অশোক ফোনটা তুলতেই দেখে তার গোপেশ কাকার নম্বর। ফোনটা তুলতেই অপর প্রান্ত থেকে গোপেশ কাকা বলে উঠলো- " বাবা -অশোক, এত রাত হয়ে গেলো তুমি কোথায়। শীঘ্রই বাড়ি এসো। এত রাতে গ্রামের পথে একা একা চলাফেরা করা খুব একটা নিরাপদ নয়। তাই তুমি যথাসম্ভব দ্রুত বাড়ি চলে আসো।"
পাশ থেকে নন্দিনী গোপেশ কাকার এ কথা শুনতেই বলে উঠলো-" ঠিকই তো অশোক। এত রাতে গ্রামের এই নির্জন রাস্তায় তোমার একা একা চলাফেরা না করাটাই নিরাপদ। আর তাছাড়া আমাদের গ্রামে গত মাসে যে দুটো ভয়াবহ খুন আর গত দুদিন আগে তোমার কাকাবাবুর খুন হওয়ার পর থেকে গ্রামবাসীরা এমনিতেও খুব একটা সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হয় না। তাই তোমারও তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাওয়াটাই উচিত হবে। আর এমনিতেও আমার বাড়ি তো প্রায় এসেই গেছি। তোমাকে আর আমার সাথে আসতে হবে না। তার থেকে তুমি এখনই তোমার বাড়িতে ফিরে যাও।"
কিন্তু মাঝপথে নন্দিনীকে এভাবে একা রেখে যেতে অশোকের মন চাইলো না। তবুও নন্দিনীর একগুঁয়ে জেদের কাছে হার মেনে অশোককে ফিরে যেতে হলো।
অশোক যখন বাসায় পৌঁছায় তখন দেখলো তার গোপেশ কাকা তার জন্য রাতের খাবারের আয়োজন আগে থেকেই করে রেখেছে। তাই আর দেরী না করে রাতের খাওয়া দাওয়া সেরে নিয়ে অশোক নিজের রুমে গেলো শোয়ার জন্য।
সারাদিন গ্রামে ঘুরে ঘুরে আজ সে বড়ই ক্লান্ত। তাই এত ক্লান্তির মাঝে বিছানায় শুতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো সে বুঝতেই পারলো না।
হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো অশোকের। সে চোখ খুলে দেখলো একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমে বন্দি রয়েছে সে। যখন কাউকে খোঁজার জন্য অশোক রুমটার প্রতিটা কোণায় দৃষ্টিপাত করতে লাগলো ঠিক তখনই কোনো এক ছায়ামূর্তি এসে তার সামনে দাঁড়ালো।
অবশ্য রুমটা অন্ধকার থাকায় সেই ছায়ামূর্তির মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো না। তবে অশোক এটুকু বুঝতে পারলো যে সেই ছায়ামূর্তি তাকেই ইশারা করছে যেন সে তার সাথে যায়। অশোকও যেন মন্ত্র মুগ্ধের মতো তারই দেখানো পথ অনুসরণ করতে লাগলো। সত্যি বলতে ঐ রহস্যময়ী ছায়ামূর্তি এমনভাবে অশোককে নিজের বশে করে ফেলেছিলো যে তার ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য অশোকের ছিল না।
অশোক তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে অজ্ঞাত ছায়ামূর্তিকে অনুসরণ করতে করতে গ্রামের সেই কুখ্যাত বটগাছের গোঁড়ায় এসে দাঁড়ালো। যেই বটগাছ থেকে কিনা এখন পর্যন্ত অশোকের কাকা অলোকেশ্বর রায় সহ মোট তিনজনের ঝুলন্ত মাথা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বটগাছের কাছে আসতেই সেই ছায়ামূর্তি থেমে গেলো। অশোকও তখন বটগাছটার কাছে সেই ছায়ামূর্তির দিকে নিষ্পলকভাবে তাকিয়ে রয়েছে। একটু পরেই লক্ষ্য করলো সেই ছায়ামূর্তি অশোককে হাতের ইশারা দিয়ে কিছু একটা দেখানোর চেষ্টা করছে। এটা বুঝতে পেরেই যেই না অশোক বটগাছটার মাথায় তাকালো অমনি যে ভয়ানক দৃশ্য দেখলো তাতে যে কারো পিলে চমকে যাবে।
অশোক দেখতে পেলো যে তারই খুব কাছের বন্ধু রথিনের ছিন্নভিন্ন লাশ ঝুলছে বটগাছটার প্রকাণ্ড একটা ডালে। এমনটা দেখে যেই না অশোক ভয়ে শিউরে উঠলো ঠিক তখনই সেই ছায়ামূর্তি এক বিকট অট্রহাসি হেসে উঠলো। আর বলতে লাগলো -" অশোক এবার তোমার পালা। মৃত্যুর জন্য তৈরি হও।"
এটা বলেই সেই ছায়ামূর্তি এক বিভৎস রূপ ধারণ করে অশোকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এক লাফে ঘুম থেকে উঠে বসে অশোক। অলোক চারপাশটা ভালো করে তাকিয়ে দেখলো যে সে তার রুমেই আছে। এদিকে সকালের আলোও ফুটে গেছে। তার মানে এতক্ষণ যা কিছু হয়েছে তার সবটাই ছিল অশোকের একটা দুঃস্বপ্ন।
চলবে.....
প্রতারণা (৫ম পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
574
Views
3
Likes
0
Comments
4.0
Rating