এর পরবর্তী স্টেশনে থামতেই। অতিরিক্ত যাত্রী উঠায় ট্রেনের ভিতরে বসারও কোন জায়গা ছিল না।তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ট্রেনের ছাঁদে উঠে যাব। আর ছাদে উঠতেই শীতল বাতাসে আমাদের মনে প্রফুল্লতা চলে আসলো। খালি গলায় একটা গান ধরলাম। কিছুদূর যেতেই মধুপুর নামে একটা স্টেশনে ট্রেন থামলো।
আমরাও নেমে কিছু খেয়ে নিলাম। স্টেশন মাস্টারের থেকে জানলাম এই ট্রেম একেবারে নরসিংদী স্টেশন ব্যতীত আর কোথাও থামবে না। ১০ মিনিট দারিয়ে ট্রেন আবার ছারল। আমি ঘরির কাটার দিকে তাকিয়ে দেখি পোনে দশটা বাজে। মধুপুর স্টেশন পেরোতেই সামনে বড় এক হাওরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। আহ কি শান্তি,
মনে হচ্ছিল স্বর্গীয় সুখ, যেহেতু আমরা সবাই উপরে ছিলাম তাই সম্পর্ণ প্রকৃতিটা উপভোগ করতে পেরেছিলাম। প্রকৃতি দেখতেছিলাম তার মাঝে হঠাৎ আমার ফোন টা বেজে উঠলো, হাতে নিয়ে দেখি আম্মু ফোন করেছে, বলতেছে “কিরে বাবা আর কখন বাড়ি ফিরবি, আমার কেমন জানিনা অস্থির লাগতেছে,তুই তারাতাড়ি বাড়ি ফিরে আয় আর কনসার্টে থাকা লাগবে না " আমি আম্মু কে বললাম “মা আমি চলে আসতেছি"
হঠাৎ করে মা বলে উঠলো কিরে ট্রেনের শব্দ শোনা যাচ্ছে কেন, আমি আম্মুকে বললাম মা “গাড়ি পাই নি তাই ট্রেন দিয়ে বাড়ি ফিরতেছি"
আম্মু বললেন ট্রেন দিয়ে আসলে ত অনেকদূর ঘুরে আসতে হবে। আমি বললাম তুমি চিন্তা করো না মা, আমি চলে আসব। ফোন রেখে আবারও ওদেরকে নিয়ে গানের আসর দিলাম। প্রায় এক ঘন্টা গান করার পর আর মনে চাচ্ছিল না গান গাই। তাই সবাই মিলে দাড়িয়ে বাতাস উপভোগ করতে লাগলাম , আরেকটু গেলেই ট্রেন আমাদের গন্তব্যে পৌছাবে। আসলে ট্রেন নরসিংদী পৌছাতে ১০ ঘন্টার কথা বলা হলেও এত সময় লাগে নি।
আর সময় কাটছিল না তাই আমি ওদেরকে বললাম চল কয়েকটা ছবি তুলি, তাই মনির দারিয়ে শাহরুখ খানের পোছ দিচ্ছিল নাঈম, রবিন আর ফোরকান তাদের ফোনের ফ্লাস ধরিয়ে আলো দিচ্ছেল। আর আমি ওর ছবি তোলে দিচ্ছলাম, ওরা সবাই পিছন ফিরে তাকিয়ে ছিল আর আমি সামনের দিকে তাকিয়ে। কয়েকটা ছবি
তোলার পর পিছনর একটা তার আমাদের মাথায় ছটকা লাগে আর ওরা সবাই চার দিকে ছিটকে পড়ে যায়।
পাশে কি জানি রাখা ছিল আমি এগুলোর উপরে গিয়ে পড়ি শুধু মাথা ব্যতীত আর কোথাও কোন আঘাত পাই নি। তবে আমার মাথা থেকে প্রচুর রক্ত ক্ষরন হচ্ছিল। তখনও হাটতে পারতেছিলাম, ট্রেন চলে যাওয়ার পর তাকিয়ে দেখি আমার চার বন্ধু চারদিকে পরে রয়েছে কারো কোন সাই শব্দ নাই।
মনিরের কাছে গিয়ে দেখি তার একটা হাত আরেকটা পাঁ কাটা পড়েছে। পুরো মাথাটা থেথলে গিয়েছে। আমি বুজতে পারি মনির আর আমাদের মাঝে নেই। এদিগে আমার সমস্ত শরীর রক্তে ভরে যাচ্ছে
ইকটু পিছন ফিরতেই দেখি নাঈমের হাত পা কোনটাই নেই সবকিছু কাটা পড়েছে নাঈমও মারা গিয়েছে, রেল লাইনের ওই পাশে যেতেই দেখি রবিন আর ফোরকান একসাথে পড়ে আছে রবিনের সব কিছু ই ঠিক আছে তবে পুরো মাথাটা থেথলে গিয়েছে, আর ফোরকানের বডি মাঝ খান দিয়ে কাটা পড়েছে, এদিগে আমার রক্ত ক্ষরন ও কমছিল না ৷ আর হাটতে পারছিলাম না,
হঠাৎ চোখ মেলে দেখি আমি হাসপাতালের বেইডে।
পরিবারের সবার মুখে যেন হাসির কান্না , আম্মু কে জিজ্ঞেস করলাম তুমি কান্না করতেছ কেন, আম্মু বললেন এটা কান্না না রে বাজান এটা ছেলেকে ফিরে পাওয়ার এক অন্য রকম হাসি। আম্মুর থেকে জানতে পারি আমি তিনমাস যাবত হাসপাতালের বেইডে।
আম্মু কে জিজ্ঞেস করলাম আমার বন্ধু দের কথা আম্মু বলল তাদের কে পোস্ট মর্টেম করে পরের দিন দাফন করে দেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহ তিনক হাসপাতালে থেকে সম্পর্ণ সুস্থ হয়ে আমি বাসায় ফিরি।
তবে নিজেকে আমি সবসময় অপরাধী মনে করি, আমি যদি ওদেরকে ছবি তোলার কথা না বলতাম তাহলে হয়ত ওরা সবাই বেচে থাকত। আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও ওদের প্রত্যেকের কবর জিয়ারত করি, আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি।
[সম্পর্ণ কহিনিটি যদিও কাল্পনিক তবে নরসিংদী স্টেশনের পূর্ব দিকে আশারামপুর ও শাওরাতুলি গ্রামের মাঝা মাঝি একটা স্থানে ১৮-২৫ বছর বয়সী চার জন যুবক মারা গিয়েছে, গল্পে বলা ঠিক একই অবস্থায়, ওদের মৃত্যুর কারন আজও জানা যায় নি পারলে ওদের জন্য দোয়া করিয়েন আল্লাহ যেন তাদেরকে জান্নাত বাসী করেন ]
চার বন্ধুর মৃত্যু ( শেষ পার্ট)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
243
Views
18
Likes
2
Comments
4.3
Rating