নীলাঃ ছিঃ বাবা তুমি এতো জঘন্য । তোমাকে আমাকে বাবা বলতেও ঘৃণা হচ্ছে ।
পুষ্পঃ বাবা তোমাকে তো আমি অনেক ভালো ভাবতাম । আজ থেকে ভাববে তোমার কোনো মেয়েই নেই । আমি তোমার পরিচয়ে বাঁচতে চাই না ।
নীলাঃ আর পুষ্পঃ কিন্তু রাকিব তুমি আমাদের ধোঁকা কেন দিলে । আমরা তো তোমার কোনো ক্ষতি করি নি ।
আমিঃ আমি তোমাদের কোনো ধোঁকা দেই নি । আমি এখনো তোমাদের ভালোবাসি । কিন্তু আমি চেয়েছিলাম তোমাদের বাবা একসাথে হোক আর নিজেরাই সত্যি টা সবার সামনে প্রকাশ করুক ।
নীলাঃ আর পুষ্পঃ মানে,,,,,
আমিঃ মানে হলো আমার আম্মুর কাছ থেকে যখন শুনেছিলাম আমাদের এই অবস্থার জন্য তোমাদের বাবা দায়ী সেদিন অনেক রাগ হয়ে ছিল । ভেবেছিলাম পুরো পরিবারটাকেই এক সাথে শেষ করে দিবো । কিন্তু পরে ভাবলাম তোমাদের তো কোনো দোষ নেই তাই এই প্লান করলাম ।
নীলাঃ আর পুষ্পঃ প্লান মানে ?
আমিঃ মানে তোমার যেদিন এ*ক*সিডেন্ট হয় ওটা দু*র্ঘ*ট*না ছিলো না । আমি ইচ্ছে করে প্লান করে তোমার এ*ক*সিডেন্ট করাই আবার আমিই হসপিটালে নিয়ে যাই যাতে তোমার পরিবারের কাছে যেতে পারি আর তোমার সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে । প্রথমে আমি ভাবছিলাম শুধু মন্ত্রী আশরাফ চৌধুরীই শুধু আমার বাবার এই অবস্থার জন্য দায়ী । কিন্তু পরে জানতে পারলাম নীলার বাবা আবরার আহমেদ ও এর সাথে জড়িত । তাই আমি নীলার সাথেও ভালো সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করি । আমি জানতাম তোমাদের বাবার উইক পয়েন্ট হলো তোমরা । তাই তোমাদেরই কাজে লাগিয়ে গর্ত থেকে সাপ বের করে আনলাম । কিন্তু বিশ্বাস করো আমার ভালোবাসাটা সত্যিই ছিল তোমাদের জন্য । আমার ফিলিংস গুলো মিথ্যা নয় ।
আবরার আহমেদঃ প্লিজ আমাদের ক্ষমা করে দাও ।
আশরাফ চৌধুরীঃ আমি আর এসব ব্যবসা করবো না । আমাকেও ক্ষমা করে দাও ।
আমিঃ আপনারা ক্ষমার যোগ্য না । আপনাদের জন্য আমার বাবার ৭ টা বছর জেলে নষ্ট করেছে । আপনারা দেশের শত্রু দশের শত্রু । ড্রাগস আর নারী পাচার করে যুব সমাজ টা নষ্ট করে ফেলছেন । আপনাদের এ সমাজে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই । আপনাদের দেখে আর কেউ যেন এরকম করতে সাহস না পায় ।
তাই আমি আমার লোকদের ইশারা দিতেই সবাই একসাথে দুইজন কে গুলি করে বুক ঝাঁঝরা করে দিলো । সবাই ভয়ে স্তব্ধ লেগে গেল । আর আমি একটা কথাই বললাম সবার উদ্দেশ্যে,,,,,
আমিঃ যখনই খবর পাবো ওনাদের মতো কেউ এরকম ব্যবসা বা অন্যায় করছে করছে সেখানেই এই ডার্ক ডেভিলকে দেখতে পাবে । আর এরকম ভয়ংকর মৃ*ত্যু উপহার দিবো ।
তারপর নীলা আর পুষ্প দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো । আর বললো,,,,
নীলাঃ,,পুষ্পঃ আমাদের যদি এরপর থেকে তুমিও কষ্ট দাও তাহলে তোমার ও খবর আছে । আমরাও ডার্ক ডেভিলের বউ ।
আমিঃ তাই নাকি ।
ওরাঃ হ্যাঁ তাই ।
তারপর আমি ওদের দুজনকে আমার হেলিকপ্টারে করে বাসায় নিয়ে গেলাম । কিছু দিন পর ধুমধাম করে ওদের দুজনকেই বিয়ে করলাম ।
আজ আমার বাসর রাত । তবে অনেক নার্ভাস ফিল হচ্ছে । আমার ভয়ে পুরো দেশ কাঁপে । কিন্তু আজ আমি কাঁপছি কেন । যাইহোক পাঁচ কেজি সাহস নিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করলাম ।
প্রবেশ করেই আমার চোখ গেল বিছানার উপর ।দেখি দুজনই শুয়ে গল্প করছে । আমাকে দেখেই শোয়া থেকে বসে পড়লো । আমি এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । এখন এতো নার্ভাস হলে সারাজীবনই আমাকে নার্ভাস করে রাখবে । তাই বুকে একটু সাহস নিয়ে খাটের কাছে দাঁড়ালাম ।
দুজন ই লাজুক হয়ে ইয়া বড় ঘোমটা দিয়ে বসে আছে । আমি কিছু না বলেই বিছানার মাঝখানে শুয়ে পড়লাম । আমার শুয়ে পড়া দেখে পুষ্প বলল,,,,,,,
পুষ্পঃ ওই ওঠো বলছি ।
আমিঃ আমি এখন উঠতে পারবো না।
নীলাঃ না উঠলে তোমার উপর উঠে পড়বো কিন্তু । এখন বলো উঠবে নাকি শুয়ে থাকবে ?
তারপর আমি উঠে বসলাম । নীলা ঘোমটা নামিয়ে রাগি লুক নিয়ে আমার পাঞ্জাবি চেপে ধরলো আর বললো,,,,,,,,,
নীলাঃ গা*ধা একটা । বাসর রাতে কেউ ঘুমায় নাকি ?
আমিঃ তো কি করে ।
পুষ্পঃ আহা কচি খোকা তুমি । জানো না কি করে ।
আমিঃ না জানালে বুঝবো কেমনে (নাটক করে)
দুজন একসাথে বললো,,,,,,
দুজনঃ কেন আমাদের আদর করবা । (লজ্জা পেয়ে)
আমি আবার না জানার ভান ধরে বললাম,,,,,,
আমিঃ আদর । সেটা আবার কি জিনিস ? আর কেমনে করে ?
তারপর ওরা আমার ফাইজলামি ধরে ফেলে । আর বলে,,,,,,
পুষ্পঃ কেমনে করে তাই না,,,এই নীলা ধরতো ওর কেমনে করে ছুটাইতেছি ।
তারপর নীলা আর পুষ্প আমার সাথে যা করলো সেই দুঃখের কথা আর শুইনেন না পাঠক পাঠিকারা । শুনলে কেঁদেই ফেলবেন । বাকিটা ইতিহাস হয়ে গেল । 😜
______________//
___________//
_______//
সমাপ্ত//
_______//
___________//
______________//
কেমন লাগলো আপনাদের এই গল্পটা । আশা করি ভালোই লাগছে । আমার সাধ্য মতোই চেষ্টা করছি । সকলেই একটা করে কমেন্টস করবেন আশা করছি ।
ডার্ক ডেভিল
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
466
Views
22
Likes
1
Comments
4.5
Rating