বন্ধন

,,,,,বাসর রাতে টুপি আর শেরওয়ানি খোলে আমার স্ত্রী আফিয়ার কাছে
যেতেই আফিয়া আমাকে বলল..
আফিয়া::কাছে আসবেন না?
কথাটি শোনা মাত্রই যেন আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।
একটু আগে মেয়েটকে স্ত্রীর অধিকার দিলাম।ওর মুখে
এমন কথা শোনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম।আমি বললাম
আমিঃকোনো প্রবলেম হয়েছে'আমি একটু পরে আসবো।
আফিয়া :: আপনাকে আমি পরে আসতে বলিনি'বলেছি আমার কাছে
আসবেন'মানে আমাকে টাচ করবেন না?
আমি একটু আশ্চর্য হয়ে বললাম...
আমিঃআমি আপনার কথা বোঝতে পারিনি'আমাকে একটু বুঝিয়ে
বলবেন।

আফিয়া:: আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি'আমি কথা রেখেছি ও ছাড়া
আমার শরীর অন্য কোনো পুরুষ টাচ করতে পারবে না?

আমিঃবিয়ের আগে বলেননি কেন'এখন আমরা স্বামী স্ত্রী।
আফিয়া::আপনাকে বলার সময় পাইনি।
আমিঃআপনি এই বিয়েতে রাজি হয়েছেন কেন?

আফিয়া::রাজি ছিলাম না'আমার বাবা'মরতে গেছিলো'তাই আমি
রাজি হয়েছি'আব্বু বলেছেন'আপনি নাকি অনেক ভালো মানুষ।
মানুষের কথা রাখেন।এখন আপনি আমার কথাটা রাখেন
প্লিজ আমি আপনার পা ধরি।
আমিঃআরে কি করছেন উঠুন'পা ধরতে হবে না'বিষয় টা আমি
দেখতেছি।
আফিয়া::রাখবেন আমার কথাটা প্লিজ বলুন?
আমিঃরাখতে গেলে'আমাদের ডিভোর্স হতে হবে'আর আপনি যেটা
বলছেন বিষয় টা এত সহজ না।আব্বু আম্মু কালই আমেরিকায়
চলে যাবে'উনাদের বিজনেসের জন্য।তখন যাবে'আর শোনেন?

আফিয়া ::জ্বি বলুন।
আমিঃআপনি যাকে ভালোবাসেন'ঐ ছেলেটার'ফোন নাম্বার বা
ছবি আছে?
আফিয়া:: কয়েনদিন যাবৎ নাম্বারে কল ঢুকছে না'আমার মনে হয় সিম
কার্ড পাল্টে ফেলেছে।আমার ফোনে ওর কয়েকটা ছবি আছে"
এক মিনিট আপনাকে দেখাচ্ছি।

আমি নিরবতা নিয়ে এতক্ষণ মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম
সত্যি মেয়েটা ছেলেটাকে প্রচুন্ড ভালোবাসে'মেয়েটার চোখের দিকে
তাকিয়ে বোঝতে পাড়লাম।মেয়েটা অতি দ্রুত ফোন বেড় করে
গ্যালারিতে ঢুকে ছেলেটার ছবি দেখি বলল..

আফিয়া::এইযে এই ছেলেটা(ছবি দেখিয়ে)
আমিঃছেলেটা বেশ সুন্দর।
আফিয়া ::জ্বি'শুনেছি আপনি এফএম রেডিওতে জব করেন'প্লি
আমার ভালোবাসার মানুষকে খুঁজে দিবেন।বলুন না প্লিজ?
আমিঃআচ্ছা'পরে দেখা যাবে'এখন ঘুমিয়ে পড়ুন।অনেক রাত হয়েছে

আমি একটা বালিশ নিয়ে সোফায় এসে ঘুমিয়ে গেলাম।পরের দিন
আব্বু আম্মু সংসারের চাবি আফিয়ার হাতে বুঝিয়ে দিলেন।
আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।দুপুরে সবাই একসাথে
খাওয়া দাওয়া করে নিলাম।আব্বু আম্মু আমার ছোট বোন নীলা'রেডি
হয়ে নিলো।আম্মু আফিয়া কে কাছে টেনে কপালে চুমু দিয়ে বললেন।

আম্মুঃলক্ষ্যী বউমা আমার'আমার ছেলেটাকে দেখে রাইখো?
আফিয়া::জ্বি আম্মু।

আফিয়া আব্বু আম্মুর পা সালাম করে বিদায় দিলো।
নীলাঃআসি ভাবি'ফোনে কথা হবে?
আফিয়া::হুম।

আব্বু আম্মু গাড়িতে গিয়ে বসলেন।আমি গাড়িতে উঠে ঢাকা এয়ারপোর্টে
আসলাম।বিকেল তিনটার দিকে উনাদের ফ্লাইট।কার টা পার্ক করে
গাড়ি থেকে নেমে'সবাই এয়ারপোর্টের ভিতরে প্রবেশ করলাম।ঠিক
তিনটার দিকে আব্বু আম্মুকে বিদায় দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বেড় হয়ে
গেলাম।বাসায় ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেলো।দরজায় নক দিতেই
আফিয়া এসে দরজা খোলে দিলো।আমি ভিতরে ঢুকে ওয়াশ রুমে
গেলাম ফ্রেশ হয়ে আফিয়াকে বললাম।

