পর্ব ১: নিঃসন্তান জুটি
অরবিন্দ এবং তসলিমা, এক মাঝবয়সী দম্পতি, এক ছোট শহরে শান্তভাবে বসবাস করতেন। তাদের জীবন ছিল শান্তিপূর্ণ কিন্তু এক বড় অভাব ছিল—তারা সন্তানের অভাবে ভুগছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি, যা তাদের মনকে কষ্টে ভরিয়ে দিয়েছিল।
অরবিন্দ একটি ছোট ব্যবসা করতেন এবং তসলিমা ঘরে বসে হালকা কাজ করতেন। তারা নিজেদের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, কিন্তু সন্তানের অভাবে তাদের জীবন কিছুটা অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছিল।
পর্ব ২: একটি নতুন আশা
একদিন, তাদের শহরে একটি নতুন শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। তসলিমা সেখানে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে এবং অরবিন্দ তাকে সমর্থন করেন। তসলিমা শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত হন এবং ধীরে ধীরে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রের স্নেহপূর্ণ মা হয়ে ওঠেন।
অরবিন্দ ও তসলিমার একটি নতুন স্বপ্ন জাগে—যদি তারা নিজের সন্তান না পায়, তবে তারা এই আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুদের ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে তাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবেন।
পর্ব ৩: একটি ছোট্ট আশীর্বাদ
একদিন, আশ্রয়কেন্দ্রে একটি সদ্যোজাত শিশু আসা শুরু করে। শিশুটির নাম ছিল রনি, এবং তার পরিবার তাকে abandonment করে চলে যায়। তসলিমা রনির সাথে একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং রনির প্রতি তার এক ধরনের মাতৃত্ব অনুভব করতে থাকে।
অরবিন্দ এবং তসলিমা রনির যত্ন নিয়ে এবং তাকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করতে শুরু করে। রনি তাদের জীবনে নতুন আশা এবং আনন্দ নিয়ে আসে। তারা রনির স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সুখ নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রচেষ্টা চালায়।
পর্ব ৪: অপ্রত্যাশিত বিপদ
একদিন, রনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান যে, রনির একটি গুরুতর রোগ রয়েছে এবং তার চিকিৎসার জন্য ব্যাপক পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। অরবিন্দ এবং তসলিমা তাদের সমস্ত সঞ্চয় এবং ঋণ নিয়ে রনির চিকিৎসার চেষ্টা চালিয়ে যায়।
তাদের জন্য এই মুহূর্তটি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তারা জানে না কীভাবে তারা রনির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করবে।
পর্ব ৫: শেষ ইচ্ছা
রনির অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হতে থাকে। একদিন, রনি তার মা-বাবার কাছে এসে বলে, “মা, বাবা, আমি জানি আমার সময় শেষ হয়ে আসছে। আমি চাই তুমি আমার স্মৃতিকে সুখে রাখো এবং অন্য শিশুরা যাতে ভালো থাকে তা নিশ্চিত করো।”
রনির শেষ কথাগুলি শুনে অরবিন্দ এবং তসলিমা গভীর শোক অনুভব করে, কিন্তু তারা রনির শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়।
পর্ব ৬: নতুন সূচনা
রনির মৃত্যুর পর, অরবিন্দ এবং তসলিমা তাদের জীবনকে একটি নতুন লক্ষ্য দেন। তারা রনির নামে একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করে যা দারিদ্র্যপীড়িত শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করে।
এই চ্যারিটি অন্যান্য শিশুর জীবনকে বদলে দিতে সহায়তা করে এবং এটি তাদের সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। অরবিন্দ এবং তসলিমার চ্যারিটি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সারা জীবন তাদের সন্তান রনির স্মৃতিকে অম্লান রাখে।
শেষ: রনির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা
অরবিন্দ এবং তসলিমা জানে যে, রনির ভালোবাসা এবং স্মৃতি তাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। তারা জানে যে, তাদের সন্তানের চিরকালীন স্মৃতি তাদের জীবনে শক্তি এবং উদ্দেশ্য প্রদান করে।
রনির স্মৃতি তাদের জীবনকে নতুন করে গড়তে সাহায্য করে এবং তারা তার ভালোবাসার চিরন্তন গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
এই গল্পটি সন্তানের অকাল মৃত্যু এবং সেই সন্তানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর গল্প। এটি পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং পরিবার, ভালোবাসা, এবং স্মৃতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।
রনির চিরকালীন আলো
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
94
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating