মায়ের অশ্রু

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পর্ব ১: মা-ছেলের বন্ধন

মুনীর আহমেদ ছিলেন একটি ছোট গ্রামে একমাত্র প্রধান উপার্জনকারী। তার স্ত্রী মারা গিয়েছিলেন অনেক বছর আগে, আর তার একমাত্র ছেলে রুমি ছিল তার জীবনের একমাত্র সঙ্গী। মুনীর আহমেদ নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন, কিন্তু তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তার ছেলেকে সুশিক্ষিত করা।

রুমি ছিল খুব মেধাবী ছাত্র। মুনীর আহমেদ কখনো তার পড়াশোনায় কোনো কষ্ট করতে চাইতেন না। তাই নিজের সমস্ত সাধ্য নিয়ে রুমি’র পড়াশোনার খরচ চালাতেন। তিনি জানতেন, ছেলে যদি ভালো শিক্ষা পায়, তাহলে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

পর্ব ২: স্বপ্নভঙ্গ

রুমি কলেজে ভর্তি হয় এবং শহরে পড়তে চলে যায়। মুনীর আহমেদ প্রথমে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন, কিন্তু আশা ছিল যে ছেলে ভালোভাবে পড়াশোনা করবে এবং একদিন তাদের জীবন বদলে যাবে।

কলেজে যাওয়ার পর রুমি নতুন জীবনের চাপে এবং পড়াশোনার বোঝায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শহরের ব্যস্ত জীবন এবং খরচের কারণে তাকে অনেক সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তবুও, সে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ ছিল যে তার জন্য সব কিছু করেছে।

একদিন রুমি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফিরে আসে। তার একান্ত আশা ছিল যে পরীক্ষার ফল ভালো হবে এবং সে সফল হবে। কিন্তু ফলাফলে সে অত্যন্ত খারাপ রেজাল্ট পায়। এতে সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং মনে করে, মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে সে ব্যর্থ হয়েছে।

পর্ব ৩: মায়ের স্বাস্থ্য

এদিকে, মুনীর আহমেদ বাড়িতে একা ছিলেন। ছেলের প্রতি তার আশা পূরণ না হওয়ায় তিনি নিজেকে অনেক একা অনুভব করতে শুরু করেন। তাছাড়া, তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন। ছোটো রোগের জন্য চিকিৎসা করাতে না পারা এবং দারিদ্র্য তাকে আরও দুর্বল করে তুলেছিল।

মুনীর আহমেদ মায়ের অসুস্থতার কথা ছেলেকে জানায়নি। তিনি চেয়েছিলেন, রুমি তার পড়াশোনায় মনোযোগ দিবে, কারণ তার সফলতা ছিল মুনীর আহমেদের প্রধান লক্ষ্য।

পর্ব ৪: ফিরে আসা

একদিন রুমি জানতে পারে তার বাবার অসুস্থতার কথা। সে তৎক্ষণাৎ বাড়িতে ফিরে আসে এবং দেখে যে তার বাবা অনেক দুর্বল হয়ে গেছেন। মুনীর আহমেদ এখনো ছেলের মুখ দেখে হাসতে চেষ্টা করছিলেন। রুমি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। সে বুঝতে পারে, তার মায়ের অসুস্থতা তাকে জানানো হয়নি কারণ তার বাবা তার ভালোর জন্যে চিন্তা করেছিলেন।

রুমি বাবার পাশে বসে দীর্ঘ সময় কাঁদতে থাকে। তার মায়ের স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থতার জন্য সে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকে। সে সিদ্ধান্ত নেয় যে তার বাবা যতক্ষণ জীবিত থাকবেন, সে তাকে সুখী রাখবে।

পর্ব ৫: শেষ বিদায়

মুনীর আহমেদ শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। রুমি তার পাশে বসে সব সময় বাবার হাতে হাত রেখে, তাকে শান্তি দিতে চেষ্টা করে। মুনীর আহমেদের শেষ সময়ে, তার মুখে এক ধরনের শান্তির হাসি ছিল, যেন তিনি জানতে পেরেছিলেন যে তার ছেলে তার পাশে আছে এবং তার ত্যাগের মূল্য বুঝতে পেরেছে।

মুনীর আহমেদ মৃত্যুর পর, রুমি তার বাবার কবরের পাশে বসে, তার জীবনের ভুল এবং সফলতার কথা ভাবতে থাকে। সে বুঝতে পারে যে, তার বাবার ত্যাগ এবং ভালোবাসার মূল্য কিছুতেই পূরণ করা সম্ভব নয়।

রুমি প্রতিজ্ঞা করে যে সে তার বাবার শিক্ষা এবং ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাবে, এবং নিজের জীবনকে এক নতুন পথে পরিচালিত করবে।

শেষ: একটি নতুন সূচনা

রুমি বাবার মৃত্যুর পর তার বাবার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করতে শুরু করে, তবে কষ্ট এবং ভুলের শিক্ষা তার জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রেরণা হয়ে ওঠে। সে জানে, জীবনের প্রতি তার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ভালোভাবে সামলাতে সাহায্য করবে এবং তার বাবার স্মৃতিকে সম্মানিত করবে।


---এটি একটি গভীরভাবে হৃদয়স্পর্শী গল্প যা বাবার ত্যাগ, ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
102 Views
1 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: