প্রতারণা (৭ম পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
অশোক আর কিছু বললো না। শুধু মাথা নেড়ে নন্দিনীর কথায় সম্মতি জানাচ্ছে। কারণ এখন তো তার মনে অন্য কোনো চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। নন্দিনীর সাথে কথা বলতে বলতেই হঠাৎ করে অশোকের পিছনে এসে হাত রাখলো রতন। অশোক একটু চমকে গেলো।

রতন অশোকের ঘাড়ে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলো-" কি রে কার সাথে এখানে একা একা দাঁড়িয়ে কথা বলছিস?"

অশোক বললো-" এইতো নন্দিনীর সাথে কথা বলছিলাম আরকি।" এটা বলতেই সামনে ঘুরে দেখলো অশোকের সামনে নন্দিনী তো দূরের কথা কোনো জন মানবের চিহ্ন পর্যন্ত ছিল না। এটা দেখে তো অশোক বেশ অবাক।

ঠিক তখনই রতন বলে উঠলো-" নন্দিনী! কি রে কিসব বলছিস তুই? নেশাটেশা করেছিস নাকি? নন্দিনী আসবে কোথা থেকে?"

অশোক অবাকের স্বরে বললো-" কেন নন্দিনী কেন এখানে আসতে পারে না শুনি।"

রতন বললো-" কেন রে তুই কি জানিস না গত মাসেই তো নন্দিনী মারা যায়।কোনো এক রাতে হঠাৎ করেই নন্দিনী নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে ,শত খোঁজাখুঁজির পরেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। পুলিশ আর গ্রামের মানুষজন মিলে শত খোঁজাখুঁজির পরেও কোনো হদিস পেলো না। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর এই বট গাছের ডালেই নন্দিনীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। নন্দিনী আত্মহত্যা করেছে নাকি কেউ তাকে খুন করেছে তা আজও সবার অজানা। পুলিশও অবশেষে এটাকে আত্মহত্যার কেস বলে দায় এড়িয়ে গেছে। আর নন্দিনীর মারা যাওয়ার পরেই গ্রামে যেন মৃত্যুর তাণ্ডব শুরু হয়ে গেছে। একের পর এক খুন হয়েই চলেছে।
অবশ্য তোর এসব জানার কথাও না‌। কারণ তখন তো তুই ছিলি শহরে।
তো যাই ই হোক এবার তুইই বল - যে নন্দিনী গত মাসেই মারা গেছে সে কি করে তোর সাথে এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারে?"


রতনের মুখে এসব কথা শোনা মাত্রই যেন অশোকের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।তার চোখ মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ ফুটে উঠলো। সারা শরীর ঘেমে নেয়ে একাকার। অশোক আর একটা কথাও বলতে পারলো না। রতনের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়েই অশোক বাড়ির দিকে রওনা দেওয়া শুরু করলো।পিছন থেকে রতন বেশ কয়েকবার ডাকার পরেও অশোক আর পিছনে ফিরে না তাকিয়ে সোজা বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো। পথের মধ্য হাঁটতে হাঁটতে অশোক ভাবতে লাগলো গ্রামে আসার পর পরই তার সাথে এসব কি হচ্ছে। কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই জবাব মিললো না।

বাড়িতে এসেই অশোক তার গোপেশ কাকাকে বললো-" কাকা আজই আমি শহরে ফিরে যাবো। আর এক মুহূর্তও এই গ্রামে আমি থাকবো না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার শহরে ফেরার ব্যবস্থা করো তুমি।"

এটা বলেই অশোক নিজের রুমে গিয়ে গোছগাছ শুরু করে দিলো।

দুপুরে খাওয়ার টেবিলে খেতে বসলে গোপেশ কাকা অশোককে জানালো,যে রাত ৮:০০ টায় তার শহরে যাওয়ার ট্রেন। এমনকি সে আগে থেকেই টিকিট কিনে নিয়ে এসেছে অশোকের জন্য।
গোপেশ কাকা অশোককে জিজ্ঞেস করলো -" তা বাবা অশোক, তুমি তো এই দুদিন মাত্র হলো গ্রামে এসেছো। এতদিন পর শহর থেকে গ্রামে আসতে না আসতেই আবার চলে যাবে? দুদিন থেকে গেলেও তো পারতে।"

অশোক বললো-" কাকা সামনেই আমার ভার্সিটির পরীক্ষা তো। তাই এভাবে হঠাৎ করেই চলে যেতে হচ্ছে। এর পরের বার গ্রামে আসলে তখন না হয় বেশ কিছুদিন থেকে যাবো।"

কথাটা বলেই অশোক খাবার টেবিল থেকে উঠে হাত ধুয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

সেদিন রাতের ট্রেনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে -অশোক সন্ধ্যা সাতটার দিকেই রওনা দিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কারণ বশত হঠাৎ করেই অশোকদের গাড়িটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাকে হেঁটেই ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। তাই সাথে তার গোপেশ কাকাও কিছুদূর পর্যন্ত তাকে এগিয়ে দিয়ে আসলো। এরপর থেকে অশোক একাই পথ চলতে লাগলো।

সন্ধ্যা সাতটা যদিও খুব একটা বেশি রাত নয়। তবে তখন শীতকাল থাকায় বেলা খুব ছোট ছিল, তার ওপরে আবার গ্রামের রাস্তা পুরোটাই নির্জন জনমানবশূন্য প্রায়। চারদিকে তখন ঘোর অন্ধকারের ছায়া নেমে এসেছিলো,পুরো পরিবেশ জুড়ে ছিল কেবলই নিস্তব্ধতা।

চলবে.....
654 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: