প্রেম আমার সিজন ২

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম আমার
সিজন-২

এনায়েত চৌধুরী অনেক অসুস্থতা বোধ করছিলেন। ওনার দৃষ্টি শুধুমাত্র মাইশার সাথে স্থির। শরীরটা ওনার কেমন যেন অসাড় হয়ে আসছে।দাঁড়ানো থেকে উনি হঠাৎ করেই বসে পড়লেন। উপস্থিত সবাই ওনার এই অবস্থা দেখে হতবিহম্বল হয়ে পড়ল।রাফাত আর আরিয়ান ওনাকে ধরাধরি করে সোফায় বসালেন।

আজমত সাহেব মাইশাকে তার কাছে ডেকে বললেন, উনার জন্য ঠান্ডা পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে নিয়ে আসতে। মাইশা এনায়েত চৌধুরীর জন্য শরবত বানাতে গেল। এনায়েত চৌধুরী ক্রমশ ঘামছেন। আরিয়ান ঘরে চলমান এসির পাওয়াটা আরও বাড়িয়ে দিল। ওনার বুকের ধরফরানি ক্রমশ বাড়ছে। একটা আতঙ্কে যেন তার পুরো মুখ ছেয়ে গেছে। উপস্থিত সবাই কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছে না হঠাৎ ওনার এমন কি হয়ে গেল যে উনি এইরকম অসুস্থ হয়ে গেলেন। আরিয়ান খুব তীক্ষ্ণ ভাবে এনায়েত চৌধুরীকে দেখে যাচ্ছে। আরিয়ান বুঝে ওঠার চেষ্টা করছে ঘটনার উপক্রমটা কি।

মাইশা কিছুক্ষণ পর শরবত নিয়ে এসে এনায়েত চৌধুরী সামনে ধরল। মাইশা কে দেখেই উনি যেন কেমন একটা করছেন। উনি যেন এই মুহূর্তে মাইশার কাছ থেকে পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচে।

উনি সরবত নিচ্ছেন না দেখে মাইশা এনায়েত চৌধুরীর হাত ধরে তার হাতে শরবতের গ্লাসটা ধরিয়ে দিয়ে খুব শান্ত কন্ঠে বলল,
" এই শরবতটা খেয়ে নিন আশা করি আপনার ভালো লাগবে।

এনায়েত চৌধুরীর হাত কাঁপছে।উনি শরবত টা খাবার আগেই অতিরিক্ত আতঙ্কে আর ভয়তে তার হাত থেকে গ্লাস টা নিচে পড়ে গেল। মাইশা ভাঙ্গা গ্লাস এর কাচ গুলো উঠাতে যাবে তখনই আরিয়ান ওকে বাঁধা দিয়ে বলল,
" কি করছো কি তুমি, হাতে কাচ ফুটে যাবে তো। তোমার এইগুলো উঠানো দরকার নেই। আমি এই গুলো উঠানোর ব্যবস্থা করছি।

আরিয়ান একজন কাজের লোককে ডেকে গ্লাসের ভাঙ্গা টুকরো গুলো তুলে নিয়ে যেতে বলল।

এনায়েত চৌধুরী আর এক মুহূর্ত এখানে থাকতে পারছেন না। উনি খুব ক্ষীণ কন্ঠে রাফাত কে‌ ডেকে বলল তাকে নিয়ে দ্রুত বাসায় যেতে।

রাফাত যেতে চায়ছিল না উনি রাফাত কে রাগী কন্ঠে বললেন,
" শুনতে পাচ্ছো না আমি তোমাকে কি বললাম।

রাফাতের অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওকে এনায়েত চৌধুরী জোর করে নিয়ে গেল।আলিয়া কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে এক পাশে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই দিনটার জন্য সে কতদিন অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু আজ সব ভেস্তে গেল। আলিয়া কারো সাথে কোন রকম কথা না বলে দৌড়ে তার রুমে চলে গেল।

কেউ কিছু বুঝে উঠতে পারছে না কিসের মধ্যে কি হয়ে গেল। এনায়েত চৌধুরী হঠাৎ কেন অসুস্থ হয়ে গেলেন। আরিয়ানের ঠোঁটের বাঁকা একটা হাসি। চোখে তার অন্যরকম এক দৃষ্টি।

এদিকে রাত গড়িয়ে গেছে অনেক। এনায়েত চৌধুরীর আসার উপলক্ষে অনেক আয়োজন করা হয়েছিল আজকে আরিয়ান দের বাড়িতে। হঠাৎ অমন আকস্মিক ঘটনায় সুন্দর পরিবেশটা মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে গিয়েছিল তাই যেসব আয়োজন করা হয়েছিল সেগুলো যেমন ছিল ঠিক তেমনই আছে এখনো। মাইশা কোন হিসাব মিলাতে পারছে না সুস্থ মানুষটা হঠাৎ কেন এমন অসুস্থ হয়ে গেল আর রাফাত কেই বা কেন উনি টেনে এভাবে এই বাড়ি থেকে নিয়ে গেল। ওদিকে আলিয়া রাফাত রা চলে যাবার পর থেকেই দরজা যে আটকিয়েছে এর পর থেকে আর দরজা খুলে নি। মাইশা আরিয়ান সবাই অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু কেউ আলিয়া কে দিয়ে দরজা খুলতে পারে নি। এই রকম একটা পরিস্থিতি কিভাবে মাইশা সামাল দেবে বুঝে উঠতে পারছে না। মাইশা মন খারাপ করে বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখের দৃষ্টি দ্বয় বিশাল আকাশের বুকে আটকে আছে। সবই তো ঠিক ছিল তাহলে মাঝখান থেকে কেন এমন একটা ঘটনা ঘটলো। কিন্তু মাইশা এটা বুঝতে পারছে না এনায়েত চৌধুরী মাইশা কে ঐ ভাবে দেখছিল কেন।

না ও আর ভাবতে পারছে না।ওর আজ সত্যি মনে হচ্ছে ও বোধহয় একটা অলক্ষী। ও যেখানে যায় সেখানেই ঝামেলা সৃষ্টি হয়। যার জীবনে যায় তার জীবন টাই এলোমেলো হয়ে যায়। মাইশার চোখের পানি আর বাঁধ মান ছিল না।

মাইশা পিছনে কারো উপস্থিতি অনুভব করল। হঠাৎ একজোড়া হাত ওকে পিছন থেকে ভালোবাসার স্পর্শ দিয়ে জড়িয়ে ধরল। মাইশার খোলা চুল গুলো ঘাড় থেকে কিছুটা সরিয়ে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে বলল,
" কি গো এই এই খানে দাঁড়িয়ে আছো কেন।

মাইশা আরিয়ানের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে একটু দূরে সরে গিয়ে কিছুটা র্শীন গলায় উত্তর দিল,
" এমনি।

মাইশার এইরকম দূরে সরে যাওয়া আর ওর গলার কন্ঠস্বর আরিয়ানকে অনেক কিছু বুঝিয়ে দিল। আরিয়ান মাইশা কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,
" কি হয়েছে।

মাইশা আরিয়ানের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়াতে যাবে আরিয়ান মাইশা কে আরো শক্ত করে ধরল। মাইশাকে নিজের খুব কাছে এনে ওর কপালে একটা চুমু দিয়ে ভালোবাসা মিশ্রিত কন্ঠে বলল,
" তুমি জানো না তোমার ওই মনে মেঘ জমলে আমার এই মনে বৃষ্টি আসে। তোমার চোখের শ্রাবণ ধারা আমার হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে।

মাইশা খুব মলিন একটা দৃষ্টি নিয়ে নির্লিপ্ত ভাবে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে। মাইশার ওই ছোট মনে ঝড়, বৃষ্টি আর তুফান যা কিছুই আসুক না কেন আরিয়ান ছায়ার মতো এসে তার প্রতিরোধ করে। কিন্তু মাইশার কেন যেন নিজের কাছে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। তার বারবার মনে হচ্ছে সে একটা কালবৈশাখী ঝড় যার জীবনের সাথে জড়ায় তার জীবন টাই লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

মাইশা দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁটটা কামড়ে ধরে উপচে পড়া কষ্ট থাকে ঢোক গিলে বুকের ভিতরে চাপা দিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে কিছুটা চাপা স্বরে আরিয়ান কে বলল,
" ছেড়ে দাও না আমাকে আমার মত করে। কেন জড়ালে তুমি আমাকে তোমার জীবনে আর এই পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষের সাথে। জানো তো কিছু কিছু মানুষ না ভাগ্য করে পৃথিবীতে জন্মায় না, তার ভাগ্য একটা কালবৈশাখী ঝড়ের রূপে জন্মায়। আর তার সাথে যে জড়ায় তাদের জীবন গুলাও লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এখনো সময় আছে আমাকে আমার মত করে বাঁচতে দাও নিজের জীবনটাকে নিজের মত করে সা.....

কথাটা শেষ করার আগেই আরিয়ান মাইশার মুখ চেপে ধরল। মাইশা কে বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
" আমার জীবন মরণ সব তুমি। তোমাকে ছাড়া আমার জীবন,জীবন সে তো নয়।ভালো করে শুনে রাখো তোমাকে ছাড়া এই আরিয়ান চৌধুরী নিঃস্ব।

কথাগুলো বলতে বলতে আরিয়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখগুলো মুহুর্তের মধ্যে রক্তবর্ণ ধারণ করল। ঘাড়ের রগ গুলো ওর দাঁড়িয়ে গেল।আরিয়ান মনের ভিতর একরাশ ক্ষোভ এসে জমা হয়েছে। ও নিচের ঠোঁট টা কে কামড়ে ধরে চোখ যুগল বন্ধ করে বড় করে একটা নিশ্বাস নিলো। পরক্ষণে চোখ যুগল খুলে ঠোঁটের কোণে রহস্যজনক একটা হাসি দিল।

রাফাত চলে যাবার কিছুক্ষণ পর থেকে আলিয়া সমানে রাফাত কে ফোন দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বারবার ওর ফোন নট রিচেবল বলছে। অনলাইনে অনেকগুলো টেক্সট ও করেছে কিন্তু রাফাত সেই ঘন্টাখানেক আগেই অফলাইন হয়ে গেছে এখনো অনলাইন হয় নি।আলিয়ার ভেতরটা হা হুতাশ করছে। আলিয়া মুখে দু'হাত গুঁজে অঝোরে কাঁদছে আর ভাবছে,
" কেন তুমি এমন করছ রাফাত আমার সাথে। তোমাকে ছাড়া যে আমি শেষ হয়ে যাব।

কথা গুলো ভাবতে ভাবতে আলিয়া রাফাত বলে আরো জোরে কাঁদে কেঁদে উঠলো। কিন্তু সেই কান্নার আওয়াজ আলিয়ার রুমের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেল। কারণ বদ্ধ ঘরের কান্না টা ও যে কারো কান পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখেনা।

এইদিকে সীমা সকাল থেকে ঘর বন্দী হয়ে আছে। রাগে দুঃখে আর অভিমানে সকাল থেকে এই পর্যন্ত সে কিছু খায় নি। রুবিনা বেগম ওকে অনেক খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু খাওয়াতে পারে নি। সীমা কাঁদতে কাঁদতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল।ওর হঠাৎ ঘুমের মধ্যে অনুভূত হল কেউ একজন ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে সীমার মনে হলো কেউ একজন তার ঠোঁট যুগল দিয়ে ওর কপালে তার ঠোঁটের ছোঁয়া দিল। সঙ্গে সঙ্গে চোখ মেলে তাকাল সীমা। চোখ ঘুরিয়ে দেখল তার পাশে রিয়াদ বসে আছে। সীমা ভাবলো সে হয়তো স্বপ্ন দেখছে।

অভিমানী কন্ঠে বলে উঠলো,
" কেন এইভাবে স্বপ্নের মধ্যেও আমাকে কষ্ট দিতে এসেছ। চলে যাও আমার স্বপ্ন থেকে তুমি চলে যাও। তোমাকে নিয়ে আমি আর কোন স্বপ্ন দেখতে চাই না।

সীমার এমন কথা শুনে রিয়াদ একটুও মুচকি হাসলো। পরক্ষণে সীমার দুই হাত ধরে তার এক হাতে চুমু খেয়ে বলল,
" এটা স্বপ্ন নয় এটা বাস্তব। ভালো করে তাকিয়ে দেখো, আমি তোমার কাছেই বসে আছি।

সঙ্গে সঙ্গে সীমা ধরফরিয়ে শোয়া থেকে উঠলো। দুই হাত দিয়ে নিজের দুই চোখ কচলিয়ে ভালো করে তাকালো রিয়াদের দিকে। তার জন্য মনে হচ্ছে সত্যিই সে স্বপ্ন দেখছে তাই ঘটনার আকস্মিকতা প্রমাণের জন্য নিজের হাতে চিমটি কাটল। অতঃপর সীমা বুঝতে পারল সে স্বপ্ন নয় বাস্তবে আছে।

সীমা কিছুটা কর্কশ কণ্ঠে রিয়াদকে বলল,
" আপনি এখানে কেন এসেছেন আপনি না চলে গিয়েছিলেন চোরের মত পালিয়ে গিয়ে আবার চলে এসে বীরত্ব প্রমাণ করতে চাইছেন। আপনি এই মুহূর্তে এখান থেকে চলে যান।

রিয়াদ এক গাল হেসে সীমা কে বলল,
" চলে যাবার জন্য তো আসেনি তোমাকে আমার সাথে করে আমার জীবন সঙ্গী করে নিয়ে যাবার জন্য এসেছি।

