প্রথম প্রথম কলেজে যেতে চায় সবার মন,
মনে হয় সবার মনটাই এমন।
কলেজের বাস ছাড়ল কলেজ শুরুর কিছুদিন পর,
মায়াবী চেহারার মায়াবতীকে দেখে মনে প্রেম বাঁধল ঘর।
আমি বাঁচার স্বপ্ন দেখি যারে নিয়া,
নেমপ্লেটে তাঁর নাম লেখা তাবিয়া।
তাকে দেখে আটকে গেলাম তাঁর মায়াবী চেহারায়,
সে বাসে থাকাকালীন অতিরিক্ত কথা বলার শক্তি যেন হারায়।
তাবিয়া যেই সিটে থাকে বসে,
আমি দাঁড়িয়ে থাকি সেই সিটের পাশে।
তাবিয়া হচ্ছে রুপবতী ও মায়াবতী,
কিন্তু আমি হচ্ছে লজ্জাবতী।
সে হাসলে হাসে চাঁদ,
তার ঐ হাসিতেই আমি বরবাদ।
তাঁর সুন্দর ঐ চাহনি,
এর আগে আমি কখনো দেখেনি।
কাউকে ভালোবাসার কথা বললেই সে মজা নিবে,
সেজন্যই কি আমার মনের কথা গুলো গোপনই থাকবে।
সবসময় বন্ধুদের সাথেই চলি,
বলতে যেয়েও তাদের কে এই কথা গুলো আর না বলি।
তাঁর ঐ কালো কেশে,
চারিদিকে সুগন্ধ যায় ভেসে।
তাঁর ঐ মায়ায় পড়ে নিঃশব্দে পুড়ছে আমার হৃদয়,
বাহিরে থেকে সবাইকে বললে ভাববে এটা শুধুই অভিনয়।
আমি হলাম পরিবারের বড় ছেলে,
প্রেম পিরিতি কি আমার ভাগ্যে মেলে?
তাইতো প্রেম পিরিতি থেকে দূরে থাকি,
ভালোবাসাতে না জানলে উড়াল দেয় পাখি।
পরিবারের বড় ছেলে হয়ে বেকার থেকে খাই অনেক গালি,
তারপরও মুখে হাসি নিয়েই চলি।
মেটাতে হবে সবার আবদার,
এভাবেই বড় ছেলেদের হয় জীবন পার।
ভালোবাসা কি আমার মানাবে?
আগে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
তাকে না পেয়েও আমি পূর্ণতা পেয়েছি,
আমার সাধ্যের বাইরে গিয়ে তাকে ভালোবেসেছি।
মিথ্যা হাসি দিয়েও ভালো আছি,
তাকে আড়াল থেকেই ভালোবেসেছি।
ভালোবাসা প্রকাশ না করায় চলে গেল সে দূরে,
অথচ মন বলে সে থেকে যাবে আমার ছোট্ট কুঁড়েঘরে।
সে কি আমার মতো কালো ছেলেদের ভালোবাসা বুঝবে?
সে তো স্মাট ছেলেদের ভালোবাসাই খুঁজবে।
আমি এ কতগুলো বলি না কাউকে,
নিজের মধ্যে রাখি এই ভালোবাসা আটকে।
ভালোবাসতে কে করেছে মানা,
ভালোবাসা সবাই পায় না এটা তো সবার জানা।
পরিবারের বড় ছেলের ভালোবাসার পরিণতি দেখা যায় শেষে,
এর শাস্তি ভয়াবহ আর আসে ভয়ানক বেশে।
ভালোবাসার থেকে দূরে সরে পরিবার বাচায় আত্মসম্মান,
আবার পরিবারের কারণে প্রেমিক প্রেমিকারা দেয় পিছুটান।
সে মেহেদীর কাছে নতুন কিছু খুঁজে পায়,
আর আমি তাঁর কাছে অপরিচিতই থেকে যায়।
তাবিয়া ও মেহেদীর বেলায় পূর্নতা,
আমার বেলায় শুধু শূণ্যতা।
তবে তাবিয়া মেহেদীর প্রতি আকৃষ্ট,
এতেই আমার যত সব কষ্ট।
এখানে কারও কোন দোষ নাই,
কেননা বর্তমানে কালো মানুষের কোন দাম নাই।
কালো হয়ে ভালোবাসাটা বারন,
মন এ কথাটি করিয়ে দেয় স্মরণ।
তাবিয়া যখন গভীর রাতে গভীর ভাবে ঘুমায়,
আমি তখনও আটকে থাকি তাঁর মায়াবী চেহারায়।
তাঁর ঐ গোলাপি শুষ্ক ঠোঁটে,
আমার মন নেয় লুটে।
চোখের উপরে সে পড়ে চশমা,
তাই দেখে মিটে আমার সকল তৃষ্ণা।
কাউকে না বলে কিছু নিলে হয় চুরি,
এখন আপনারা বলেন আমি কি করি?
তাকে না বলে তাঁর মায়ায় আটকে গিয়েছি,
তাই বলে কি তাঁর ভালোবাসা পেয়েছি।
আমি তাকে ভালোবাসি গোপনে,
কারন আমার চেহারাও পড়েনা তাঁর মনে।
সে আমাকে ভালোবাসবে এটা ভেবে দেখতাম অনেক স্বপ্ন,
এখন তাকে ভালোবেসে আমার জীবণটাই বিপন্ন।
বোধহয় তাঁর কাছে নেই আমার কোনো সম্মান,
তবে কেন আমার এত অভিমান?
মস্তিষ্ক বলে, সে তোমার হলে এমন কি ক্ষতি হতো ;
মন বলে, সে আমার হলে স্মার্ট ছেলে কি আর পেত?
ভালোবাসার কথা গুলো কাউকে না বলে কি স্বস্তি পাবো?
আমি আমার ভালোবাসা কবিতায় কবিতায় রটিয়ে দিব।
এখন আমি তাদের সফল ভালোবাসা দেখি,
আর আমার ব্যর্থ ভালোবাসার কবিতা লিখি।
অপ্রকাশিত ভালোবাসা
22
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই