সূর্যের শেষ আলো

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পর্ব ১: ছোট্ট সূর্য

সূর্য ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা, অমল, একজন ছোট্ট দোকানদার ছিলেন এবং তার মা, মীরা, গৃহিণী। সূর্যের বয়স মাত্র দশ বছর, এবং সে ছিল পরিবারের সব আনন্দের উৎস। তার হাসি, তার ছোট ছোট দুষ্টুমি সবই ছিল তার বাবা-মায়ের জীবনের প্রাণ।

অমল ও মীরার আর্থিক অবস্থা ভাল না হলেও, তারা সূর্যকে ভালোভাবে মানুষ করার জন্য সবকিছু করতেন। তারা তার পড়াশোনার দিকে খুব মনোযোগী ছিলেন এবং চেয়েছিলেন যে সূর্য বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হোক।

পর্ব ২: একদিনের দুর্ভাগ্য

একদিন সূর্য স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে অমল এবং মীরা ভেবেছিলেন যে, হয়তো সাধারণ কোনো অসুখ। কিন্তু যখন সূর্য জ্বর থেকে সেরে উঠছিল না, তখন তারা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

ডাক্তার পরীক্ষার পর জানান যে, সূর্যের একটি দুরারোগ্য অসুখ ধরা পড়েছে এবং তার চিকিৎসা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। অমল এবং মীরা নিজেদের সব সঞ্চয় নিয়ে ছুটে যান, কিন্তু চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।

পর্ব ৩: ত্যাগের শুরু

অমল তার দোকান বন্ধ করে দেন এবং সূর্যের চিকিৎসার জন্য দিন-রাত কাজ করতে শুরু করেন। মীরা নিজের গয়না বিক্রি করে এবং আরও ঋণ নিয়ে ছেলের চিকিৎসার চেষ্টা চালাতে থাকে। সূর্যও বুঝতে পারে যে তার বাবা-মা তার জন্য কত কষ্ট করছেন।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সূর্যের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। প্রতিদিন তার বাবা-মা তার মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে বাঁচানোর জন্য যা কিছু সম্ভব তা করতে থাকেন, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সূর্যের অসুস্থতা দিন দিন বেড়ে যায়।

পর্ব ৪: সূর্যের শেষ ইচ্ছা

একদিন, সূর্য তার মা-বাবার কাছে এসে বলে, “মা, বাবা, আমি তোমাদের কষ্ট দেখতে পারি না। তোমরা আমার জন্য এত কিছু করেছো, আমি চাই তোমরা সুখী থাকো। যদি আমি ভালো না হই, তবুও তোমরা সবসময় হাসবে, ঠিক আছে?”

অমল এবং মীরা কাঁদতে কাঁদতে তাকে জড়িয়ে ধরেন। সূর্য জানতো, তার সময় ফুরিয়ে আসছে, কিন্তু সে তার বাবা-মায়ের মুখে আবার হাসি দেখতে চাইছিল।

পর্ব ৫: চিরবিদায়

কিছুদিন পর, সূর্য শেষবারের মতো শ্বাস নেয়। তার মা-বাবা তার পাশে বসে ছিল, কাঁদছিল কিন্তু কিছুই করতে পারছিল না। তারা তাদের সন্তানকে বাঁচানোর জন্য সবকিছু করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই নিষ্ঠুর অসুখ তাদের ভালোবাসার কাছে হার মানেনি।

সূর্য চলে যাওয়ার পর, অমল এবং মীরার জীবন শূন্য হয়ে যায়। তাদের বাড়ির প্রতিটি কোণায় সূর্যের স্মৃতি ছড়িয়ে ছিল, এবং তার স্মৃতিতে তারা কাঁদতে থাকত।

পর্ব ৬: সূর্যের আলো

অমল এবং মীরা তাদের ছেলের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে একটি ছোট প্রতিষ্ঠান খোলেন, যেখানে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করা হয়। তারা সূর্যের নামেই সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখেন।

তারা জানতেন যে সূর্য তাদের শারীরিকভাবে ছেড়ে চলে গেছে, কিন্তু তার ভালোবাসা এবং স্মৃতি তাদের জীবনে চিরকাল বেঁচে থাকবে। সূর্যের কথা ভেবে তারা নতুন করে বাঁচার শক্তি খুঁজে পেলেন এবং তার স্মৃতিতে সমাজে ভালো কাজ করতে শুরু করলেন।


---এই গল্পটি বাবা-মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং সন্তানের জন্য তাদের ত্যাগের করুণ কাহিনী। এটি পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে এবং ভালোবাসার মূল্য ও জীবনসংগ্রামের গভীরতা উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।
120 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: