পলাশের পরিবার আস্তে আস্তে তার সিদ্ধান্তের দিকে নরম হতে শুরু করেছিল। তবে পুরোপুরি মেনে নেওয়া এখনো বাকি। পলাশের মা মাঝে মাঝে তাকে বলতেন, "তুমি যদি সত্যিই ওই মেয়েকে ভালোবাসো, তবে আমাদের মেনে নিতে হবে। কিন্তু তুমি নিশ্চিত তো, যে তুমি এই সম্পর্কের জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে পারবে?"
পলাশের মনে ছিল অনিয়ার জন্য নিখাদ ভালোবাসা। সে বুঝতে পারছিল, অনিয়া তার জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সে অনিয়াকে ছাড়া কখনোই পূর্ণ হতে পারবে না।
একদিন সকালে পলাশ তার মা-বাবার সামনে এসে বলল, "আমি বুঝেছি, জীবনে ভালোবাসার মানুষকে পেয়ে যাওয়া খুব বড় একটা পাওয়া। আমি অনিয়াকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। তাই আমি তোমাদের কাছে অনুরোধ করছি, তোমরা আমার সিদ্ধান্ত মেনে নাও। আমি জানি, এটা সহজ হবে না, কিন্তু আমি চাই তোমরা আমাকে সমর্থন করো।"
তার মা-বাবা তখন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। পরে তার বাবা ধীরে ধীরে বললেন, "তুমি যেহেতু তোমার সিদ্ধান্তে দৃঢ়, তাহলে আমরা আর বাধা দিব না। তবে মনে রেখো, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও তোমার উপর থাকবে।"
পলাশের মুখে হালকা একটা হাসি ফুটে উঠল। এতদিনের অস্থিরতা কেটে গিয়ে এবার সে নিজেকে হালকা অনুভব করল। সে জানে, তার সামনে একটা নতুন অধ্যায় অপেক্ষা করছে, আর সেই অধ্যায়ে থাকবে অনিয়া, তার জীবনের প্রিয় মানুষ।
পলাশ সেই বিকেলেই ফোন তুলে অনিয়াকে কল করল। অনিয়া ফোন ধরতেই পলাশের কণ্ঠে সেই পুরনো উচ্ছ্বাস ফিরে এলো।
"অনিয়া, আমি তোমাকে কিছু বলার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। আজ আমার পরিবারের সাথে কথা হয়েছে, এবং তারা আমাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে।"
অন্য প্রান্ত থেকে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর অনিয়া বলল, "তুমি সত্যিই তোমার পরিবারের সাথে কথা বলেছ?" তার কণ্ঠে একধরনের বিস্ময় আর স্বস্তির মিশ্রণ ছিল।
"হ্যাঁ," পলাশ উত্তর দিল, "আমি তোমার জন্য লড়াই করেছি, এবং এখন সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে। তুমি যদি রাজি থাকো, আমরা একসাথে আমাদের জীবনের পরবর্তী ধাপে যেতে পারি।"
অনিয়া তখন কিছুক্ষণ চুপ থেকে, শান্ত গলায় বলল, "আমি কখনোই ভাবিনি যে তুমি এতটা এগিয়ে আসবে। তোমার এই সাহসিকতা আমাকে আরও ভালোবাসায় বেঁধে ফেলল। আমি তোমার সাথে আছি, পলাশ।"
এই কথাগুলো শুনে পলাশের হৃদয়ে এক নতুন আনন্দের জোয়ার বইতে লাগল। সে জানত, তাদের ভালোবাসা এত বাধার পরেও সফল হয়েছে।
পলাশ আর অনিয়া মিলে তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তুলল। তাদের একসাথে জীবন শুরু করার পথটা সহজ ছিল না, কিন্তু ভালোবাসার জোরে তারা সবকিছু কাটিয়ে উঠল। পলাশের পরিবারও আস্তে আস্তে অনিয়াকে মেনে নিল, আর তাদের চারপাশের সমাজও ধীরে ধীরে স্বীকার করে নিল তাদের সম্পর্ককে।
পলাশ আর অনিয়ার জীবন যেন এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে গেল, যেখানে ভালোবাসা আর বিশ্বাস ছিল তাদের পথপ্রদর্শক।
( শেষ )।
গল্পটা এখানে শেষ করে দিলাম যারা সম্পূর্ণ গল্পটা পড়েছেন তারা কমেন্ট করে বলবেন গল্পটা কেমন হয়েছে
বেশি বেশি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন তাহলে আরো ভালো ভালো গল্প এবং কবিতা উপহার দিবো ইনশাআল্লাহ
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা (শেষ পাট )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
133
Views
4
Likes
1
Comments
5.0
Rating