সীমা একটু তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
" ব্যাস অনেক হয়েছে আপনার এই নাটক গুলো দেখতে দেখতে আমি এখন ক্লান্ত। প্লিজ আমাকে মুক্তি দিন।

তৎক্ষণাৎ কেউ মহিলা কন্ঠে একজন দরজার সামনে থেকে বলে উঠলো,
" আমার ছেলের জীবন থেকে তোমার কোন মুক্তি নেই মা। তুমি ওর জীবনের রাজকুমারী আর সারা জীবনের জন্য ওর জীবনের রাজকুমারী করে নেবার জন্যই আমি এসেছি।

সীমার দৃষ্টি গেল দরজার দিকে। দেখল একজন অপরিচিতা মহিলা দাঁড়িয়ে আছে তার পাশে রুবিনা বেগম ও দাঁড়িয়ে আছেন। রুবিনা বেগম আর ওই মহিলাটা আস্তে আস্তে সীমার দিকে এগিয়ে আসলো। ওই মহিলাটা সীমার পাশে বসে ওর এক হাতের অনামিকায় একটা আংটি পরিয়ে দিয়ে আবেগ মাখানো কন্ঠে বলল,
" বাহ তুমি দেখতে যেমন সুন্দর তেমন লক্ষ্মী মন্ত মেয়ে। আমার ছেলে পছন্দ আছে বলতে হবে।

রুবিনা বেগম আনন্দের সহিত হেসে বললেন,
" বিয়ান সাহেবা দেখতে হবে না মেয়েটা কার। ছোটবেলা থেকে ওকে আমি নিজের মেয়ের মতো করে বড় করেছি মেয়ের মতো না ও আমার নিজের মেয়েই।

সীমা কিছুই বুঝতে পারছে না সবকিছুই যেন ওর মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। আর কে উনি আর সীমা কে আংটি ই বা পড়ালো কেন সীমার এই রকম কৌতূহল দৃষ্টি দেখে রিয়াদের মা পারুল বেগম একটু হেসে বললেন,
" তুমি মনে হয় আমাকে চিনতে পারো নি আমি তোমার জন্য যে পাগল সেই রিয়াদের মা।

সীমা ওনার পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাম দিল। পারুল বেগম সালামের উত্তর নিয়ে বললেন,
" শুধু সালামে তো আমার মন ভরছে না বাকি কাজটা দ্রুত সেরে ফেলতে হবে। কি বলেন বিয়াইন সাহেবা।

শেষ কথাটা উনিই রুবিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন। রুবিনা বেগম পারুল বেগমকে চোখ দিয়ে কিছু একটা ইশারা করলেন তারা দুজন কিছু একটা বাহানায় রুম ত্যাগ করল।

রিয়াদ সীমার অনেকটা কাছে এসে বলল,
" আমার সোনা টার মনে হয় খুব রাগ হয়েছে তাই না।রাগ করো না সোনা তোমাকে সারা জীবনের জন্য নিজের করে পাবার জন্য আর তোমাকে সারপ্রাইজ দেবার জন্য মাকে আনতে গিয়েছিলাম জান।আর কিছুক্ষণ এর তুমি আমার আর আমি তোমার।

কথা গুলো বলতে বলতে রিয়াদ ওর ঠোঁট টা সীমার ঠোঁটে ছুঁইয়ে দিলো। সীমা সঙ্গে সঙ্গে রিয়াদ কে জরিয়ে ধরে ওর টিশার্ট খামচে ধরে বলল,
" আর কোনো দিন ও আমাকে ছেড়ে যাবে না তো।

" না জান আর কোনো দিন ও তোমাকে ছেড়ে যাবো না কথা দিলাম।

অতঃপর ওদের প্রেমের অধ্যায় শুরু হল।

মাইশা আরিয়ানের কাঁধে মাথা দিয়ে আছে আরিয়ান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কখন যে মাইশা ঘুমের দেশে পাড়ি জমিয়েছে তা নিজেও জানে না। আরিয়ান খুব সাবধানে মাইশাকে কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল। ও মাইশার ঘুমন্ত মায়া ভরা মুখটার দিকে এক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাইশার কপালে ছোট একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল। অতঃপর বিড়বিড় করে বলল,
" ওর নামটা যেমন মায়া ও দেখতেও ঠিক তেমন মায়াবী। দুইজন একই রকম হলেও দুজনের মধ্যে কত তফাৎ। একজন ছিল চাঞ্চলতায় ভরা আরেকজন একদম তার উল্টো।আমি এজন্যই তো আমি এই মায়া পরীর প্রেমে পাগল হয়েছি।

চলবে.....

209 Views
5 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: