আমিঃ আচ্ছা নীলা তোমার হাজবেন্ট ওকে দেখছি না । কালকে হাসপাতালেও দেখলাম । আর তোমার সন্তান কয়টা,,,কি হইছে,,,ছেলে নাকি মেয়ে ?
নীলা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,,,,,,,,,,,,,
নীলাঃ বিয়েই হয় নি । আর বাচ্চা হা হা ।
আমিঃ মানে
নীলাঃ মানে আমার মতো অপয়া আর বোঝা কে ঘাড়ে চাপানোর জন্য কে বিয়ে করবে বলো । তাই আমার বিয়ে হয় নি ।
আমি নীলার কথা শুনে আর স্থির থাকতে পারলাম না । এক ঝটকায় নীলাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করতে লাগি ।
আমি এমনটা করবো নীলা স্বপ্নেও ভাবে নি । নীলা আমার ছোঁয়া পেয়ে একদম কেঁপে উঠে । এটাই আমাদের ভালোবাসার প্রথম স্পর্শ । নীলাও আমাকে সজোরে চেপে ধরে কান্না করতে লাগে । তারপর জড়িয়ে ধরা অবস্থায় নীলাকে বললাম,,,,,,,,,
আমিঃ আমি এখনো তোমাকে অনেক ভালোবাসি নীলা । তোমার জন্য আমি এখনো অপেক্ষা করি । সেজন্য আমি এখনো বিয়ে করি নি । আমি আর তোমাকে কোথাও হারাতে দিবো না নীলা । প্লিজ তুমিও আমাকে ছেড়ে কখনো চলে যেও না । তাহলে আমি হয়তো এবার মরেই যাবো ।
এগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে দিলাম । তারপর নীলা বললো,,,,,,,,
নীলাঃ একটা থাপ্পড় দিবো যদি আর একবার মরার কথা বলেছো তো । আমিও তোমাকে এখনো অনেক ভালোবাসি ।
বলেই অনেক কান্না করতে লাগলো । তারপর আমি নীলার হাতের ঠিঙ্গা টা ফেলে দিয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ আমি থাকতে তোমার আর এটার প্রয়োজন নেই নীলা । এখন থেকে আমিই তোমার ঠিঙ্গা ।
তারপর ওটা ফেলে দিয়ে আমি নীলাকে কোলো তুলে নেই । আর সেইদিন ই কাজি অফিসে গিয়ে নীলাকে বিয়ে করি ।
আমাকে এতোবছর পর অনেক খুশি দেখে আপু দুলাভাইও মেনে নিয়েছে । আব্বু আম্মু কেও খবর দেয়ার পর তারা ঢাকা চলে আসে । প্রথমে রাজি না হলেও আপু দুলাভাই অনেক বুঝানোর পর তারা রাজি হয় ।
আজ আমাদের বাসর রাত । দেড় হাত লম্বা ঘোমটা টেনে বিছানার উপর বসে আছে নীলা । চার দিকে ফুলে গন্ধে মম করছে । আজ বাসর রাত,,কথাটা ভাবতেই যেনো কেমন লাগছে ।
মনে হচ্ছে লাগাতার কেউ আমার কলিজায় চিমটি কাটছে । উফফফ একি যন্ত্রনা । দরজা খোলার শব্দ হতেই নড়েচড়ে উঠলো নীলা । হঠাৎ ই ঘামতে লাগলো ।
কেমন এক অসহ্যকর পরিবেশ । বুকের মধ্যে ঢিবঢিব শব্দটা বেরেই যাচ্ছে । আমি রুমে ঢুকে নীলাকে এক বার দেখে ওয়ারড্রপ থেকে পোশাক বের করে ওয়াশ রুমে চলে গেলাম কোনো কথা না বলেই ।
নীলা অবাক হলো আমার এ রকম আচরনে । বড় একটা শ্বাস ফেলে মাথার ঘোমটা সরিয়ে সোজা হয়ে বসলো । এভাবে বসে থাকতে থাকতে হাপিয়ে উঠেছে সে ।
রুমের ভেতরটা আর একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে চুপচাপ হাতের চুড়ি গুলো নাড়াচাড়া করতে লাগলো ।
"এভাবে বসে না থেকে, গয়না গুলো খুলে রাখলেই তো পারো !"
আমার আওয়াজ পেতেই মাথা তুলে তাকিয়ে দেখলো তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুল গুলো মুচছি । সাদা শার্ট আর কালো জিন্স পরেছি ।
নীলা আমার থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল,,,,,,
নীলাঃ আমি তো আগেই খুলতে চেয়েছিলাম,,,কিন্তু সবাই বলল যে তুমি হেল্প করবে এগুলো খুলে দিতে,,,তাই বসে আছি ।
আমি হাসলাম নীলার কথা শুনে । তোয়ালেটা রেখে দিয়ে বিছানার ওর পাশে গিয়ে বসে নীলার হাত থেকে একটা একটা চুড়ি খুলতে খুলতে বললাম,,,,,,
আমিঃ আচ্ছা তো আর কে কি কি বলেছে? আই মিন আজ কি কি করতে হবে তা কি বলেছে ?
নীলাঃ তোমার আপু পায়ে ধরে সালাম করতে বলেছিলো ।
আমিঃ তা কি তুমি করেছো ?
আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ালো নীলা । তারপর বললো,,,,,
নীলাঃ ভুলে গেছি । দাঁড়াও ।
নীলা বিছানা থেকে নামতে নিলে আটকে দিলাম । আর বললাম,,,,,,,,,
আমিঃ এসবের কোনো প্রয়োজন নেই । আমার পছন্দ না এসব পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা ।
নীলাঃ ঠিক আছে ।
আমিঃ আর কিছু শিখিয়ে দেয়নি তোমায় ?
চোখ তুলে নীলা আমার দিকে তাকাতেই বাঁকা হাসি দিলাম । তারপর বললাম,,,,,,
আমিঃ ওকে ব্যাপার না,,,বাকিটা আমি শিখিয়ে নেবো ।
লজ্জায় কুকড়ে গেলো নীলা,,,কোনো জবাব দিলো না সে । আমি যে ইচ্ছে করেই লজ্জায় ফেলছি তাকে,,,,তা ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে ।
এক এক করে নীলার হাতের সব চুড়ি রিং খুলে নিলাম । আমি নীলার দিকে আর একটু এগিয়ে গিয়ে ওর মাথার ঘোমটা খুলে নিয়ে গলার হার গুলো আর কানের দূল খুলতে লাগলাম ।
নীলা বার বার কেপে উঠছে আমার মৃদু স্পর্শে । যা বুঝতে পেরে আমি হাসছি । সব গয়না গুলো খুলা হলে আমি নীলাকে কোলে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম ।
তারপর শাওয়ার অন করে দিলাম । ওকে ফ্রেশ করাতে নিয়ে গিয়ে ও দুষ্টুমি করে আমাকেও ভিজে দিলো ।
তারপর আমি নীলার হাতটা ধরে টেনে একদম নিজের কাছে নিয়ে এলাম । আলতো হাতে ভেজা চুল গুলো কানের পিছনে গুজে দিয়ে কপালে আলতো একটা চুমু খেয়ে নিলাম ।
লজ্জায় যেনো পলক ফেলতে ভুলে গেছে নীলা । সে মাথা নিচু করে কাঠ কাঠ হয়ে দাড়িয়ে আছে ।আমি দু হাতে নীলার মুখ টা উপরের দিকে তুলতেই চোখ চেপে বন্ধ করে নিলো ।
আমিঃ তাকাও আমার দিকে ।
মাথা নাড়ালো নীলা । সে তাকাবে না । আমি আবারও বললাম,,,,,,
আমিঃ প্লিজ তাকাও ।
রকির আবেগ মাখা অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলো না নীলা । সে চোখ মেলে তাকালো ঠিক আমার চোখের দিকে ।
নীলা বুঝে উঠতে পাযরে না কি আছে রকির এই চোখে,,,যার দিকে তাকালেই নিজে হারিয়ে ফেলতে মন চায় । মনে হয় সে দুনিয়ার বাইরে কোথাও চলে গেছে ।
তারপর আমরা দুজন শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে আসলাম । তারপর আমি নিজেই নীলাকে সুন্দর একটা নীল শাড়ি পড়িয়ে দিলাম । নীলা বললো,,,,,
নীলাঃ তুমি শাড়ি পড়িয়ে দিতেও পারো ।
আমিঃ হুমম তোমাকে পড়িয়ে দিবো বলে শিখেছিলাম ।
হঠাৎ মনে হলো নীলা উপরে ভাসছে । ভালো ভাবে তাকিয়ে বুঝলো আমি তাকে কোলে নিয়েছি ।
লজ্জা রাঙা মুখ নিয়ে আমার গলা জরিয়ে ধরলো নীলা । ওকে কোলে নিয়ে ট্যারেসে অর্থাৎ ছাদে চলে গেলাম । গিয়ে আমি বসলাম দোলনায় আর নীলাকে বসালাম নিজের কোলের উপর ।
দু হাতে নীলার কোমড় জরিয়ে ধরতে কেপে উঠলো নীলা । নিজের মাথাটা ধীরে আমার বুকে এলিয়ে দিতে আমি আরো চেপে মিশিয়ে নিলাম নিজের সাথে ।
আমিঃ আজকের রাতটা খুব সুন্দর তাই না নীলা ।
নীলা মাথা ঝাকালো আর বললো,,,,,
নীলাঃ হুমম ।
আমিঃ আজ আকাশের চাঁদটাও কত সুন্দর লাগছে । বাকি সব দিনের থেকে মনে হচ্ছে চাঁদের সৌন্দর্য বেরে গেছে ।
আমার কথা শুনে নীলা চাঁদের দিকে তাকালো । আর বললো,,,,,,,
নীলাঃ আমার তো তেমন কিছু মনে হচ্ছে না । তবে আজকের মুহূর্তটা সুন্দর তাই সব কিছু সুন্দর লাগছে বেশি ।
আমিঃ আমি ঐ চাদের কথা বলছি না ।
নীলা প্রশ্ন চোখে আমার দিকে তাকালো । আমি চট করে নীলার গালে চুমু খেয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ আমি আমার চাদের কথা বলছি ।
নীলা বিস্ময় তাকিয়ে রইলো আমার দিকে । যেনো হাজার মায়া জরিয়ে আছে রকির মুখে । আচ্ছা কারো মুখে এতো মায়া কি ভাবে থাকতে পারে ? নীলার বিশ্বাসই হচ্ছে না এই রকম রোমান্টিক লেখক তার স্বামী ।
নীলা সত্যিই নিজেকে ভাগ্যবতি মনে করছে । তাই তো সে রকির মত একজন স্বামী পেয়েছে। সব মেয়েরা আশা করে যেনো তার জীবনে একজন রাজ পুত্র আসে ।
কিন্তু নীলার জীবনে তো সয়ং একজন মহারাজা এসেছে,,,যে তাকে মহারানী করে নিজের কাছে নিয়ে এসেছে ।
আমার ভালোবাসাময় স্পর্শে ঘোর কাটলো নীলার । রকি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলার চোখের দিকে । যেনো নীলার মনের সব কথা ওর চোখ দেখে বুঝে নিচ্ছে সে ।
আলতো হাতে নীলার গালে স্লাইড করতে করতে রকি ঝুকে এলো ওর কাছে । নীলা চোখ জোরা বন্ধ করে নিতেই ঠোটে রকির স্পর্শ পেলো ।
রকির থেকে এমন ভালোবাসাময় আদর আজ প্রথম অনুভব করলো নীলা । এবং আজ প্রথম বারের মত সেও নিজের থেকে রকির এই ভালোবাসার ডাকে সারা দিতে লাগলো ।
কিছুক্ষণ এভাবেই কেটে যাওয়ার পর নীলা বললো,,,,,
নীলাঃ আমি এখন রুমে যাবো ।
অতঃপর আমি আবার নীলাকে কোলে করে নিয়ে রুমে আসলাম । এসে নীলাকে খাটে শুয়ে দিলাম ।
তারপর নীলা বললো,,,,,
নীলাঃ আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চাইবো দিবে ?
আমিঃ একবার চেয়েই তো দেখো ।
নীলাঃ তোমার মতোই একটা কিউট রকি লাগবে আমার । কি দিবে,,,?
আমিঃ তার জন্য তো অনেক পরিশ্রম করতে হবে ।
নীলাঃ তো করবা প্রবলেম কি ।
তারপর রুমের লাইট অফ হয়ে গেল । আর কিছুই দেখি যাচ্ছে না । আপনারা এখনও দাঁড়িয়ে আছেন??
লজ্জা লাগে না??
বাকিটা এখন ইতিহাস হয়ে থাক 😁 ।
সমাপ্ত,,,,,,,,,,
পাঁচ বছর পর
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
349
Views
18
Likes
2
Comments
5.0
Rating