পরদিন সকাল হতে না হতেই আমি অয়ন্তিকে আরো কয়েকবার ফোন করি। কিন্তু তখনও ফোনের রিং বাজার পরেও কেউ রিসিভ করছিলো না। এতে করে আরো দুশ্চিন্তা বাড়তে লাগলো।
কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে আমি ক্লাসে যাওয়ার জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম তখনই হঠাৎ আমার ফোনে একটা অচেনা নম্বর দিয়ে ফোন আসলো।
আমি চিনতে পারলাম না কিন্তু তবুও কৌতুহলবশত সেই ফোনটা রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে এক অচেনা নারী কণ্ঠ ভেসে আসলো।
তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কেনই বা অয়ন্তির ফোনে এতবার ফোন দিয়েছি। আর আমি অয়ন্তির পরিচিত কেউ কিনা।
সেই অজ্ঞাত নারীকে চিনতে না পেরে তাকেই উল্টো জিজ্ঞেস করে বসি-" আচ্ছা আপনি কে?"
ফোনের অপর প্রান্তে থাকা মহিলা বলে ওঠেন -" আমি অয়ন্তির মা। আর তোমার পরিচয়!"
অয়ন্তির মা পরিচয় পেয়ে আমি একটু ঘাবড়ে গেলাম কিন্তু তার পরেই আমি অয়ন্তির মা কে বললাম -" আন্টি, আমি ধ্রুব। অয়ন্তির ক্লাসমেট। ও গতকাল কোচিংয়ে আসেনি বলে আপনাদের বাসায় গিয়েছিলাম । তখন একজন বললো গতকাল নাকি অয়ন্তি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। তাই এখন ও কেমন আছে এটা জানার জন্যেই অয়ন্তিকে ফোন করা।"
এবার অয়ন্তির মা বললেন -" হ্যাঁ বাবা, অয়ন্তি আগের থেকে সুস্থ। এখন ও বিশ্রাম নিচ্ছে।"
আমি তখন অনুনয়ের স্বরে বললাম -" আন্টি অয়ন্তিকে কি একবার ফোনটা দেওয়া যাবে।"
তিনি বললেন -" দাঁড়াও দিচ্ছি।"
এই বলেই তিনি অয়ন্তিকে ডাকলেন আর বললেন দেখো তোমার ক্লাসমেট ধ্রুব তোর সাথে কথা বলতে চাচ্ছে।
একটু পরেই ফোনের ওপার থেকে অয়ন্তির কণ্ঠ শুনতে পেলাম। এতদিন পর অয়ন্তির কণ্ঠ শুনে যে কতটা তৃপ্তি পেলাম তা হয়তো বলে বোঝানো সম্ভব নয়।
অয়ন্তি জিজ্ঞেস করলো-" কিছু কি বলবে? ফোন করেছো কেন?"
আমি বললাম -" এখন তোমার শরীরের কি অবস্থা?"
অয়ন্তি বললো-"আগে থেকে অনেকটা সুস্থ। আর কিছু কি বলবে?"
আমি বললাম -" আজ কি স্কুলে আসবে?"
অয়ন্তি বললো-" না, তবে বিকালে কোচিংয়ে যাবো ভাবছি। আর কিছু?"
তখন আমি বললাম -" না থাক। বাকি কথাগুলো না হয় আজ কোচিংয়ে গিয়েই বলবো। আজ প্লিজ কোচিং শেষে অন্তত তোমার সাথে কথা বলার একটু সুযোগ দিও। আজও অন্যদিনের মতো মুখ ঘুরিয়ে চলে যেও না। অনেক না বলা কথা আছে তোমাকে বলার। তাই আজ অন্তত আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিও।"
অয়ন্তি তখনও নিশ্চুপ ছিল। আমি বললাম -" এবার তবে ফোন রাখি?"
অয়ন্তি হুম বলে ফোনটা রেখে দিলো।
এরপর আমিও ক্লাসের উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়লাম। আর সারটা রাস্তায় এটা ভেবে শান্তি পাচ্ছিলাম যে অয়ন্তি এখন আগের থেকে সুস্থ। আর এতদিন পরে অয়ন্তির সাথে একটু কথা বলতে পেরেছি। এটাই যেন আমার কাছে বিশাল এক প্রাপ্তি।
তবে ঐদিন ক্লাসের সারাটা সময় ধরেই অয়ন্তিকে ঠিক কি কি কথা বলবো সেগুলো মনে মনে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম। আর অধীর আগ্রহে বিকালে কোচিংয়ে অয়ন্তির সাথে কথা বলবো বলে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
ভাবলাম আজ যে করেই হোক তার মান ভাঙাতেই হবে। নয়তো আমাদের বন্ধুত্ব এই মান-অভিমানের নিচেই চাপা পড়ে রবে, আর সময়ের সাথে সাথেই আমাদের দূরত্বও বাড়তে থাকবে। তাই সময় থাকতে থাকতেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো দরকার।
চলবে.....
বাক্সবন্দী স্মৃতি (১২তম পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
300
Views
6
Likes
1
Comments
5.0
Rating