পর্ব ১: পুনর্মিলন
রাত তখন প্রায় দশটা। ঢাকা শহরের রাস্তা তখনও গাড়ির হর্ন আর আলোয় সরগরম। রেস্টুরেন্টের কর্নারে বসে আরিয়ান বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। তার চোখে উদ্বেগ আর উত্তেজনার মিশ্রণ। সাত বছর পর তানিয়ার সাথে আবার দেখা হবে। তখন ওরা দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত। প্রথম প্রেমের শুরুটা যেন কোনো কল্পকাহিনীর মতো ছিল। কিন্তু জীবন মাঝে ঢালপালা ফেলেছিল, আর ওরা আলাদা হয়ে গিয়েছিলো।
তানিয়া আসবে বলেছিলো। কিন্তু সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, তবুও তানিয়ার দেখা নেই। একটু পরেই দরজা খুলে এক চেনা মুখ ভেসে উঠল। তানিয়া।
আরিয়ানের হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। তানিয়া আগের চেয়েও সুন্দরী হয়েছে। শাড়িতে তাকে যেন অপূর্ব লাগছে। হাসিমুখে এগিয়ে এসে বসলো সে। তাদের চোখে চোখ পড়তেই যেন পুরোনো স্মৃতিরা ভিড় করে এলো।
তানিয়া হেসে বলল, "কি খবর আরিয়ান? এত বছর পরে দেখা, কোন দিক থেকে শুরু করবো?"
আরিয়ান একটু থেমে বলল, "শুরু থেকেই শুরু করা যাক।"
দুজনের মধ্যে কথার আদান-প্রদান হতে থাকে। তারা নিজেদের আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণ, জীবনের পরিবর্তনগুলো আর পুরোনো স্মৃতিগুলো নিয়ে কথা বলে। সময়ের সাথে সাথে তারা বুঝতে পারে, হয়তো তারা আলাদা হয়েছিলো, কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু ছিল যা কখনোই মুছে যায়নি।
পর্ব ২: পুরোনো স্মৃতি
পরেরদিন সকালে আরিয়ান জানালার ধারে বসে ছিল, হাতে এক কাপ কফি। তানিয়ার সাথে গত রাতের কথোপকথন যেন এখনো তার মনে প্রতিধ্বনি তুলছে। তানিয়া বলেছিল, "কিছু সম্পর্ক কখনোই হারায় না, শুধু সময়ের সাথে সাথে নতুন রূপ নেয়।"
আরিয়ানের মন বারবার সেই পুরোনো দিনের দিকে ফিরে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দিনগুলো, ক্লাস শেষে তানিয়ার সাথে হাঁটা, ক্যাম্পাসের গাছতলার আড্ডা, আর রাত জেগে ফোনে কথা বলা—সবকিছু যেন সিনেমার মতো মনে পড়ছিলো।
তারা একসাথে কত স্বপ্ন দেখেছিল, কত পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তারপর, বাস্তবতার টানে ওদের পথ আলাদা হয়ে যায়। আরিয়ান বিদেশে পড়তে চলে যায়, আর তানিয়া ঢাকায় থেকে যায়। তাদের দূরত্ব শুধু ভৌগলিক নয়, মানসিকও হয়ে উঠেছিলো।
কিন্তু তানিয়ার সাথে গত রাতের দেখা আর কথাগুলো যেন সেই পুরোনো ভালোবাসাকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তুলেছিলো।
পর্ব ৩: নতুন শুরু
কয়েকদিন পর, তানিয়া আর আরিয়ান আবার দেখা করল। এবার তারা একটু শান্তিতে কথা বলার জন্য শহরের বাইরে এক ছোট্ট রিসোর্টে গেলো। রিসোর্টটি সবুজের মাঝে অবস্থিত, পাখির কিচিরমিচির আর নদীর মৃদু কলধ্বনি যেন পরিবেশটাকে আরও মায়াবী করে তুলেছিল।
তারা দুজনেই জানত যে তাদের মধ্যে যা কিছু ছিল, তা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। হয়তো সময়ের সাথে সেটা কিছুটা বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসা তখনও গভীর ছিল।
তানিয়া একটু চুপ থেকে বলল, "আরিয়ান, আমরা কি আবার শুরু করতে পারি?"
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরছিল। তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? পুরোনো ভুলগুলো কি আবার হবে?
কিন্তু সে বুঝতে পারল, জীবনে সবকিছু আগের মতো থাকে না। মানুষ বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়। তবে একটাই জিনিস থাকে—ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসাই তাদেরকে আবার একসাথে টেনে এনেছে।
আরিয়ান হেসে বলল, "হয়তো আমরা পারবো। যদি আমরা আবার শুরু করি, তবে এবার আমরা আরও ভালোভাবে করবো।"
তানিয়া মৃদু হাসল। "তাহলে, আবার নতুন করে শুরু করা যাক," সে বলল।
পর্ব ৪: ভবিষ্যতের দিকচক্রবাল
আরিয়ান আর তানিয়া আবার নিজেদের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এবার তারা আগের মতো অতিরিক্ত কল্পনায় ভেসে না গিয়ে বাস্তবতার মাটিতে পা রেখে চলতে শিখল। তাদের মধ্যে ভালোবাসা ছিল, কিন্তু এবার সেই ভালোবাসার সাথে ছিল বোঝাপড়া, ধৈর্য, আর বিশ্বাস।
তারা দুজনে মিলে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে শুরু করল। আগের মতো কোন তাড়াহুড়ো নয়, শুধু একসাথে চলার প্রতিজ্ঞা।
তাদের এই যাত্রা হয়তো সহজ হবে না, কিন্তু তারা জানে যে ভালোবাসা আর বিশ্বাস থাকলে সবকিছু সম্ভব।
---
শেষ পর্বে:
তানিয়া আর আরিয়ানের এই যাত্রা চলতে থাকবে। তারা একসাথে নতুন নতুন অধ্যায়ে পা রাখবে, আর সেই প্রতিটি অধ্যায় হবে নতুন গল্পের সূচনা।
প্রেমের আগমন (সিজন ২)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
244
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating