ছোট থেকে বড় হয়েছি
আমি কখনোই দেখেনি,
বাবার মুখে আনন্দের হাসি ।
শুধু দেখেছি, দুঃখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হাসি।
বাবা খুব ভোরে কাজে বেরোতেন,
ফিরতেন সন্ধা বেলা।
বাবার কোনো আনন্দ নেই। বাবা খুব রাগী স্বভাবের ছিলেন।
বাবার মুখে মুখে জবাব দেওয়ার সাহস আমাদের নেই। বাবার সাথে কথা বললেই,
আমার ভেতরে ভয়ে কাজ করত।
ঈদে বাবা আমাদের নতুন কাপড় কিনে দিতেন
কিন্তু, আমি বাবার গায়ে কখনোই নতুন কাপড় দেখেনি।
ঈদের দিনে বাবাকে প্রশ্ন করলাম!
বাবা, তুমি আমাদেরকে নতুন কাপড় কিনে দাও,
তুমি কেন নতুন কাপড় পড় না?
বাবা জবাবে বললেন
সন্তান - সন্তানীর মুখে হাসি ফুটানো একটি বাবার কর্তব্য।
আমার তো অনেক কাপড় আছে।
জবাবে বাবাকে বললাম!
কোথায়, তোমার কাপড় তো অনেক পুরোনো।
ভয়ে ভয়ে বাবাকে অনেক কিছু বলে ফেললাম।
হয়তো,
আমার জীবনের এটাই প্রথম প্রশ্ন বাবাকে!
ছোটবেলা বাবার কাছে কত কিছুই না বায়না দরতাম।
ছোটবেলা টাকার সমস্যাটা আমি বুঝতাম না।
যখন যা বায়না দরতাম তখন তাই আমাকে দিতে হত।
আমাদের পরিবারের বড় ছেলে ছিল না।
আমাদের পরিবারের বড় তিন মেয়ে,
ছোট দুই ভাই।
আমার বড় বোনের সপ্ন আমার বাবার মুখ উজ্জ্বল
করবে।
আমাদেরকে পড়াশোনা করানোর মতো টাকা বাবার কাছে নেই।
ছোটকাল থেকেই আপুর পড়াশোনার খরচ আপু নিজেই চালাতেন।
বড় হয়ে আমার আপু হলেন একজন নার্স।
সেদিন প্রথম বার আমার বাবার মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।
বড় হয়ে আমরা তিনবোনই চাকরী করি,
বাবার মুখে শুধু আনন্দের হাসি ।
হয়তো আমাদের কাছে থাকার সমটা বাবার নেই।
বছর খানেক পরে বাবা চলে গেলেন পরপারে।
বাবার হাডির রেখা ফুটে ওঠে আমাদের মুখে।
বাবা, বাবা, বাবা
মিথ্যাবাদী বাবা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
166
Views
3
Likes
3
Comments
5.0
Rating