প্রতারণা (৩য় পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
এদিকে রুমের চারপাশটা আর খাটের নিচ তলা ভালো করে আরেকবার দেখে যেই না অশোক বিছানায় শুতে যাবে অমনি অশোকের এক অদ্ভুত অনুভূতি হতে শুরু করলো। এমনটা মনে হচ্ছিলো যেন ওর পিছনেই কেউ দাঁড়িয়ে যার ঠাণ্ডা নিঃশ্বাস ওর কাঁধে পড়ছে।
এবার এত রাতে এমন অদ্ভুত অনুভূতি হওয়ার কারণে অশোকের বেশ ভয় ভয় করতে শুরু করলো। তাও অনেক সাহস নিয়ে যেই না বেচারা পিছনে ফিরলো, তখনই তার বারন্দার দিকে চোখ পড়তেই দৃষ্টি সেখানেই আটকে গেলো।
অন্ধকার প্রায় রুমে অশোক দেখতে পেলো বারন্দায় কেউ একজন বাইরের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। এত রাতে কেইই বা তার রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকবে এটা ভেবে বেশ খটকা লাগলো অশোকের। আর তাছাড়াও তার রুমে কখনই বা এই অজ্ঞাত লোকটা প্রবেশ করেছে যখন কিনা সেই শুরু থেকেই তার রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল। এমন হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগলো তখন অশোকের মাথায়।
কিন্তু এর উত্তর তো কেবল সেই অজ্ঞাত লোকের কাছেই আছে। এই ভেবে যেই না অশোক সেই লোকটার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো অমনি অশোকের ঘরে থাকা অলোকেশ্বর রায়ের ছবিটা দেয়াল থেকে খুলে তার সামনে পড়লো। এটা দেখে অশোক আরো বেশি ঘাবড়ে গেলো। কারণ ঘরে এই মুহূর্তে কোনো বাতাস না থাকা সত্ত্বেও এমনি এমনি কিভাবে একটা ছবি দেয়াল থেকে নিচে পড়ে যায়? এসব দেখে অশোকের বার বার মনে হতে লাগলো এ যেন এক অজানা বিপদের পূর্বাভাস।
তবে ছবির ঘোর কাটতেই অশোক বারন্দায় তাকিয়ে দেখলো যেই ছায়ামূর্তি এতক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সেই ছায়ামূর্তিই এখন বারন্দায় থাকা চেয়ারের ওপরে বসে আছে বাইরের দিকে মুখ করে।
তবে অশোক এবার লোকটার খুব কাছাকাছি চলে গেলো। হাতে থাকা ফ্ল্যাশ লাইট নিয়ে ভয় ভয় পায়ে যেই না এগিয়ে গেলো অমনি পিছন থেকে লোকটাকে দেখে অশোকের যেন হুঁশ উড়ে গেলো। কারণ ঐ ছায়ামূর্তিটা এমনভাবে রাজকীয় কায়দায় চেয়ারে বসে আছে যেন ইনি স্বয়ং অশোকের কাকা অলোকেশ্বর রায়। অশোকের যেন মাথাই কাজ করছে না। কিছুক্ষণের জন্য যেন সমস্ত চিন্তাভাবনা থমকে গেলো।
এরপর অশোক কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে যেই না বললো-" কাকাবাবু!"
অমনি সেই ছায়ামূর্তি অশোকের দিকে মুখ ফিরে তাকালো। সেই ছায়ামূর্তির মুখ দেখে অশোকের যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেলো। কারণ অশোকের সন্দেহই ঠিক ছিল। এই ছায়ামূর্তি আর কেউ নয় , স্বয়ং অলোকেশ্বর রায়।
কিন্তু এ কি করে সম্ভব আজ সন্ধ্যায় অশোক যার শেষকৃত্য করে আসলো সেই ব্যাক্তি কিভাবে এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে? এই প্রশ্নের কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছে না অশোক। কাকাকে দেখে অশোক ভয়ার্ত কন্ঠে বললো-" কাকা তুমি এখন, এখানে কিভাবে?"
অলোকেশ্বর রায় গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন-" কেন আমি কি আসতে পারি না?"
অশোক বললো-" কিন্তু কাকা তুমিতো......." অশোকের মুখ থেকে আর কোনো আওয়াজ বের হচ্ছিলো না। তখন অশোকের নীরবতা দেখে অলোকেশ্বর রায় বলে উঠলেন -" হ্যাঁ, মারা গিয়েছি। কিন্তু তুই যদি বাঁচতে চাস তাহলে এই মুহূর্তে এই বাড়ি থেকে , এই গ্রাম থেকে চলে যা। নয়তো তোরও একই পরিণতি হবে যা আমার হয়েছে। এই গ্রামের মৃত্যুর তাণ্ডব শুরু হয়ে গেছে যার শেষ কোথায় কেউ জানে না।"
অলোকেশ্বর রায়ের এমন কথা শুনে অশোক পুরো স্তম্ভিত হয়ে গেলো। কি বলবে কিছু খুঁজে পাচ্ছে না। এদিকে অশোকের সমস্ত শরীর যেন ভয়ে জমে বরফ হয়ে যাচ্ছিলো।
এরপর ভয় কাটিয়ে উঠে যেই না অশোক তার কাকাকে কিছু বলতে যাবে, তখনই অশোক যে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হলো তা হয়তো কখনো দুঃস্বপ্নেও সে ভাবতে পারেনি। অশোক দেখলো একটু আগেই যেই কাকা তাকে সতর্কবার্তা দিচ্ছিলো সেই কাকাই এক বিভৎস রূপ ধারণ করে অশোকের দিকে এগিয়ে আসছে।
অশোক দেখলো তার কাকার আগুনে পোড়া বিভৎস ঝলসে যাওয়া মুখ আর কঙ্কাল সদৃশ চেহারা নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে তার দিকেই এগিয়ে আসছে। এমন একটা ভয়াবহ দৃশ্য দেখে অশোকের পা যেন মাটিতেই আটকে গেলো। সে শত চেষ্টার পরও সেখান থেকে এক কদমও নড়তে সক্ষম হলো না। এমনকি সাহায্য চাওয়ার জন্যেও সে কাউকে ডাকতে পারছিলো না। কারণ তার মুখ থেকে তখন কোনো আওয়াজই বের হচ্ছিলো না।
এদিকে তার কাকা যখন তার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে তখনই অশোকের হাতে থাকা ফোনের ফ্ল্যাশ লাইটটা বন্ধ হয়ে গেলো। তৎক্ষণাৎ একটা হাত এসে অশোকের গলা চেপে ধরলো। অশোক প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগলো সেই হাতটা থেকে নিস্তার পেতে। অবশেষে কোনোমতে আলোক নিজেকে সেই হাতটা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এক ছুটে এসে রুমের দরজা খুললো। দরজা খুলে দুকদম এগিয়ে যেতেই হঠাৎ হোঁচট খেয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলো অশোক ।ব্যাস তারপর আর কিছুই মনে নেই অশোকের। এরপর সবটাই যেন অন্ধকার।
চলবে.....
595
Views
3
Likes
0
Comments
4.0
Rating