মায়ের শাশ্বত প্রেম

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পর্ব ১: একা বৃদ্ধা

শ্রীমতি দেবী, একজন বৃদ্ধা মহিলা, যিনি একটি ছোট গ্রামে একা বাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে, রাকেশ, শহরে একটি ভাল চাকরি পেয়ে সেখানে চলে গিয়েছিল বহু বছর আগে। শ্রীমতি দেবীর স্বামী অনেক বছর আগে মারা গেছেন।

শ্রীমতি দেবী একটি ছোট pension পেতেন যা দিয়ে তার জীবন যাপন করতেন। গ্রামে তার কিছু প্রতিবেশী ছিল যারা মাঝে মাঝে তার খোঁজ নিত, কিন্তু সেভাবে কেউই তার কাছে এসে থাকত না।

পর্ব ২: ছেলে ফিরে আসা

একদিন, শ্রীমতি দেবী জানতে পারেন যে তার ছেলে রাকেশ একটি বড় কোম্পানিতে উচ্চ পদে পদোন্নতি পেয়েছে এবং খুব ব্যস্ত। তার মায়ের প্রতি আগ্রহ কমেছে বলে মনে হয়। কিন্তু, শ্রীমতি দেবী তার ছেলের জন্য খুবই গর্বিত ছিলেন এবং তার ভালোবাসা তার প্রতি অটুট ছিল।

শ্রীমতি দেবীর একটি গোপন স্বপ্ন ছিল যে, একদিন তার ছেলে তাকে দেখতে আসবে এবং তাদের একসাথে কিছু সময় কাটাবে।

পর্ব ৩: দুঃসংবাদ

একদিন, শ্রীমতি দেবী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় ডাক্তার তাকে জানান, তার একটি গুরুতর রোগ হয়েছে এবং তার চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের সাহায্য প্রয়োজন। কিন্তু শ্রীমতি দেবীর আর্থিক অবস্থার কারণে, চিকিৎসা করার ক্ষমতা ছিল না।

তিনি রাকেশকে তার অসুস্থতার খবর জানান, কিন্তু তার ছেলে খুব ব্যস্ত থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে আসতে পারেনি। শ্রীমতি দেবী জানতেন, তার ছেলের ব্যস্ততা থেকে তিনি কিছুই পরিবর্তন করতে পারবেন না।

পর্ব ৪: শেষ সময়

শ্রীমতি দেবীর অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং তিনি নিজেকে একা ও নিঃসঙ্গ মনে করতে থাকেন। তার প্রতিবেশীরা তাকে সাহায্য করতে চেষ্টা করলেও, সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না। একদিন, শ্রীমতি দেবী মৃত্যুর প্রাক্কালে তার জীবনের শেষ সময় কাটাচ্ছিলেন। তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছিল কিন্তু তার ছেলের জন্য ভালোবাসা অটুট ছিল।

রাকেশ অবশেষে এসে তার মায়ের শয্যাপাশে বসে। তার মা তাকে শেষবারের মতো দেখছেন এবং বলছেন, "আমার ছেলে, আমি তোমার জন্য গর্বিত। তুমি অনেক কিছু অর্জন করেছো। আমি জানি তুমি ব্যস্ত, কিন্তু আমি চাই তুমি সুখী থাকো।"

পর্ব ৫: নতুন উপলব্ধি

শ্রীমতি দেবীর মৃত্যুর পর, রাকেশ গভীরভাবে কষ্টে ভোগে। সে বুঝতে পারে যে, তার মায়ের জন্য সময় বের না করা কতটা কষ্টকর হতে পারে। মায়ের মৃত্যুর পর, রাকেশ নিজের জীবনকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করে।

রাকেশ একটি চ্যারিটি ফাউন্ডেশন শুরু করে, যা বৃদ্ধাদের সহায়তা করে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করে। তিনি তার মায়ের স্মৃতিতে একটি বৃদ্ধাশ্রম স্থাপন করেন যেখানে বৃদ্ধরা ভালোবাসা ও যত্নের মধ্যে থাকবেন।

শেষ: মায়ের স্মৃতির শ্রদ্ধা

রাকেশ তার মায়ের স্মৃতি সংরক্ষণ করে এবং তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেষ্টা করে। মায়ের প্রেম এবং ত্যাগ তার জীবনকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত করে এবং সে জানে যে, মায়ের ভালোবাসা চিরকাল অম্লান থাকবে।

রাকেশ বুঝতে পারে যে, জীবনের সব অর্জনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবার এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। তার মায়ের স্মৃতি তাকে এই শিক্ষা দিয়েছে এবং তাকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।

এই গল্পটি মায়ের নিঃস্বার্থ প্রেম এবং সন্তানের প্রতি তার ত্যাগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। এটি পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং পরিবার, ভালোবাসা, এবং সময়ের মূল্য সম্পর্কে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।

117 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: