প্রতারণা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

গ্রামের নাম শান্তিনগর। সুজলা-সুফলা এই গ্রামখানি যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি । তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অজানা আতঙ্ক যেন আজ গ্রামবাসীদের জন্য অভিশাপের ছায়া হয়ে নেমে এসেছে।কারণ কিছুদিন ধরে এই গ্রামে যে মৃত্যুর তাণ্ডব শুরু হয়েছে তাতে আর শান্তিনগরে শান্তির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। গত এক মাসের মধ্যে গ্রামে দু - দুটো আকস্মিক মৃত্যু ঘটে গেছে। যেটা দেখে পুরো গ্রামবাসীই আজ মৃত্যুর ভয়ে আতঙ্কিত।

অবশ্য মৃতদেহের অবস্থা দেখে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যা বলাটা ভুল হবে। কারণ গত এক মাসে যে দুটো লাশ পাওয়া গিয়েছিলো -তার দুটোই ছিল গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে থাকা বিশাল বট গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায়। তার থেকেও ভয়াবহ ব্যাপার হলো এই যে লাশ দুটোর মাথা ছিল ঠিক ঝুলন্ত দেহের পায়ের নিচে। অর্থাৎ বট গাছের গোঁড়ায়। আর লাশটার সারাটা শরীর দড়ি দিয়ে কেউ বা কারা যেন বেঁধে ঝুলিয়ে রেখেছে।

তাই স্বাভাবিকভাবে কারোরই আর বুঝতে বাকি রইলো না যে এটা কারো পরিকল্পিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কিন্তু এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হলো কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের যজ্ঞে মেতেছে আর কেনই বা এই তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে যার ভয়ে আজ পুরো গ্রামবাসী তটস্থ।

গত মাসে পাওয়া দু-দুটো লাশ উদ্ধার করার পর পুলিশ আসে গ্রামে তদন্ত করতে। কিন্তু তাতেও কোনো সুরাহা হলো না‌। পুলিশ নিজের মতো করে তদন্ত করছে আর এদিকে গ্রামবাসীরাও প্রহর গুনছে আর কারো মুণ্ডুহীন ঝুলন্ত লাশ পাওয়ার অপেক্ষায়।

সত্যি বলতে গত মাসের ঘটনার পর থেকে পুরো গ্রামেরই আবহাওয়া বদলে গিয়েছে। যেই শান্তিনগর আগে শান্তির দৃষ্টান্ত হয়ে ছিল , রাত হওয়ার সাথে সাথেই এখন সেই শান্তিনগরেই বিরাজ করছে শ্মশানের মতো ভয়াবহ নিস্তব্ধতা।এমনকি ইতিমধ্যে অনেকেই প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে যে যেখানে পারছে গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে। কারণ এক মাসের তদন্তের পরেও পুলিশ যখন আসল অপরাধীর সন্ধান পেতে ব্যর্থ হয়েছে সেখানে আর কোনো গ্রামবাসীই চাইছিলো না সেই অজ্ঞাত খুনীর পরবর্তি শিকার হতে।

এরকম অজানা আতঙ্ক নিয়েই কেটে গেলো আরো একটা মাস। তবে এই এক মাসে আর কোনো হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হতে হয়নি গ্রামবাসীকে। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত তদন্ত করে খুনি অব্দি পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি। যদিও এক মাস কেটে গিয়েছিলো তবুও গ্রামবাসীদের ভয় কিছুতেই কাটছিলো না। তাদের মনে প্রতি মুহূর্তেই যেন এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছিলো।

আর দিনশেষে গ্রামবাসীদের সেই অজানা আতঙ্কই আবার সত্যি প্রমাণিত হলো। অর্থাৎ রাতের আঁধারেই সকলের চোখের অগোচরে গ্রামে ঘটে গেলো আরও একটা নৃশংস ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। তবে এবারে তিন রাস্তার মোড়ে থাকা বট গাছে যার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হলো তার কথা গ্রামবাসীরা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।

কারণ এবার গাছে ঝুলন্ত মৃতদেহটা আর কারো নয়, এটা ছিল স্বয়ং গ্রামের মহাজন অলোকেশ্বর রায়ের। যার কথাতে গ্রামবাসী সকলেই ওঠে আর বসে, যার হুঙ্কারে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়- আজ তারই এতোটা ভয়ানক পরিণতি দেখে গ্রামবাসী সব বাকরুদ্ধ। সেই সাথে সাথে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে মৃত্যুভয়ের আতঙ্ক ‌।

চলবে.......
911 Views
8 Likes
1 Comments
4.5 Rating
Rate this: