বইমেলা থেকে ফিরে এসে অনিয়া নিজের ঘরে বসে। হাতে নতুন বইটি, আর মনে এক ধরনের শান্তি ও স্থিতিশীলতা। এই শান্তি তার জীবনের অনেকদিনের অভাব ছিল।
অনিয়া বইটি খুলে পড়তে শুরু করে। কবিতাগুলোর মধ্যে যেন একটি নতুন উজ্জীবন আছে। প্রতিটি পংক্তি, প্রতিটি শব্দ তার মনের গভীরে পৌঁছে যায়। কবিতার ভাষা তাকে নতুন ভাবনার দিকে নিয়ে যায়।
বই পড়তে পড়তে অনিয়া অনুভব করে, জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে সে নিজের প্রকৃত সত্ত্বাকে খুঁজে পাচ্ছে। পলাশের স্মৃতি এখন অতীতের অংশ, কিন্তু তার মাধ্যমে সে অনেক কিছু শিখেছে। প্রেম, সম্পর্ক, এবং তার নিজের জন্য মূল্যবান শিক্ষা—এই সবকিছু মিলিয়ে অনিয়া নতুন করে জীবনযাপন শুরু করেছে।
একদিন, অনিয়া অফিস থেকে ফিরে এসে একটি ছোট চিঠি পায়। চিঠি তার পুরনো বন্ধু তুহিনের কাছ থেকে এসেছে, যিনি বিদেশে থাকেন। চিঠি পড়ে অনিয়া জানতে পারে, তুহিন তার নতুন কবিতার বই প্রকাশ করেছে। বইটি পাঠের জন্য অনিয়া খুবই উচ্ছ্বসিত।
চিঠির শেষে তুহিন লিখেছে, “অনিয়া, তোমার সাপোর্ট আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আশা করি, এই বইটি তোমার মন ভালো করবে। আমাদের পরবর্তীতে একসাথে বসে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ হবে। তুমি কেমন আছো, জানতে চাই।”
অনিয়া চিঠি পড়ে আনন্দিত হয়। তুহিনের বই পড়ার অপেক্ষায় সে নিজেকে উৎসাহিত করে। জীবন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে সে আরও নতুন কিছু শুরু করতে চায়।
সন্ধ্যার দিকে, অনিয়া তার পুরনো অ্যালবামগুলো বের করে দেখতে শুরু করে। পুরনো ছবি, পুরনো স্মৃতি—সব কিছু মনের ভিতর রোমন্থন করে সে বুঝতে পারে, প্রতিটি মুহূর্তই তার জীবনের একটি অংশ। সেই স্মৃতিগুলো তার জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়।
সে জানতে পারে, জীবনের প্রত্যেকটা অভিজ্ঞতা তাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। পলাশের স্মৃতি, পুরনো বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক, নতুন বইয়ের সান্নিধ্য—সব কিছু মিলিয়ে তার জীবন নতুন দিশা পাচ্ছে।
অনিয়া অনুভব করে, সে এখন নিজের জীবনের পূর্ণতা পেতে শুরু করেছে। তার সামনে নতুন সুযোগ অপেক্ষা করছে, এবং সে সেই সুযোগগুলো সাদরে গ্রহণ করবে।
এই রাতে, অনিয়া শান্তির সাথে ঘুমাতে যায়। সে জানে, ভবিষ্যতের প্রতিটি দিন তার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
দিন দিন অনিয়ার জীবন আরও সুসংহত ও আনন্দময় হয়ে উঠছে। পেশাগত জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ এবং ব্যক্তিগত জীবনে নতুন আশার আলো নিয়ে সে এগিয়ে যাচ্ছে। বই পড়া, কবিতা লেখা, এবং পুরনো বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো—এইসবেই সে তার সময় কাটাচ্ছে।
একদিন অফিসে, অনিয়া একটি মিটিংয়ের পর পরিচিত একটি মুখ দেখতে পায়—পুরনো সহকর্মী সানি। সানি এবং অনিয়া একসময় ভালো বন্ধু ছিল, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ হয়নি। সানি এসে অনিয়ার পাশে বসে।
“অনিয়া! এত দিন পরে দেখা!” সানি উল্লসিতভাবে বলে।
অনিয়া হেসে বলে, “হ্যাঁ, সানি। কেমন আছো?”
“ভালোই, ধন্যবাদ। অনেক দিন তোমার সাথে দেখা হয়নি, তাই ভাবলাম একসাথে চা খাই। তুমি কি সময় পাবে?” সানি প্রশ্ন করে।
অনিয়া সম্মতি জানায় এবং দুজন একটি ছোট কফিশপে চলে যায়। সেখানকার শান্ত পরিবেশে তারা দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলে, পুরনো স্মৃতি এবং বর্তমান জীবনের পরিবর্তনগুলো নিয়ে আলোচনা করে। সানি তাকে জানায়, সে এখন একটি নতুন ব্যবসা শুরু করেছে এবং অনিয়ার কাজের উন্নতি ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তিত।
অনিয়া অনুভব করে, সানি এবং তার সাথে পুরনো সম্পর্কের পুনঃস্থাপন তাকে নতুন ধরনের শক্তি ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেছে। পুরনো বন্ধুর সাথে পুনরায় যুক্ত হওয়া এবং নতুন কিছু আলোচনা করা তার মনের ওপর একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সানির সাথে চা শেষ করার পর, অনিয়া একটি সিদ্ধান্ত নেয়। সে আগামী কিছু সময় পুরনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করবে, যারা তাকে একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাদের সঙ্গেও পুনরায় সময় কাটানোর পরিকল্পনা করে।
বিকেল বেলায়, অনিয়া আবার তার ঘরে ফিরে আসে। সন্ধ্যার আলো ভেতরে প্রবাহিত হচ্ছে, আর সে তার নতুন কবিতার বইয়ের পৃষ্ঠাগুলি উল্টাচ্ছে। বইটির প্রতিটি কবিতা তার মনের প্রশান্তি নিয়ে আসে।
সে অনুভব করে, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়, প্রতিটি সম্পর্ক তাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। পলাশের সাথে সম্পর্কের সমাপ্তি এবং পুরনো বন্ধুদের সাথে পুনঃযোগের প্রক্রিয়া—এই সবই তার জীবনের একটি অংশ।
অনিয়া জানে, তার জীবনের প্রতিটি দিন নতুন কিছু শিখিয়ে দেয়। সে ভবিষ্যতের দিকে উন্মুখ হয়ে আছে এবং প্রতিটি সুযোগকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
রাতের গভীরে, অনিয়া জানালার পাশে বসে সপন দেখে—একটি সুন্দর, শান্ত জীবন। সে জানে, তার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় নতুন উদ্দীপনা এবং আশার আলো নিয়ে আসবে।
( চলবে...)
চিঠির গল্প ( পাঠ ৫ )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
154
Views
2
Likes
0
Comments
5.0
Rating