পর্ব ১: অল্প বয়সের বন্ধন
নূর ইসলাম এবং তার স্ত্রী তানিয়া একটি ছোট গ্রামে বসবাস করতেন। তাদের দুই সন্তান—একটি ছেলে, রাহুল, এবং একটি মেয়ে, সুমি। নূর ইসলাম খুবই পরিশ্রমী একজন কৃষক ছিলেন। সংসারের সব দায়িত্ব তানিয়া সামলাতেন। তাদের জীবনে অনেক সুখ-দুঃখ ছিল, কিন্তু একে অপরের জন্য তাদের ভালোবাসা অটুট ছিল।
নূর ইসলাম এবং তানিয়া নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো করতে চাইতেন। রাহুল এবং সুমির পড়াশোনার জন্য তারা নিজের সমস্ত সামর্থ্য দিয়েছিলেন।
পর্ব ২: একটি দুঃসংবাদ
একদিন, তানিয়া হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, তার একটি গুরুতর রোগ ধরা পড়ে। তানিয়া কিছুটা ভালো থাকলেও, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় নূর ইসলাম তার জমি বেচে দিয়েছিলেন। কিন্তু তানিয়ার অসুস্থতা আরও খারাপ হতে থাকে।
পর্ব ৩: শেষ দিনগুলোর সংগ্রাম
রাহুল তখন শহরে পড়াশোনা করছিল। সুমি স্কুলে ছিল। তারা বাড়িতে আসার পর জানতে পারে মা অসুস্থ। রাহুল তৎক্ষণাৎ বাড়ি ফিরে আসে, কিন্তু মা’র অবস্থা দেখে সে হতবাক হয়ে যায়। তানিয়া দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলেন।
রাহুল, সুমি, এবং তাদের বাবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু রোগের প্রভাব ক্রমশ আরও গভীর হতে থাকে। রাহুল ও সুমি মায়ের বিছানার পাশে বসে কাঁদতেন, কিন্তু কিছুই করার ছিল না। তানিয়া তাদের সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন, "বাচ্চারা, আমি ভালো আছি। তোমরা চিন্তা করো না।"
পর্ব ৪: বিদায়ের সময়
তানিয়া ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। তার শেষ সময় ঘনিয়ে আসে। একদিন সন্ধ্যায়, তানিয়া অশ্রুসজল চোখে তার পরিবারের দিকে তাকিয়ে বললেন, "তোমরা আমার জন্য কষ্ট করেছো। আমার কিছু বাকি নেই। কিন্তু আমার একটাই আর্জি—একসাথে থাকো, একে অপরকে কখনো ছোড়ো না।"
তার কথা শুনে রাহুল ও সুমি আরও বেশি কাঁদতে থাকে। তারা মায়ের হাত ধরে, তাকে শেষবারের মতো আলিঙ্গন করে। তানিয়া তার সন্তানদের কাছে শেষ বিদায় নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।
পর্ব ৫: একটি নতুন শুরু
তানিয়ার মৃত্যু পরিবারের উপর একটি গভীর ছাপ রেখে যায়। রাহুল এবং সুমি বুঝতে পারে, তাদের মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসা কত বড়। তারা মা’র স্বপ্ন পূরণ করতে এবং বাবা নূর ইসলামের পাশে থেকে তাকে সাহস যোগাতে চেষ্টা করে।
নূর ইসলাম আর ছেলেমেয়েরা একসাথে থাকতে শুরু করে। তারা মায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং পরিবারের প্রতি যত্নশীল হতে প্রতিজ্ঞা করে।
শেষ: মায়ের অম্লান স্মৃতি
বছর কয়েক পর, রাহুল ও সুমি নিজেদের জীবনে সফল হয়। তারা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করে, তার স্বপ্ন অনুযায়ী সমাজে একটি পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে।
তাদের মা’র স্মৃতি তাদের জীবনকে পরিচালিত করে এবং তারা জানে যে, মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসা কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়।
---এই গল্পটি একটি মায়ের ত্যাগ এবং পরিবারের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গুণকে প্রকাশ করে। এটি পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং পরিবার, ভালোবাসা, ও ত্যাগের মূল্য সম্পর্কে গভীরভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।
মায়ের শেষ উপদেশ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
121
Views
0
Likes
0
Comments
5.0
Rating