রাহুলের চিরন্তন আশার আলো

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পর্ব ১: সাহসী স্বপ্ন

বিক্রম ও সোনালী, এক যুবক দম্পতি, একটি ছোট গ্রামে বাস করতেন। বিক্রম একটি মেরামতকারী কর্মী এবং সোনালী একটি গৃহিণী। তাদের জীবন ছিল সাধারন, কিন্তু তাদের একটি বিশেষ স্বপ্ন ছিল—একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া এবং নিজেদের সন্তানদের উন্নত জীবনের সুযোগ দেওয়া।

তাদের একটি ছোট ছেলে, রাহুল, ছিল যিনি খুবই মেধাবী এবং সৃষ্টিশীল ছিল। রাহুলের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন প্রকৌশলী হওয়ার। বিক্রম ও সোনালী তাদের সন্তানকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চেষ্টা করছিলেন, যদিও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই সীমিত ছিল।

পর্ব ২: সাফল্যের পথে

রাহুল বিদ্যালয়ে খুবই ভালো ফলাফল করতে থাকে এবং তার শিক্ষার জন্য অনেক পুরস্কার পায়। বিক্রম ও সোনালী তার স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে এবং তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে রাহুলকে সর্বোচ্চ শিক্ষা দেয়ার চেষ্টা করে। তাদের জীবনের প্রতিটি দিন ছিল রাহুলের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার প্রচেষ্টায় ভরা।

পর্ব ৩: অপ্রত্যাশিত বিপদ

একদিন, রাহুল হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, রাহুল একটি গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং তার চিকিৎসার জন্য ব্যাপক পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। বিক্রম এবং সোনালী তাদের সমস্ত সঞ্চয় এবং ঋণ নিয়ে রাহুলের চিকিৎসা চালাতে থাকে, কিন্তু রোগের প্রগতি দ্রুত হওয়ায় তাদের চেষ্টা অনেকটাই ব্যর্থ হয়।

পর্ব ৪: শেষ আশা

রাহুলের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসকরা জানান যে, রাহুলের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। রাহুল তার মা-বাবার পাশে বসে এবং তাদের বলেন, “মা, বাবা, আমি জানি আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। কিন্তু আমি চাই তোমরা হাল ছেড়ে দিও না। আমি চাই তোমরা আমার স্মৃতিকে হাস্যোজ্জ্বলভাবে রাখো এবং অন্য শিশুদের সাহায্য করো।”

রাহুলের শেষ ইচ্ছা শোনার পর, বিক্রম ও সোনালী গভীর শোকের মধ্যে থাকলেও, তারা তার ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রতিজ্ঞা করে।

পর্ব ৫: স্মৃতির সম্মান

রাহুলের মৃত্যু পর, বিক্রম এবং সোনালী একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেন যা দরিদ্র শিশুদের চিকিৎসা এবং শিক্ষার সুযোগ প্রদান করে। তারা রাহুলের নামে এই চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করে এবং এটি সমাজে অনেক শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

বিক্রম এবং সোনালী জানেন যে, তাদের সন্তানের স্মৃতি তাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে থাকবে এবং তার স্বপ্ন পূরণের জন্য তারা নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন।

পর্ব ৬: নতুন দিশা

চ্যারিটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, বিক্রম এবং সোনালী বহু শিশুদের জীবন পরিবর্তন করতে সক্ষম হন। তারা জানেন যে, রাহুলের ভালোবাসা এবং স্মৃতি তাদের জীবনের শক্তি এবং উদ্দেশ্য প্রদান করেছে। তারা তার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে সমাজে একটি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে থাকেন।

বিক্রম ও সোনালী জানেন যে, তাদের সন্তানের স্মৃতি চিরকাল তাদের হৃদয়ে থাকবে এবং তার কাজের মাধ্যমে সমাজে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে।


---এই গল্পটি সন্তান হারানোর শোক এবং সেই সন্তানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর গল্প। এটি পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং পরিবারের ভালোবাসা, ত্যাগ, এবং স্মৃতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।

93 Views
1 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: