চিঠির গল্প (পাঠ ১)

পলাশ
পলাশ
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পলাশ বসে আছে তার ছোট্ট অফিসের এক কোণে। বাইরে থেকে শহরের কোলাহল স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, কিন্তু পলাশের মনোযোগ কাগজের উপর লেখা শব্দগুলোর দিকে। 'নাল্লাপাড়া'র মাটি তার মনের গহীনে বাসা বেঁধেছে, তার লেখায় প্রতিটি বর্ণ যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

অনিয়া আজ অফিসে আসেনি। পলাশ জানে, প্রতিবার মাসের এই সময়টা অনিয়া কঠিন সময় পার করে। তবুও, তাকে জিজ্ঞেস করার সাহস হয় না পলাশের।

অনিয়া, এক শহুরে মেয়ে, যার জীবন যেন এক অবিরাম সংগ্রাম। কর্মস্থলে তার পরিশ্রম, প্রতিদিনের কাজের চাপ এবং তার মাসিক সমস্যা- সবই যেন এক অদৃশ্য যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের কুসংস্কার এবং পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা তাকে সবসময় আঘাত করে যায়।

একদিন পলাশ সাহস করে অনিয়াকে জিজ্ঞেস করল, "অনিয়া, তুমি ঠিক আছো?"

অনিয়া মাথা নাড়ল, "ঠিক আছি।" তার মুখের হাসিটা যেন ভাঙা কাঁচের মতো, যা সবসময় নিজেকে ছুরি চালায়। পলাশ দেখল, কিন্তু কিছু বলল না।

বিকেলের শেষে, অনিয়া যখন বাড়ি ফিরল, তার শরীর আর মনে এক অজানা যন্ত্রণায় ভরে উঠল। সমাজের চোখে তার প্রতিদিনের লড়াই যেন অদৃশ্য। কিন্তু তার ভেতরের বেদনাটা ক্রমেই বাড়ছে।

পলাশ জানে, অনিয়ার জীবনের এই অদেখা কষ্টের গল্পটি লেখা জরুরি। সমাজের কাছে, তাদের চোখের সামনে নিয়ে আসা জরুরি। পলাশের কলম চলতে লাগল, তার লেখা কাগজে যেন অনিয়ার জীবনের প্রতিচ্ছবি উঠে এলো।

"শহুরে জীবনে পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই, এক মেয়ের নীরব বেদনার কাহিনি।" পলাশ লিখল, এবং জানল, এই গল্প অনেকের বাস্তবতার সাথে মিলে যেতে পারে।

অনিয়া হয়ত এই গল্পটা পড়বে না, কিন্তু তার কষ্টের প্রতিধ্বনি অনেকের কাছে পৌঁছাবে। পলাশের লেখা শেষ হল, কিন্তু তার মন জানে, এই গল্পের শেষ এখানেই নয়। এটা এক শুরু, এক লড়াইয়ের শুরু, যা চলতে থাকবে যতদিন না সমাজের মনোভাব বদলায়।

( চলবে...)
414 Views
7 Likes
3 Comments
3.8 Rating
Rate this: