কানাডা এসেছে দুই মাস হল শীতের সিজনে এসেছি এখন গরম সিজন এসে পড়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে এসে কোন কাজ পেলাম না এখানে কোন কোম্পানি আমাকে নিতে আগ্রহী নয় এখানে যাদের চাকরি হয় যাদের শরীর দেখতে মোটা নাদুস নুদুস আমি দেখতে রোগা পাতলা তাই কোন কোম্পানি কাজে নিতে চায় না ।
প্রতি সকালে বাসে বা ট্রামে করে কাজ খুঁজতে বের হই আবার সন্ধ্যা বেলা ফিরে আসি তবে কোন কাজ জোটে না।
আজও এসেছি কাজ খুঁজতে প্রায় ৯:০০ টা বেজে গেছে আজকে বের হতে একটু দেরি হয়ে গেছে স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে আছি লাস্ট টাইম ৯ টা ১৫ তে ট্রাম পুরো ফাঁকা ফাঁকা থাকার কারণ হচ্ছে অফিস টাইম আটটা সবাই এখন অফিসে তাই এখন ট্রাম ফাকা ট্রামে উঠে পড়লাম কোথায় যাব জানিনা কাজের খোঁজ করতে করতে দুই মাস গেল বাড়িতে কত টাকা ঋণ করে এসেছি কিভাবে দেবো কাজ নেই ট্রাম চলছে ঠক ঠক করে প্রায় ঘন্টাখানেক চলার পর একটা প্রাকৃতিক দৃশ্যময় ছবির মত স্টেশনে এসে পৌঁছালো স্টেশনের চারদিক পাহাড় তার মাঝে সিঁড়ি কেটে কেটে উপরে চলে গেছে এসব দেখে ট্রাম থেকে মন চলে গেল প্রাকৃতিক মাঝে নেমে পড়লাম ট্রাম থেকে
আনমনে একটা পাহাড়ের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে শুরু করলাম মিনিট দশেক উঠার পর পাহাড়ের উপরে উঠতে সক্ষম হলাম সমতল ভূমির মতো পাহাড়ের চূড়া অনেকক্ষণ হাঁটার পর সামনে একটা বড় খাত দেখতে পেলাম সেখানে গিয়ে আর হাঁটার মত রাস্তা না পেয়ে হাঁটু গেড়ে পড়লাম বসে বসে বসে জীবনের হিসাব মিলানোর চেষ্টা করতে লাগলাম না কিছুতেই মিলছে না দুচোখ বেয়ে অযথা কেন যেন পানি করলো বুঝতে পারলাম না আমার কান্না আসছে মুখখানা হাটুর বাঁচিয়ে রেখে একটু শব্দ করে কান্না করা শুরু করলাম মনে হচ্ছে বুক ফেটে সকল দুঃখগুলো বেরিয়ে আসবে কতক্ষণ কান্না করলাম জানিনা তবে অনেকক্ষণ পরে পিছনের দিক হতে পিঠে কিছু ছোঁয়া পেলাম একি পাহাড়ের এত উপরে তো কেউ আসার কথা না ভয়ে ভয়ে মাথা গুরালাম
একজন সুন্দরী কানাডিয়ান মেয়ে fresh ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল তোমার কাছে সিগারেট হবে? কোন কিছু না ভেবে পকেট থেকে বের করে দিলাম পাশে বসে পড়ল অনেকক্ষণ পর জিজ্ঞেস করল কান্না করছিলাম কেন এত বড় মানুষ কান্না করে নাকি আর পাহাড়ের এত উপরে উঠছে কেন?
অনেকক্ষণ তার সাথে সব শেয়ার করলাম আচমকা তো সে বলল তার কোন বাড়িঘর নেই সে রাস্তার মেয়ে আমি যেন আমার সাথে থাকে থাকতে জায়গা দেই
কি করবো বুঝতে পারছিলাম না একে আমার একটা ছোট ঘর একলা থাকি এক মাসের ভাড়া বাকি তার ওপর নতুন জামেলা কি করব নিয়ে নিলাম বাসায় এসে ফ্রিজ থেকে পাউরুটি কলা দিলাম তাকে নাস্তা করার জন্য
বিকালে তাকে ঘরে রেখে কাজের খোঁজে বের হলাম অনেক খুঁজলাম কিন্তু কিছু মিললো না
ফিরে আসলাম ঘরে এসে দেখলাম বাসা ফাকা দরজাটা খোলা তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকলাম মেয়েটিকে চারদিক খুজলাম কোথাও নেই
কি ব্যাপার তার নামটাও এখনো জানা হলো না আর সে না বলে চলে গেল কেন জানি চোখে জুড়ে কান্না আসলো হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলাম আমি
এরমধ্যে দরজা নক করার শব্দ পেলাম দরজা খুলতেই দেখলাম মেয়েটি আমাকে বলল এই কি তুমি কান্না করছ কেন? আমি উত্তর দিতে পারলাম না কিন্তু মেয়েটি বুঝে নিল সাথে সাথে বলে উঠলো আমাকে খুঁজে পাওনি বলে ?
আসলে মেয়েটির সাথে দেখা হওয়ার পর আমার ভিতর কেমন যেন লাগে নিজেকে উত্তাল উত্তাল লাগে নিজেকে
পরে জানতে পারলাম সে তার জন্য মার্কেটে কাপড় কিনতে গিয়েছিল তার সাথে পরিচয় হয়নি আমি গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম তোমার নাম কি?
উত্তর দিল লিলিয়ান !!!!!
অসম্ভব সুন্দর নাম রাত হয়ে আসলো কিন্তু সমস্যা হল একটা বিছানা মানুষ দুজন তাও ছেলে মেয়ে আমি বিছানায় মধ্যে শুতে স্বস্তি বোধ হলো না লিলেন কে বললাম তুমি বিছানার শুয়ে পড়ো আমি নিচে বিছানা করে শুয়ে পড়বো কিন্তু সে অদ্ভুত উত্তর দিল সে বলল আমিও যেন তার সাথে বিছানায় ঘুমাই তাই হলো মাঝখানে একটি বালিশ রেখে শুয়ে পড়লাম সকালে খুব ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠলাম কারণ কাজের খুঁজে যেতে হবে
নাস্তা করে লিলিয়ানকে বলে কাজের খোঁজে বের হলাম ট্রাম ধরলাম কাজের খোঁজে এসে পৌছালাম এক স্টেশনে নেমে দেখলাম একটা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পেপার একটি মিট ফ্যাক্টরিতে লোক নিবে ফ্যাক্টরির ভিতরে যেতেই লাট সাহেবের রুম দেখলাম সেখানে গিয়ে আমি কাজের জন্য এসেছিস বললাম
সে বলল আমি তো তোমার মত রোগা চিকন কাজে নেই না ইচ্ছে শক্তিটা মরে গেল উনি বলল এখানে কাজ অনেক কষ্টের এত শর্তে আমিও উনাকে পিরাপিরি করতে থাকলাম উনি রাজি হলেন কিন্তু একটা শর্ত দিলেন যদি আমি একটা কন্টেইনার এক স্থান হতে অন্য স্থানে ধাক্কাইয়া নিতে পারি তাহলে উনি আমাকে চাকরিটি দিবে
আমি রাজি হলাম উনি আমাকে একটা কন্টেনারে কাছে নিয়ে গেল আমি যেটুকু ভাবছিলাম তার থেকেও দ্বিগুণ বড় যার ছয়টা চাকা একটাতে কর্মীরা হাড় থেকে গোস্ত ছাড়িয়ে রাখছে আর অন্য আরেকটা কন্টেনারে হার রাখছে আমাকে লাট সাহেব বলল গোস্তের কনটেইনার টাকে ধাক্কা দিয়ে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে এত বড় কন্টেইনার দেখে সাহস হলো না আমার যে শরীর তারপরও বাপ-দাদার রাগ মাথায় চড়লো পুরো শরীরের শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলাম কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো কন্টেনার এক ইঞ্চিও নড়লো না কর্মীরা সবাই আমাকে নিয়ে দেখলাম হাসছে নড়বে কিভাবে আমার যে শরীর আর যে কনটেইনার তাতে আকাশ-পাতাল তফাৎ ।
লাট সাহেব দেখলাম জাকারিয়া নামে একটা কর্মীকে ডাকল দেখতে মনে হচ্ছে জলহস্তি ওরে বলল কন্টেইনারটা নড়াতে বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে ধাক্কা দিল দেখলাম গড়গড় করে কন্টেনার চলে গেল
লাট সাহেব বলল দেখছো কিভাবে নাড়াতে হয় এটাকে তবে তোমাকে আমরা একমাস ট্রেনিং করাবো বেতনও দেবো তবে এক মাসের মধ্যে কাজ উন্নত করতে হবে না হলে এক মাস পর চাকরি থেকে বের করে দেব পরের দিন থেকে কাজে লেগে পড়লাম আমাকে একটা টেবিল দিল ও দুইটা কন্টেইনার দিল একটাতে গোস্ত রাখি আরেকটাতে হাড় ।
মাস প্রায় ফুরিয়ে আসলো কিন্তু কাজের কোন উন্নতি হলো না আমার লাট সাহেব এসে প্রায় হুমকি দিয়ে যায় হয়তো মাস শেষ হলে কাছ থেকে বের করে দেবে বাসায় গিয়ে সব লিলিয়ানকে খুলে বললাম
একমাস প্রায় একসাথে থাকলাম মেয়েটা অসম্ভব গোছালো সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছে মনে হচ্ছে আমার বিয়ে করা বউ কিন্তু দেখা হয়েছিল পাহাড়ের চূড়ায় সে থেকে আমার সাথে
ওকে সব খুলে বললাম ও কেমন যেন ইমোশনাল হয়ে গেলো আমি ফ্লোরে বসে ছিলাম ও বিছানায় আমার চোখে প্রায় জল চলে এসেছে হঠাৎ সে বলল সে আমার পাশে এসে বসতে চায় আমিও বাধা দিলাম না পাশে বসে একটা হাত জড়িয়ে ধরল আর কাঁধে মাথা রাখলাম মনে হচ্ছে আমার চাকরি যাওয়াতে সে আমার থেকেও দুঃখী ।
রাত কেটে সকাল হলো আমিও কাজে চলে গেলাম কাজ করছি কিন্তু কেন যেন কাজের মন বসছে না
হঠাৎ লাট সাহেব ডাকলো বুঝলাম চাকরিটা হয়তো এখনই চলে যাবে লিট সাহেব রুমে যেতে বলল বসতে আর এক কাপ কফি এনে দিল বুঝলাম না কি হচ্ছে হঠাৎ বলে উঠলো আপনার সাথে গ্রামের জমিদার মশায়ের মেয়ে দেখা করতে এসেছে
আমার সাথে আশ্চর্য আমি তো এখানে কাউকে চিনি না আর জমিদার মেয়ে এসেছে আমার সাথে দেখা করতে ভাবছিলাম মজা করছে
হঠাৎ দেখলাম লিলিয়ান রুমে প্রবেশ করছে আমাকে দেখে ইশারা দিয়ে বলল যেন চুপ থাকে সবাই দেখলাম দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছে লাট সাহেব আমাকে বলল এই ম্যাডাম আপনাকে ডেকেছে আমি ভাবতে থাকলাম লিলিয়ান তো আমাকে বলেছিল ওর কোন বাড়িঘর নাই এখন শুনি ও জমিদারের মেয়ে চিন্তার সাগরে ডুবে গেলাম হঠাৎ গোর থেকে ফিরে আসলাম এলিয়ানের ডাকে দেখি মেয়েটি কাঁদছে একি কাঁদছো কেন?
তোমার এই অবস্থা দেখে আমার ইচ্ছে করছে তোমাকে জড়িয়ে ধরি কিন্তু তোমার শরীর রক্ত এখানে এসে তুমি অনেক কষ্ট করো যাও ফ্রেশ হয়ে আসো সময় দিলাম ৫ মিনিট আমি যেন এখনো গোরে আছি কি হচ্ছে আমার সাথে আবার গোর কাটলো লাট সাহেবের ধমকে কি ব্যাপার ম্যাডাম কি বলল শুনছেন না জান ফ্রেশ হয়ে আসেন ঠিক মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে আসলাম লাট সাহেব বলল বসেন কফিটা খেয়ে নেন
আচমকা লিলিয়ান বলল কফি খাওয়া লাগবো না চলো যাই কোথায় যাব?
এত বেশি কথা বলো কেন?
আমার সাথে চলো এই বলে সবার সামনে আমার হাত ধরে টেনে বাহিরে নিয়ে আসলো বাহিরে আসতে দেখলাম কালো কালার বিশাল একটা মার্সিডিজ দাঁড়িয়ে রয়েছে
একজন ড্রাইভার দরজা খুলে দিল ভিতরে উঠে বসলাম গাড়িটা ছুটে চলল আমার অচেনা পথে পরে লিলিয়ান বলল গ্রামের জমিদার বাড়ির জামাই হতে আমি চলছি
লিলিয়ান!!!!!!
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
1.39K
Views
22
Likes
1
Comments
4.4
Rating