পলাশ তার অফিসের কাজে মফস্বল শহর নাল্লাপাড়া আসছে প্রায় তিনদিন হলো। ঢাকার কোলাহল থেকে অনেকটাই দূরে, এ শহরটা যেন প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকা এক টুকরো শান্তি। কিন্তু পলাশের মনের ভেতর এতদিনের জমে থাকা ক্লান্তি এখনো কাটেনি। তার কাজ, দায়িত্ব, আর ভবিষ্যতের চিন্তা সবকিছুই যেন তাকে এক অদ্ভুত শূন্যতায় বন্দি করে রেখেছে।
প্রতিদিন অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় একটু হেঁটে বেড়ানোর অভ্যাস আছে পলাশের। শহরের ছোট্ট পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে সে প্রায়ই দেখে স্থানীয় মানুষদের জীবনযাত্রা। একদিন, হাঁটতে হাঁটতে সে হঠাৎ থেমে যায় যখন দেখে সামনের ছোট্ট স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে। অনিয়া, স্কুলের শিক্ষিকা, সেই মেয়েটি।
অনিয়া তার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ব্যস্ত, হাসিমুখে তাদের বিদায় জানাচ্ছে। তার মুখের সারল্য আর নিখাদ ভালোবাসার অভিব্যক্তি দেখে পলাশ মুগ্ধ হয়ে যায়। সে প্রথমে ভাবলো, এটা নেহাতই একটা আকস্মিক ঘটনা। কিন্তু পলাশ জানত না, এই সামান্য মুহূর্তটিই তার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
পরের দিন অফিস থেকে ফেরার পথে আবার অনিয়াকে দেখে পলাশ। এইবার সে সাহস করে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেয়। অনিয়ার চোখে ছিল সরলতা, যা পলাশকে তার প্রতি অমোঘভাবে টেনে নিচ্ছিল। পলাশ বিনীতভাবে অনিয়ার কাছে গিয়ে বললো, "আপনি কি এই স্কুলের শিক্ষিকা?"
অনিয়া হেসে বলল, "হ্যাঁ, আমি এখানেই পড়াই। আপনি কি নতুন এখানে?"
পলাশ হেসে মাথা নাড়ল, "হ্যাঁ, অফিসের কাজে এসেছি কয়েকদিনের জন্য। এই জায়গাটা খুব সুন্দর।"
দু'জনের মধ্যে শুরু হলো ছোট্ট কথোপকথন। প্রথমে পেশাগত আলাপ, তারপর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত। পলাশ জানল, অনিয়া তার শিক্ষার্থীদের খুব ভালোবাসে এবং মফস্বলের এই জীবন তার জন্য শান্তি নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, পলাশকে দেখে মনে হচ্ছিল সে তার জীবনের জটিলতা থেকে পালিয়ে আসছে।
দিন যায়, কথোপকথন বাড়ে, এবং তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পলাশ বুঝতে পারে, তার হৃদয়ের এক গভীরে অনিয়ার জন্য কিছু একটা গড়ে উঠছে। সে এটাকে বন্ধুত্বের চেয়ে বেশি কিছু ভাবতে শুরু করে, কিন্তু দ্বিধা আর সংশয় তাকে পিছু টানছিল।
এদিকে, অনিয়ার মনেও পলাশের জন্য কিছু অনুভূতি জাগতে শুরু করে, কিন্তু সমাজের বাধা এবং নিজের পিছুটান তাকে এই সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে ভাবায়।
পলাশের অফিসের কাজ প্রায় শেষের পথে। তার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। ঠিক তখনই সে জানতে পারে, তার পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ের জন্য একটি মেয়ে ঠিক করা হয়েছে। পলাশের মনের ভেতর এক প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সে কি ঢাকায় ফিরে তার পরিবারের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে, নাকি অনিয়ার প্রতি তার আবেগকে মেনে নেবে?
(চলবে....)
অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
307
Views
6
Likes
1
Comments
5.0
Rating