বাক্সবন্দী স্মৃতি (১৪ তম পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সেদিন রাতেই পড়ালেখা শেষ করে যখন ফেসবুক ঘাঁটতে বসলাম তখনই মোবাইলে একটা নোটিফিকেশন চলে আসলো। নোটিফিকেশনটা দেখে আমিতো রীতিমতো অবাক। এ যেন মেঘ না চাইতেই জল।

আসলে নোটিফিকেশনটা ছিলো অয়ন্তির জন্মদিনের। দেখলাম আগামীকাল অয়ন্তির জন্মদিন। মনে মনে খুব খুশি হলাম আর ভাবলাম কাল জন্মদিনের দিনই অয়ন্তিকে আমার মনের সব কথাগুলো বলে দেবো, সেই সাথে সাথে ওর থেকে ক্ষমাও চেয়ে নেবো ওকে এতদিন কষ্ট দেওয়ার জন্য।

তবে কাল যেহেতু অয়ন্তির জন্মদিন তাই ওর জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফটের প্লানিং করতে লাগলাম আর সেই সাথে সাথে অপেক্ষায় রইলাম আজ রাত ঠিক ১২:০১ এর সাথে সাথেই অয়ন্তিকে তার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবো।

তবে অয়ন্তিকে তার বার্থডে গিফট হিসেবে কি দেওয়া যায় সেই ভাবনা ভাবতে গিয়েই পড়লাম মহাবিপদে। কারণ কিছুতেই কিছু মাথায় আসছিলো না তখন। যেটাই ভাবছি পরোক্ষণে সেটাই আবার আমার মত হচ্ছিলো না।

এদিকে অয়ন্তিকে বার্থডে উইশ করবো বলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অধীর আগ্রহে রাত ১২:০০ বাজার অপেক্ষা করতে লাগলাম। ঠিক যখন ১১:৫৯ তখনই আমি অয়ন্তিকে ফোন দিলাম। কিন্তু এতটাই দুর্ভাগ্য আমার যে বেশ কয়েকবার অয়ন্তিকে ফোন করার পরেও তার ফোন বন্ধ পেলাম। এদিকে তখন ১২:০৫ তখনও অয়ন্তিকে ফোন দিয়ে যাচ্ছিলাম -হয়তো এবারই সে আমার ফোন ধরবে এই আশায়। কিন্তু আবারো অয়ন্তি আমাকে নিরাশ করে দিয়ে আমার ফোন ধরলো না‌।

অবশেষে আবারো আশাহত হয়ে ঘুমাতে গেলাম এই সান্ত্বনা নিয়ে যে - আজ রাতে উইশ করতে পারিনি তো কি হয়েছে আগামীকাল ক্লাসে যখন অয়ন্তির সাথে দেখা হবে তখনই তাকে বার্থডে উইশের সাথে সাথে স্পেশাল বার্থডে গিফটাও দেবো‌। বার্থডে গিফট পেয়ে হয়তো তার অভিমানের পাহাড় সরে গেলেও যেতে পারে। আর আমাদের ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান ঘটবে।

সেদিন রাতে এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়ি তা নিজেই টের পেলাম না‌ । পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলো মায়ের ডাকাডাকি শুনে। মায়ের আওয়াজ কানে আসতেই ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে বিছানায় বসে চোখ মুছতে লাগলাম।
তখনই চোখ পড়লো দেয়ালে থাকা ঘড়িটার দিকে। দেখলাম সকাল সাড়ে সাতটা বাজে।

হঠাৎ করেই আবার মনে পড়ে গেলো আজ তো অয়ন্তির জন্মদিন। আর আজ ক্লাসে ওর সাথে দেখা হওয়ার পর ওকে বার্থডে উইশ করে কি গিফট দেবো সেটা তো এখনও ভেবেই পেলাম না। মাথায় আবারো একরাশ চিন্তা নিয়ে বাথরুমের দিকে রওনা হলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য। এরপর স্কুল ড্রেস পড়ে রেডি হতে না হতেই মায়ের ডাক আসলো সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য।

আমি স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে খাবার টেবিলে এসে উপস্থিত । কিন্তু মন পড়ে আছে অয়ন্তির বার্থডে গিফট কি দেবো সেই চিন্তায় ‌। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনোমতে দুটো খেয়েই বেরিয়ে পড়লাম ক্লাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।


ক্লাসে যাওয়ার পথে বড় রাস্তায় ওঠার ঠিক আগের মোড়টাতেই দেখলাম একজন মধ্যবয়স্ক লোক ব্যাগ হাতে কিছু একটা নিয়ে ডাস্টবিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর এদিকে-ওদিকে বার বার তাকাচ্ছিলো যে কেউ তাকে দেখেছে কিনা। তখনকার ফাঁকা রাস্তায় কেবল আমি আর ঐ মধ্যবয়স্ক লোকই ছিলাম যদিও আমি তার দৃষ্টিতে পড়িনি তখন। তাই আড়াল থেকেই লোকটার ভাবগতি বোঝার চেষ্টা করছিলাম।

একটু পর দেখি লোকটা হাতে থাকা ব্যাগটা ডাস্টবিনের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে চলে গেলো। এদিকে আমি তখন ফাঁকা রাস্তায় একা একা ডাস্টবিনের কাছে গিয়ে দেখলাম ব্যাগটা তখনও পড়ে আছে ডাস্টবিনের পাশে। একটু ভালো করে তাকাতেই লক্ষ্য করলাম ব্যাগটা যেন নড়ে উঠলো। এটা দেখে আমি একটু অবাক হলাম আর কৌতূহলবশত ব্যাগটা খুলে - এর ভিতরে কি আছে সেটা দেখার খুব ইচ্ছা হলো।

চলবে......
323 Views
7 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: