প্রতারণা (২য় পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

আর গ্রামের মহাজনের এমন নৃশংস মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হতে না হতেই পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত। পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখলো গাছে ঝুলন্ত অলোকেশ্বর রায়ের মৃতদেহের পায়ের কাছেই পড়ে আছে তাঁর কাটা মাথাটা। পুলিন তৎক্ষণাৎ গাছ থেকে লাশটি নামিয়ে ময়না তদন্তের জন্য যেই না অ্যাম্বুলেন্সে উঠাতে যাবে ঠিক তখনই সেখানে এসে একটা কালো চকচকে গাড়ি থামলো। গাড়িটা থামতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি গিয়ে পড়লো সেই গাড়ি আর গাড়ির ভিতরে থাকা ব্যাক্তির ওপরে।

একটু পরেই গাড়ি থেকে নেমে আসলো কোর্ট প্যান্ট পরিহিত সাহেবের বেশে থাকা এক যুবক। আর সেই যুবক আর কেউ নয় স্বয়ং অলোকেশ্বর রায়ের আপন ভাইপো- অশোক। যেকিনা শহরে গিয়েছিলো গ্রাজুয়েশন শেষ করার উদ্দেশ্যে। কিন্তু নিজের আপন কাকার এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ শহর থেকে গ্রামে ছুটে আসে কাকাকে শেষ বারের মতো দেখার জন্য।

গাড়ি থেকে নেমেই কাকার মৃতদেহের কাছে ছুটে যায় অশোক। কাকার লাশের এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখে শিউরে ওঠে অশোক। কাকার অকাল মৃত্যুতে অশোক বেশ ভেঙ্গে পড়লো। কারণ বাবা মায়ের মৃত্যুর পর তার কাকা অলোকেশ্বরই ছিল তার সবথেকে কাছের মানুষ।আজ সেও তাকে একা করে চলে গিয়েছে বলে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসীরা মিলে অশোককে সান্ত্বনা দিতে থাকে।


এদিকে পুলিশও ততক্ষণে লাশটাকে ময়না তদন্তের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। আর তার আগে বলে যায় ময়নাতদন্তের পরই লাশটাকে অশোকের হাতে হস্তান্তর করা হবে।


এদিকে এতদিন পর যখন গ্রামে আসলো অশোক তখন কিনা সেই মানুষটাই নেই যার জন্য তাদের এত প্রভাব প্রতিপত্তি। সেদিন বিকালেই লাশটাকে ময়না তদন্তের পর হস্তান্তর করা হয় অশোকের হাতে। ভাইপো হওয়ার সুবাদে আর অলোকেশ্বর রায়ের নিঃসন্তান থাকার কারণে অশোককেই তার কাকার মুখাগ্নি থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের সমস্ত অনুষ্ঠানই সম্পন্ন করতে হয়।

সকল বিধি নিয়ম মেনে অলোকেশ্বর রায়ের শবদাহের পর তাঁর অস্থি হাতে নিয়ে শ্মশান থেকে বাড়িতে ফেরে অশোক। ফিরতে ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেলো।


সারাদিনের খাটুনি আর পরিশ্রমের পর অশোক খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লো। তাই বাড়ি ফিরতেই সে ঘুমাতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলো। এদিকে এটাই প্রথমবার যখন কিনা অশোকদের এই রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বাড়িতে আজ সে একা একা রাত্রি যাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে প্রতিবার যখন গ্রামের বাড়িতে আসতো অশোক তখন তার বাড়িতে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ লেগে থাকতো। কিন্তু যেই কিনা অশোকের আসার উপলক্ষে এতো উৎসব- অনুষ্ঠানের আয়োজন করতো আজ সেইই নেই, অর্থাৎ অশোকের কাকা অলোকেশ্বর রায়। তাছাড়া আজ দুপুরেও যে বাড়িতে লোকজনের ভিড় লেগে ছিলো, সেই বাড়িতেই এখন শ্মশানের মতো নীরবতা বিরাজ করছে। কারণ এত বড় বাড়িতে অশোক আর দু চারজন কাজের লোক ছাড়া কেউই নেই।

এসব ভাবতে ভাবতেই অশোক মন খারাপ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো তা অশোক নিজেই বুঝতে পারলো না।

হঠাৎ করেই কোনো কিছুর একটা আওয়াজ পেয়ে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় অশোকের। ঘুম ঘুম চোখে কোনোমতে ফোনটা তুলে দেখে তখন রাত প্রায় আড়াইটার কাছাকাছি। কিন্তু এত রাতে হঠাৎ ওটা কিসের আওয়াজ ছিল এটা ভাবতে ভাবতেই অশোক বিছানায় উঠে বসলো। বিছানায় বসতেই হঠাৎ করে এক দমকা বাতাসে ঘরের জানালাটা দপ্ করে খুলে গেলো। আচমকাই এমনটা হওয়াতে অশোক বেশ চমকে গেলো। কিন্তু তবুও বুকে সাহস সঞ্চয় করে বিছানার পাশে থাকা লাইটটা যেই না জ্বালাতে যাবে অমনি ইলেকট্রিসিটি চলে গেলো। ঘর এখন প্রায় অন্ধকার।
পূর্ণিমার চাঁদের আবছা আলোয় ঘরের চারপাশটা যা একটু দেখা যাচ্ছিলো এই আরকি।


অশোক তৎক্ষণাৎ হাতে থাকা ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট অন করে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। আর অনুসন্ধান করার চেষ্টা করলো হঠাৎ করেই মাঝারাতে আসা সেই আওয়াজের উৎস কোথায়। কিন্তু রাতের বেলা অন্ধকার রুমে আর ঘুম ঘুম চোখে অশোক আর কিছুই খুঁজে পেলো না। এমনকি ঐ আওয়াজটাও মাত্র একবারই শোনা গিয়েছিলো।

চলবে......
602 Views
6 Likes
0 Comments
4.8 Rating
Rate this: