হাজার টাকা বের করে দাও ।
পায়েল : বাবা তো বলল ২০০০ টাকা লাগবে ।
রাহাত : আমি যেটা বলছি সেটা কর ২০০০ টাকার বেশিওতো লাগতে পারে তখন কেমন হবে । তুমি তিন হাজার টাকা বের করে দাও ।
পায়েল ৩০০০ টাকা বের করে দিল তার শশুরকে ,,, কিন্তু মাহিম ৩০০০ টাকা নিল না ,, বলল আমার দুই হাজার টাকায় লাগবে আমার কাছে আরো ১০০০ টাকা আছে সমস্যা নেই । এই কথা বলে আর ১ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে তাদের রুম থেকে চলে গেল ।
রাহাত : তোমাকে কি বলছিলাম আমি ২০০০ টাকা বের করে দিতে ,,তুমি বললে কেন ২০০০ টাকা চাচ্ছে বাবা । এই কথা জিজ্ঞেস করলে বলে হয়তো বাবার মনে কষ্ট পেয়েছে ।
পায়েল : এই সামান্য কথায় যদি তোমার বাবার মনে কষ্ট পায় তাহলে আমরা কি করব সেই কথাটি তুমি বলো । জাস্ট আমি শুধু বলছি বাবা ২০০০ টাকা চাইলো । তারপরেও তো আমি তিন হাজার টাকা বের করে দিলাম রাগ দেখিয়ে ১০০০ টাকা ফিরিয়ে দিল এতে আমার কিবা দোষ ।
রাহাত : হইছে আর কথা বাড়াতে হবে না আমার ব্যাগটি আর চশমাটা দাও আমি অফিসে চলে যাব । আর তুমি রেশমিকে বলে রেখো ,, রাতে বাবা দেখা করতে বলছে তাদেরকে ।
আর এদিকে মাহিম অন্তরাকে রেডি হতে বলছে ।
অন্তরা : কিসের জন্য রেডি হবো আমরা কোথায় যাব এখন ? এখন কোথাও যেতে হবে না যাও এখন একটু আরাম করো ।
মাহিম : তুমি কি আমার কথার অমান্য করবে ,, আমি তোমাকে বলছি রেডি হতে ,তো তুমি রেডি হবে । বুড়া হয়েছি দেখে এটা ভেবে নিও না আমার কথা না শুনলে আমি তোমাকে মারতে পারবো না ।
অন্তরা : তুমি আমাকে মারবে ,,তাও আবার এই বয়সে এসে । লোকজন তোমাকে কি বলবে ,, তোমাকে বলবে এত বয়স্ক একটি লোক আরেক বয়স্ক বুড়ির উপর হাত তুলেছে। এতে মানুষ সবাই তোমার দোষ দিবে আমার দোষ দিবে না । কারণ আমি মারার মত কোন কাজ করতে পারবো না এখন সেই টাইম নেই আমার ,,, আমি এটাও পারবোনা একটি সম্মাট ছেলের সাথে প্রেম করতে ,, বা গহনা, চুরি, মালার জন্য বায়না ধরতে । তাহলে কোন কারণে তুমি আমাকে মারবে ?
মাহিম : এত কথা এখন ভালো লাগছে না আমার, এই রুমের ভেতর কেমন যেন নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ,, আমি বাহিরে যাব, যাও তাড়াতাড়ি রেডি হও ।
অন্তরা আর কথা না বাড়িয়ে হাত-মুখ ধুয়ে রেডি হতে গগেল ।
মাহিম : আজকে সেই নীল কালার শাড়িটা পরো ,, অনেক সুন্দর লাগে তোমাকে নীল শাড়িতে । হাতে কয়েকটা চুরি পরবে, এই সাদা এলোমেলো চুলগুলো একটু গুছিয়ে বাঁধবে। ঠোটে হালকা করে লিপস্টিক দেবে ।
অন্তরা : তুমি কি পাগল নাকি এই বয়সে আমি লিবিসটিক দিব আবার সেই 30 বছর আগের শাড়ি পরবো ,, লোকে তোমার থেকে আমাকে বেশি পাগল বলবে । এই বয়সে নীল শাড়ি পড়লে আমাকে একদম মানাবে না । তার থেকে ভালো আমি সেই হালকা মিষ্টি কালারের শাড়িটি পরি ।
মাহিম : আচ্ছা যা খুশি কর যাও বাথরুমে গিয়ে শাড়িটি পড়ে আসো ।
অন্তরা আলমারির কাছে যেয়ে ভাবতে লাগলো আমার বুড়াটা কি এমন চেয়েছে ,, আমাকেতো ওই নীল শাড়িটিই পড়তে বলছে আর কিছু না ,,তো আজকে আমার বুড়ার জন্য যদি পাগল সাজতে হয় আমি তাই সাজবো ,, লোকে যা খুশি তাই বলুক ।
এই কথা বলে অন্তরা আলমারি থেকে হালকা মিষ্টি কালার শাড়িটি বের না করে, গাড় নীল কালার শাড়িটিই বের করলো ,, নীল শাড়িটিই অন্তরা পরবে আজকে । আর মাহিম রাগ করে ছাদে গিয়েছে , অন্তরা তার কথামতো নীল শাড়ি পড়বে না বলে ।
চলবে
তুমি আছো তাই ( পর্ব 9 )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
94
Views
3
Likes
0
Comments
5.0
Rating