আমি ইসহার উদ্দিন । আমার দাদু মো:মুসলেম উদ্দিন। তিনি ছিলেন এলাকার নামকড়া কবিরাজ । তিনি নাকি স্বপ্ন দেখতেন আমি দাদুর থেকেও বড় কবিরাজ হবো। কিন্তু দাদুর জীবনদ্বশায় আমি খুব ছোট থাকায় দাদুর নিজ হাতে আমাকে কবিরাজি শিখাতে পারেন নি। তবে তিনি মরে যাওয়ার সময় আমার বাবাকে নাকি বলে গিয়েছিলেন আমার যখন ১৮ বছর তিন দিন হবে সেদিন
রাতে ঠিক তিনটা বাজে তিন মিনিটে একটা স্বপ্নের মাধ্যমে নাকি আমার কবিরাজি বিদ্যা শিখা শুরু হবে। আর আমি নাকি সম্পর্ণ কবিরাজি বিদ্যা স্বপ্নের মাধ্যমেই শিখব । আর আমার কবিরাজি বিদ্যা শিখা শেষ হবে আমার বয়স যখন ২৫ বছর তিন দিন তিন ঘণ্টা তিন মিনিট হবে তখন । আর এই সম্পর্ণ কথাটা আমার বাবা
আমার থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কারন তিনি চাইতেন না আমিও আমার দাদুর মতো কবিরাজ হয়ে বড় বড় বিপদের সম্মুখীন হই। তবে আমি দাদুর ঘরের একটি পুরোনো বই পড়ার সময় এই কাহিনি টা জানতে পারি। আর হিসেব মতে আজকে রাতেই আমি এই স্বপ্ন দেখার কথা। কারন আজকে আমার আঠারো বছর তিন দিন । দিন ঘরিয়ে রাত হচ্ছে আর আমার মধ্যে অস্থিরতা বাড়তেছে।রাত এগারোটা বেজে যাচ্ছে তবুও যেন ঘুম আসছিল না।
হঠাতই দেখতে পাচ্ছি আমাকে কে যানি ডাকতেছে “ দাদু ভাই ও দাদুভাই” (তিনবার) আমি উত্তর দিলাম জি কে, তখনই পিছনে ফিরে থেকে একটি লোক বলতে লাগল। ‘তোমার বাড়ির পূর্ব ও উত্তর দিকে যে রাস্তাটা গেছে ঐ রাস্তার বেল গাছের নিচে গিয়ে দেখবা একট লোক বিপদে পড়েছে তাকে তোমার সাহায্য করতে হবে ' তখন
আমি জিজ্ঞেস করলাম আমি কীভাবে উনাকে সাহায্য করতে পারি । তখন পিছনে ফিরে থাকা লোকটি বলল তুমি ঐ বেল গাছের নিচে বসে তিনবার বলবা ”আমি মুসলেম উদ্দীন কবিরাজের নাতি "। তিনি আরো বললেন “এখানে যেতে তোমাকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হবে। তবে কোন শক্তি তোমার ক্ষতি করতে পারবে না।
তুমি তোমার দাদুর রুমের পূর্ব কোনে দেখবা একটা তাবিজ রাখা আছে ❝ এই তাবিজ সবসময় তোমার সাথে রাখবা আর যদি কখনো বড় বিপদে পড় তাহলে এই তাবিজের দিকে তাকিয়ে তিনবার চোখের পলক ফেলবে তাহলে চতুর্থবার চোখ বুজলে তুমি আবার আমার সাক্ষাৎ পাবে। আর সবশেষে বলে গেলেন আজ থেকে তোমার জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
হঠাৎ আমার ঘুম ভেংগে গেল। আর আমি ঘরির দিকে তাকিয়ে দেখি ঠিক তিনটা তিন। তখন আমার আর বুঝতে বাকি রইল না আমার কবিরাজি বিদ্যা শেখা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিছানা থেকে উঠে দাদুর রুমে গেলাম আর ইকটু খোজাখুজি করে তাবিজটা পেয়ে গেলাম। তাবিজ সাথে নিয়ে আমি বেল গাছের উদেশ্যে রওনা দিলাম। চারদিকটা ঘুটঘুটে অন্ধকার ।
মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করতে লাগল। তবুও আমি হাটতে লাগলাম। বেল গাছের কাছাকাছি যেতেই দেখলাম চারিদিকটা অনেক খানি ফর্সা হয়ে গেছে। খানিক টা বিজলির আলোর মতো। আবার অন্ধকার ও হয়ে যায়। আর ইকটু সামনে এগুতেই অনেক জোরে বাতাস আসতে লাগলো। তবে পিছনে ফিরলে আর নেই। ভয়ে ভয়ে তারপর ও এগুতে লাগলাম। হটাৎ আমার কানের কাছ দিয়ে কি জানি চলে গেল মনে হচ্ছিল,
সামনে তাকাতেই দেখি পা কাটা, বড় বড় চুল,কালো বোরকা পরিহিত একটা মহিলা পিছন ফিরে দারিয়ে রয়েছে, দেখে আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম ভাবলাম দৌর দিব, হঠাৎ স্বপ্নে আসা লোকটার কথা মনে পড়লো তিনি বলেছিলেন গাছের গোড়ায় যেতে তোমার অনেক বিপদ আসবে তবে কোন শক্তি তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। চোখ মেলে আবার সামনে এগোতে লাগলাম
তবে সামনে আর কোন কিছুই দেখতে পেলাম না,
আরেকটু আগালেই আমি বেল গাছের কছে পৌছে যাব, এক মিনিটের মতো হাটলাম তবে আর কোন বিপদের আজ পেলাম না সামনেই বেলগাছ দেখা যাচ্ছে তবে এখানে কোন কোন কিছুই নেই। আরেকটুখানি এগুতেই দেখি বেল গাছের গোড়ায় আগুন জলতেছে আর পাঁ কাটা কি জানি একটা ঘুরতেছে…
চলবে ………
পা কাটা পেত্নী
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
695
Views
40
Likes
7
Comments
3.9
Rating