মা:- তারাতাড়ি খাবার খেয়ে এনি কে আনতে যা।
রাজু:- না।
মা:- না মানে কি? বলে রাজু মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাজু ওর মায়ের রাগি চোখের দিকে।কিছুটা ভয়ে পেয়ে গেল। মুখের খাবার তারাতাড়ি গিলতে গিয়ে। গলার আটকে যাওয়ার উপক্রম হল।কোন রকমে খাবারটা গিলে
রাজু বলল- মা,বাবা কে বলনা। আমি ওই রাস্তায় এতো গাড়ির ভিতরে হাঁটতে ভয় পাই।
মা:- অপদার্থ! নন্দলাল হয়ে সারা দিন রুমে থাকবি তাই তো?
রাজু:- ঠিক আছে যাবো, এখন শান্তিতে খেতে দাও?
রাজুর মা কিছুটা রেগে বক বক করতে করতে চলে গেল।
রাজু মা অনেক বেশি রাগি মানুষ। তার কথার বাহিরে পরিবারের কারো জাওয়ার সাহস নেই। রাজু খাবার খেয়ে ওর বড় বোন এনি কে আনতে গেল।এনি গ্রামে থাকে শ্বশুড় বাড়িতে। রাজু রা বরিশাল শহরে থাকে।
রাজুর রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে। অনেক বেশি গাড়ি দেখে বুকটা ভরে দূর দূর করে কাঁপছে। একটা পড় একটা গাড়ি চলছে। রাজু অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে।কোন ফাঁকা জায়গা নেই কিভাবে রাস্তা পার হবে। ভয়ে-ভয়ে অনেক কষ্টে বোনের কাছে গেল। মনে হচ্ছে দেহে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
রাজু:-এনি আপু?
এনি:- অপদার্থ তুই আর মানুষ হবি না?
রাজু:-তুমি রেগে আছো কেন?
এনি:- ফোন বন্ধ কেন?
রাজু:- না,মানে চার্জ নেই মনে হয়।
এনি:- এখানে তিন ঘন্টা ধরে বসে আছি এখন আসছো?
রাজু:-দুলবাই আসেনি কেন?
এনি:-তার এক সপ্তাহ পর ছুটি তখন আসবে।
রাজু:- সিএনজি নিয়ে আসি?
এনি:-কেন বাসে করে যাবো
রাজু:-অনেক মানুষের ভিড়ে বাসে উঠতে সমস্যা হয়। ঠিক মতো পাওয়া যাবে না।তার চেয়ে সিএনজি ভালো হবে।
এনি:-ঠিক আছে,যা।
রাজু কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট বেলা থেকেই খুব বেশি ভিতু। তবে ভালো ছাত্র,নম্র ভদ্র, ধার্মিক ছেলে। অনেক বেশি মেধাবী তবে একটুখানি বোকা টাইপের।
রাজু দুপুরে খাবার খেয়ে রুমে শুয়ে আছে।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের দিকে তাকিয়ে রাজু হার্টবিট বেড়ে গেছে।ভয়ে শরীর ঘেমে গেছে। রাজুর ক্লাসমেট শিলা কল দিয়ে। শিলা হলো চেয়ারম্যান এর মেয়ে,ও রাজনীতি করে সাথে সবসময় দুই চারটা লোক থাকে গুন্ডা টাইপের।ওর ভাই অনেক বড় নেতা মাডার কেচ আছে অনেক গুলো।
রাজু কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা ধরে বললো.. হ্যালো কে?
শিলা:- কিরে বিড়াল তোর নাকি সাহস বেশি বেড়ে গেছে?
রাজু:- খবরদার আমাকে বিড়াল বলবি না? তাহলে কিন্তু খারাপ হবে।
শিলা:-ঐ শালা তোকে বিড়াল বলবো না তো কি বলবো? তুই তো বিড়াল মিঞ মিঞ করবি শুধু
রাজু অনেক বেশি রেগে গেল। বলল-
দেখ শিলা তুই রাজনীতি করো তাই নিজেকে কি মনে করো?
শিলা:- আরে শালা বিড়ালের মুখে তো কথা ফুটেছে। তুই তো সারাদিন ঘুরে থাকো তাই।তোর জন্য শাড়ি-ব্লাউজ, চুড়ি আর গোমড়া কিনে আনবো। তোকে নাচাবো আমাকে চিন নায়।
রাজু অনেক রেগে বলল-তুই আমাকে চিন নায়। আমি কিছু বলিনি তাই ভাবছো যা ইচ্ছা বলবি।
শিলা:- ঐ শালা! তুই আমার পিছনে ঘুর ঘুর করতি না? এক মাইরে প্রেমের ভুত পালিয়ে গেছে। তুই এখন আবার আমার ছোট বোনের পিছনে লাগছো?
রাজু:-তোর বোনটা কে? আমি যার পিছনে ইচ্ছে লাগবো তোর কি?
শিলা:- ফাস্ট ইয়ারে মিলার পিছনে ঘোরাঘুরি করো? ওরে লাভ লেটার দাও
রাজু:- আমার ইচ্ছা হয়েছে দিসি,তাতে তোর কি? তুই পারলে কিছু করিস। আমার ক্ষমতা কম নাই?
শিলা- উচ্চ স্বরে হেসে বললো তোর ক্ষমতা আছে তাই না? শালা ও আমার ছোট বোন ওর দিকে নজর দিলে তোকে কেটে কেটে ভাগ দিব।
রাজু:-ঐ কালো মেয়েটি তোর বোন?ওয়াক! তুই যেমন কালি তোর বোনও তাই। দেখলে বমি চলে আসে ওয়াক!
শিলা:-কি তুই আমারে কালা বলছো, তারপর বোনকেও তোর এতো বড় সাহস?
রাজু:-হ্যা বলছি, তুই তোর বোন না শুধু তোর বংশের সবাই কালা। তুই যা পারো করিস?
শিলা:- তুই তো আমারে চিনো? তোকে এমন ধোলাই দিব সারা জীবন মনে রাখবি।
রাজু:- তুই পারলে কিছু করিস। আমিও তোকে ছেড়ে দিব না।
রাজু ফোনটা কেটে দিয়ে এক গ্লাস পানি পান করলো। শরীর ঘেমে গেছে মনে হচ্ছে একটা সিডড় চলে গেছে ওর উপর দিয়ে।
রাজু ভাবছে রাগে অনেক কিছুই বলে দিসি। এখন কি হবে শিলা তো ছেড়ে দেয়ার মানুষ না।এক শিলা কে প্রপোজ করতে গিয়ে যে মাইর খাইছি এখন মাসে মাসে ব্যাথা করে। এবার ওর বোনকে প্রপোজ করলাম? তারপর এতো গালাগালি করলাম?
হায় আল্লাহ আমার কপালে কি আছে কে জানে?
যাই হোক কিছু দিন সাবধান থাকতে হবে।
রাজু শিলার ভয়ে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিসে। শুধু ঘরে বসে লেখাপড়া করে। বাহিরে যায় না, যদি কোন প্রয়োজন পড়ে।মাস্ক পরে ছাতা মুড়ি দিয়ে রাস্তায় বের হয়। তারপরও মনে হচ্ছে হয়তো পিছন দিক থেকে শিলা আঘাত করবে।ভয়ে শুধু মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে, জিকির করে,আর ঘরে বসে থাকে। সবাই অবাক হয়ে ভাবছে ছেলেটা হয়তো অলি -আউলিয়া হয়ে গেছে।
দরজা জানালা সুন্দর করে বন্ধ করে রাজু ঘুমিয়ে পড়লো।
হঠাৎ করে দরজা ভেঙে অনেক গুলো লোক ভিতরে প্রবেশ করলো। রাজু কে ধরে অনেক মারলো।মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ফেলছে। রাজু কে চার পাঁচটা লোক হাত পা বেঁধে। মুখের কাপড় দিয়ে নিয়ে গেল।
রাজু তাকিয়ে দেখলো একটা পুরনো রুমে তাকে চেয়ারে বসিয়ে বেঁধে রেখেছে।
কোন জানালা নাই লাল একটা বাতি জ্বলছে।
রাজু চিৎকার দিয়ে বলল-
কেউ আছো?
কোন সাড়া শব্দ নেই, আবার বলল- কেউ আছো এখানে?
হঠাৎ করেই চার পাঁচটা লোক হাতে দা ছুড়ি নিয়ে আসলো। রাজুর ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল। শিলা হাসতে হাসতে ভিতরে প্রবেশ করলো।
বলল- সালা তুই আমাকে চিনতে ভুল করেছো? আমার সাথে পাঙ্গা নিছো?
রাজু ভয়ে ভয়ে বলল-
শিলা আমি ভুল করেছি। আমাকে মাফ করে দে প্লিজ! জীবনে এমন ভুল আর হবে না।
শিলা:-তোর হাত কাটবো,তোর পা কাটাবো।
তারপর তোকে টুকরো টুকরো করে পাঙ্গাস মাছের খাবার বানাবো।
রাজু:- প্লিজ তোর পায়ে পড়ি আমাকে ছেড়ে দে। তুই আমার ধর্মের মা! আমাকে মাফ করে দে? বলে কাঁদতে শুরু করলো।
শিলা:-তুই আমাকে কালা বলছো তাই না? যা ইচ্ছা তাই বলছো? এ ওরে ধর থেরাপি দেয়
চার-পাঁচটা ছেলে ধরে অনেক মারলো।
শিলা একটা ছুড়ি দিয়ে রাজুর বুকে ঢুকিয়ে দিল। রাজু চিৎকার দিল।
রাজু চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলো পাশে কেউ নেই।অন্য একটা রুমে শুয়ে আছে । তাহলে আমি মারা গেছি? শুনেছি মানুষ মারা গেলে বেহেস্তে যায়। সেখানে অনেক বড় বড় দালান কোঠা থাকবে।
যাক বাবা শিলার ভয়ে নামাজ পড়ছিলাম।তাই এখন বেহেস্তে আছি। তাকিয়ে দেখলো এই রকমের ফ্যান আমার রুমে ছিলো। রুমটা ও আমার রুমের মতো সুন্দর।
হঠাৎ করেই তাকিয়ে দেখলো সামনে একটা মাঝ বয়সী মহিলা দাঁড়িয়ে আছে।
হাতে একটা ঝাড়ু নিয়ে। রাজু ভাবছে
ঝাড়ু দিয়ে কি করবে? বেহেস্তে কি মারে?
শুনছি মৃত্যুর পর হুর এসে সেবা যত্ন করবে।
রাজু:- এই হুড় শোন তুমি আমার জন্য এক গ্লাস দুধ নিয়ে আসো। আমি দুধ খাবো।
মহিলা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
রাজু বলল-কি তাকিয়ে আছো কেন? সারা জীবন পড়ে আছে দেখার জন্য।
এখন যা বলছি তারাতাড়ি করো?
আর শোন না, দুধ খাবো না। তুমি আমার জন্য মধু নিয়ে আসো।
মনে রাখবে তোমার কাজ হলো, সারা জীবন আমার সেবা যত্ন করা।নিজে আমার জন্য উতর্সগ করাই হলো ধর্ম।
মহিলা:- হা কি ঝাড়ু দেখছেন? আমি আপনার সারা জীবন সেবা করবো তাই না?
রাজু:- রেগে ধমক দিয়ে বললো শোন তুমি আমার হুড় আমাকে সেবা করতেই হবে।যা বলছি তারাতাড়ি করো?
মহিলা:- আমি সুর-মুর না, আমি মর্জিনা।
বলেই খালা খালা বলে চিৎকার দিল।
এনি চলে আসলো নতুন কাজের মহিলার আবার কি হলো।
এনি:- কি হয়েছে তোমার? এতো চিল্লাচিল্লি কিসের জন্য?
রাজু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
এটা কি এনি আপু? না তার মতো কোন হুড়?
আমিও কি তাকে খালা ডাকবো?
রাজু:- খালা আপনি কি হুড়? না এনি আপু?
এনি রেগে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলল-
গাধা আমি তোর বড় আপু এনি।
খালা: - আপনার ভাই পাগল হয়ে গেছে।
সেই কখন থেকে উল্টো পাল্টা বলছে।
রাজু একটা হাসি দিয়ে বলল- আপু তুমি স্বর্গ কিভাবে আসলে?
এনি: - স্বর্গে মানে? কি বলছো? তোর মাথা ঠিক আছে তো?
রাজু:-কেন আমরা তো স্বর্গে আছি।
এই দেখ আমার হুড়?বলে মর্জিনা কে ইশারা করলো।
এনি হাসি দিয়ে রাজুর কান ধরে টেনে বলল-
আরে গাধা আমরা কেউ স্বর্গে না ঘরে আছি।
এটা তোর কোন হুড়-পরী কিছু না।
রাজু:- তাহলে ওকে আগে তো কখনো দেখিনি?
খালা:- আপনার ভাইর মাথাটা শেষ। আমার মনে হয় পাগল হয়ে গেছে?
এনি:- ও আমাদের নতুন কাজের বুয়া। মর্জিনা। এখন তুই যা রুম পরিস্কার করতে দে।
রাজু একটা দির্ঘ্য নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল-
যাক বাবা এবারের মতো বাঁচা গেল। তাহলে আমি মরি নাই ।
সব কিছুই স্বপ্ন ছিলো বলে একা একা হাসছে
ভয়
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
217
Views
5
Likes
1
Comments
5.0
Rating