পলাশ সারাদিন অফিসের কাজ শেষে তার হোটেলে ফিরে চুপচাপ বসে থাকে। মনের ভেতর এক অজানা টানাপোড়েন চলছে। পরিবারের ইচ্ছায় ঠিক করা বিয়ের ব্যাপারে তার কোন আপত্তি ছিল না আগে, কারণ সে কখনও কারো প্রতি এমন অনুভব করেনি। কিন্তু অনিয়া আসার পর থেকে সবকিছু যেন পাল্টে গেছে। তার মনে বারবার অনিয়ার হাসিমুখ ভেসে উঠছে, আর তার হৃদয় ধাক্কা দিচ্ছে এক অজানা প্রশ্ন— "এই সম্পর্কের পরিণতি কী?"
পরের দিন, পলাশ ইচ্ছে করেই স্কুলের সামনে দিয়ে হাঁটতে শুরু করে। ঠিক সময়মতো সে আবার অনিয়ার সাথে দেখা করে। এবার অনিয়া নিজেই তার দিকে এগিয়ে আসে।
"কেমন আছো?" অনিয়ার স্বাভাবিক প্রশ্ন, কিন্তু তার মুখে যেন আজ কিছুটা উৎকণ্ঠা ছিল।
"ভালো," পলাশ উত্তর দিলো, কিন্তু তার কণ্ঠে সেই পুরনো উচ্ছ্বাস নেই।
অনিয়া এই পরিবর্তনটা সহজেই বুঝতে পারে। "তোমার কিছু হয়েছে? তোমাকে অস্বাভাবিক লাগছে আজ।"
পলাশ একটু থমকে যায়। কিছু সময়ের জন্য সে নিজের চিন্তাগুলো গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। শেষমেশ সে বলে, "আমার ঢাকায় ফেরার সময় এসে গেছে। আর একটা বড় বিষয় আছে, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমার জন্য একজন মেয়েকে পছন্দ করা হয়েছে।"
অনিয়া চুপ করে থাকে। সে কী বলবে বুঝতে পারে না। তার মুখের হাসিটা এক মুহূর্তে ম্লান হয়ে যায়, যদিও সে সেটা পলাশকে বুঝতে দিতে চায় না। পলাশ অনিয়ার মুখের এই পরিবর্তন দেখলো, আর তার বুকটা কেমন যেন ধক করে উঠলো।
"তুমি কি তাকে বিয়ে করতে রাজি?" অনিয়া ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করে।
পলাশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর সে উত্তর দেয়, "আমি জানি না। আগে এটা নিয়ে ভাবিনি, কিন্তু এখন..." পলাশের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আটকে যায়।
এই সময়ে, অনিয়া তার চোখ তুলে পলাশের দিকে তাকায়। "তুমি যদি আমাকে কিছু বলার না চাও, সেটা ঠিক আছে। আমি চাই না তুমি কোনো অস্বস্তির মধ্যে থাকো।"
পলাশের ভেতরে তখন এক প্রচণ্ড টানাপোড়েন চলছে। সে জানে, তার মনের গভীরে অনিয়ার জন্য ভালোবাসা জন্মেছে। কিন্তু সে তার পরিবারের ইচ্ছাকেও উপেক্ষা করতে পারে না।
"তুমি কি কখনও ভাবছো, আমরা..." পলাশের কণ্ঠ আবারও থেমে যায়। সে সরাসরি কিছু বলতে পারে না। তার ভিতরে এক অজানা সংশয় কাজ করছে।
অনিয়া তখন হেসে বলে, "জীবন অনেক কঠিন, পলাশ। সব সময় সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো চলে না। তোমার পরিবার তোমার জন্য যা চেয়েছে, সেটা মেনে নিলে তোমার শান্তি আসবে যদি সেটা তুমি মনের সাথে মানিয়ে নিতে পারো। কিন্তু তুমি যদি অন্য কিছু চাও, তবে সেই সিদ্ধান্ত তোমার নিজের হবে।"
পলাশ তখন বুঝতে পারে, সে অনিয়াকে ছেড়ে যেতে চায় না। সে জীবনের এই জটিল পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু অনিয়ার প্রতি তার অনুভূতিগুলো তাকে আটকে রেখেছে।
আবারও তারা দু'জন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। পলাশের মনের ভেতর আরও অনেক কথা ছিল, কিন্তু সে কিছু বলতে পারছিল না।
(চলবে....)
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা ( পাট ২ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
138
Views
5
Likes
0
Comments
5.0
Rating