অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা ( পাট ৪ )

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পলাশ পরের দিন সকালেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তার মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত ভার ছিল, তবে একই সাথে একটা দৃঢ়তাও কাজ করছিল—অনিয়ার জন্য সে তার পরিবারের সাথে কথা বলবে। ট্রেনের যাত্রাপথে, জানালার বাইরের প্রকৃতি আর পিছু ছেড়ে আসা নাল্লাপাড়ার স্মৃতি তাকে বারবার অনিয়ার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। সে জানে, একবার ঢাকায় ফিরলে তার জীবন আবার আগের মতোই ব্যস্ত হয়ে যাবে, কিন্তু অনিয়ার প্রতি তার অনুভূতি এত সহজে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

ঢাকায় পৌঁছে পলাশের মন আরও অস্থির হয়ে ওঠে। সে জানত, পরিবারের সাথে কথা বলা সহজ হবে না। তবে সেদিন সন্ধ্যায়, পলাশ তার বাবার সামনে বসে সাহস করে কথাটা তুলল।

“বাবা, আমার তোমার সাথে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে,” পলাশ বলল একটু দ্বিধা নিয়ে।

তার বাবা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে বললেন, “কী ব্যাপার, পলাশ? বলো।”

পলাশ কিছুক্ষণ থেমে থেকে বলল, “তোমরা যে মেয়েটিকে আমার জন্য পছন্দ করেছ, সে নিশ্চয়ই ভালো মেয়ে। কিন্তু... আমার মনে হয় আমি তাকে বিয়ে করতে পারব না। আমি কাউকে পছন্দ করি, বাবা। নাল্লাপাড়ায় থাকার সময় একজন মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল, আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি।”

পলাশের বাবা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলেন। তার মুখের ভাব দেখে বোঝা যাচ্ছিল না, তিনি রেগে গেছেন নাকি অন্য কিছু ভাবছেন। কিছুক্ষণ পর, তিনি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “তুমি জানো, পলাশ, বিয়ে শুধু ভালোবাসার ওপর নির্ভর করে না। পরিবার, সমাজ—সবকিছুই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তুমি কি ভেবে দেখেছ, তোমার ভালোবাসা কতটা বাস্তবসম্মত?”

পলাশ মাথা নিচু করে বলল, “হ্যাঁ বাবা, আমি ভেবেছি। আমি জানি এটা সহজ হবে না, কিন্তু আমি সত্যিই অনিয়াকে ভালোবাসি। আমি তাকে ছাড়া আমার জীবন কল্পনা করতে পারছি না।”

তার বাবা গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে বললেন, “দেখো, তুমি বড় হয়েছ, তোমার নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। কিন্তু তোমার মা-ও এটা জানে না। সে চায় তুমি আমাদের পছন্দ করা মেয়েটিকেই বিয়ে করো। তোমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সাবধানে।”

পলাশের মনের ভেতর তখন একধরনের দ্বিধা কাজ করছিল, কিন্তু সে জানত, সে তার মনের কথা লুকিয়ে রাখতে পারবে না। সে অনিয়ার জন্য লড়াই করবে—সে তার মনকে এটাই বোঝাতে চেষ্টা করল।

পরের কয়েক দিন পলাশ তার পরিবারের সাথে এই বিষয়ে কথা চালিয়ে গেল। মা শুরুতে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু ধীরে ধীরে পলাশের মনের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করতে লাগলেন। পলাশ জানে, তার পরিবারের সম্মতি পাওয়া সহজ হবে না, কিন্তু সে হাল ছাড়েনি।

অন্যদিকে, নাল্লাপাড়ায় থাকা অনিয়ার মনেও পলাশের জন্য অপেক্ষার কষ্ট বাড়ছিল। প্রতিদিন সে ভাবতো, পলাশ কি পারবে তার ভালোবাসার জন্য পরিবারের সাথে লড়াই করতে? নাকি সমাজের চাপে তাদের সম্পর্ক হারিয়ে যাবে?

(চলবে....)

157 Views
4 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: