পর্ব ১: ছোট গ্রামের একান্নবর্তী পরিবার
মোহাম্মদ হোসেন এবং তার স্ত্রী মোমেনা বেগম একটি ছোট গ্রামে বাস করতেন। তাদের একমাত্র সন্তান ছিল নূর হোসেন, যিনি শহরে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য চলে গিয়েছিলেন। গ্রামে বয়স্ক বাবা-মায়ের সাথে থাকতেন নূরের ছোট ভাই, সোহেল, যিনি একটি ছোট চাকরি করতেন।
মোহাম্মদ হোসেন এবং মোমেনা বেগম একটি সুখী পরিবার ছিল। তারা সবসময় নূরের জন্য ভালো কিছু করার আশা করতেন, এবং নূরও তাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল।
পর্ব ২: কষ্টের শুরু
একদিন, মোমেনা বেগম হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা জানান, তার একটি জটিল রোগ হয়েছে এবং চিকিৎসা করতে হলে অনেক টাকা লাগবে। মোহাম্মদ হোসেন সবকিছু চেষ্টা করলেও, তাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না।
নূরকে ফোন করে মায়ের অসুস্থতার খবর দেওয়া হয়, কিন্তু সে তখন নিজের পড়াশোনায় এতটাই ব্যস্ত ছিল যে, তার পক্ষে বাড়িতে ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছিল না।
পর্ব ৩: এক মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত
মোমেনা বেগমের অসুস্থতার অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। মোহাম্মদ হোসেন চাষের জমি বেচে দেয় এবং গ্রামে কিছু ধার করে চেষ্টা করছিলেন মোমেনা বেগমের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, মোমেনা বেগমের অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না।
একদিন, মোমেনা বেগম নূরকে ফোন করেন এবং বলেন, "বাবা, আমি জানি তোমার জীবন কষ্টকর। আমি চাই না তোমার জন্য কোনো সমস্যা তৈরি হোক। তুমিই আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ করো।"
মোমেনা বেগমের কথায় নূর চোখের জল ফেলে দেয়। কিন্তু সে কি করতে পারবে না, সে কিছুই জানত না।
পর্ব ৪: মায়ের শেষ বিদায়
মোমেনা বেগমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি চলে আসেন। নূর অবশেষে শহর থেকে ফিরে আসে, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার মায়ের মৃত্যু তার হৃদয় ভেঙে দেয়।
মায়ের মৃত্যুর পর, নূর গ্রামে এসে বাবার পাশে বসে কাঁদতে থাকে। মোমেনা বেগমের মৃত্যু তাকে খুব কষ্ট দেয়। সে বুঝতে পারে, মায়ের ত্যাগ এবং ভালোবাসার মূল্য কখনোই মূল্যায়ন করা যায় না।
পর্ব ৫: পরিবারের পুনর্গঠন
মায়ের মৃত্যুর পর, নূর এবং সোহেল একসাথে গ্রামে বসবাস শুরু করে। তারা মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং বাবার পাশে থাকার চেষ্টা করে। নূর নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে, এবং তার মায়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রম করে।
সোহেল, নূর এবং তাদের বাবা একসাথে মায়ের জন্য একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে, যেখানে তাদের মায়ের স্মৃতি চিরকাল অম্লান থাকবে।
শেষ: মায়ের শাশ্বত ভালোবাসা
বছর কয়েক পর, নূর একটি সফল ব্যক্তি হয়ে ওঠে। কিন্তু তার মায়ের মৃত্যু এবং মায়ের জন্য ত্যাগের স্মৃতি সবসময় তার সাথে থাকে। সে জানে যে, তার মায়ের ভালোবাসা এবং ত্যাগ কখনোই ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
মায়ের স্মৃতি নূরকে তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে শক্তি যোগায়। সে তার মায়ের শিক্ষা এবং ত্যাগের প্রতি সম্মান রেখে, নিজের জীবনকে এক নতুন পথে পরিচালিত করে।
এই গল্পটি একটি মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রতি তার অগাধ ত্যাগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। এটি পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং পরিবার, ভালোবাসা, এবং ত্যাগের মর্মে পৌঁছানোর অনুভূতি প্রদান করবে।
মায়ের অম্লান ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
91
Views
1
Likes
1
Comments
5.0
Rating