আমিঃআজকে কি রান্না করছেন?
আফিয়া::নিশ্চুপ......
আমিঃকি হলো কথা বলছেন না কেন?
আফিয়া::আ আমি রান্না করতে পারি না"প্লিজ আপনি আমাকে
মারবেন না।

আফিয়া এমন অঙ্গ ভঙ্গি করলো'সে ভেবেছিলো'আমি তার গায়ে
হাত তুলবো।আমি আফিয়াকে হ্যাঁ বা না কিছু না বলে রান্না ঘরে গেলাম'
আফিয়া আমার পিছু পিছু রান্না ঘরে আসলো।আমি চাল ধুইয়ে গ্যাসের
চুলায় ভাত বসিয়ে দিলাম।ফ্রিজ খোলে ফ্রিজ থেকে গরুর মাংস বেড়
করে দ্বিতীয় চুলায় গরুর মাংস বসিয়ে দিলাম।গ্যাসের চুলা হওয়ায় রান্না
হতে বেশি দেড়ি হলো না।এক দেড় ঘন্টার মধ্যে সব রান্না হয়ে গেলো।

খাওয়া দাওয়ার সময় আফিয়া বলল।
আফিয়া::বাহ্ আপনি তো অসাধারণ রান্না করতে পারেন।

খাওয়া দাওয়া শেষে দু'জনেই আদালা ভাবে শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম

পরের দিন সকালে অফিসে যেতে হবে'তাই একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে
উঠতে হলো।কিন্তু আমার আগে আফিয়াকে বললাম।একটু চা বানাইতে
সকালে চায়ের নেশা টা একটু বেশি আমার।বিছানা থেকে উঠে চা টুকু
খেয়ে নিলাম।আফিয়া বলল...

আফিয়া::চা কেমন হয়েছে?
আমিঃঅসাধারণ হয়েছে।

বলেই আমি বাথরুমে গেলাম।একটু পড় বাথরুম থেকে বেড় হয়ে
আসলাম। আফিয়া:: বলল...

আফিয়া::চা ভালো হয়নি?
আমিঃকে বলেছে ভালো হয়নি।
আফিয়া::আমি খেয়ে দেখলাম'আপনি আমার সাথে মিথ্যে কথা কেন
বললেন?
আমিঃআপনি প্রথম চা বানিয়েছেন।আমি প্রসংশা না করে পাড়লাম না।
আফিয়া::আপনি খুব ভালো।

অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিলাম।আমি আফিয়া কে বললাম।
আমিঃছেলেটার নাম যেন কি?
আফিয়া ::রকি।
আমিঃছবি আর ফোন নাম্বার আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ করবেন।
আফিয়া::আচ্ছা।
আমিঃআর হ্যাঁ'ফ্রিজে নাস্তা আছে'খেয়ে নিবেন?

বলেই বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে চলে আসলাম।নতুন বিয়ে করেছি আমার
কলিগরা একটু হাসি ঠাট্টা করবে।আমি ভিতরে যেতেই সবাই
আমাকে দেখে ওয়েলকাম জানালো।কাছে যেতেই সবাই দেখতে চাইলো
ভাবি'কেমন সবাইকে বললাম'একদিন এনে দেখাবো।কিন্তু আমার
ভিতরে পুড়ে যাওয়ার গল্পটা যখন আমার কলিগদের সাথে শেয়ার
করলাম।খনিকের মধ্যে সবার চোখে জল চলে আসলো।আমি কেবিনে
ঢুকেই এফএম রেডিও অপশন চালু করে বললাম....

"শুভ সকাল'সবাই কেমন আছেন'আসা করি'সবাই ভালো আছেন'
আজ আপনাদের মাঝে এমন এক গল্প শেয়ার করবো সবার চোখে
জল চলে আসবে'আমার আর আফিয়ার শুরু থেকে গল্পটা শেয়ার করতে
লাগলাম।আজ এই টুকু শেয়ার করলাম।কালকে দ্বিতীয় পর্ব শেয়ার
করবো'তবে আপনার মাঝে আমি একটা জিনিস চাইবো'আপনারা
আমাকে খুঁজে দিলে আপনাদের জন্য গিফট রয়েছে।(01994996999)
এই নাম্বারের লোকটির নাম মিজানুর রহমান এই মানুষটাকে আপনারা খুঁজে

দিলে বা কোথাও দেখতে পেলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে কল করে জানিয়ে।দিবেন।
আমার নাম্বার"(016474429**) ক্যাপশনে দিয়ে দিলাম।তারপর
নিয়ে নিন আপনাদের গিফট।আজকের জন্য গুড বাই' সবাই ভালো
থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

নিউজ টা'ফেসবুক ইউটিউব সব খানে ছড়িয়ে দিলাম।

বলতে বলতে যেন আমার চোখে পানি চলে আসলো।কেবিন থেকে বের
হয়ে দেখি আমার কলিগরা হা হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।

কাউসার:: নিরব তুই এত প্যারা নিতেছিস কেন?
আমিঃএর উত্তর একদিন পেয়ে যাবি।

এই দিকে লাঞ্চের সময় হয়ে গেলো।আমার তো মনেই ছিলো না
পাগলীটার কথা'পকেট থেকে তাড়াতাড়ি ফোন বেড় করে আফিয়ার
নাম্বারে কল দিয়ে বললাম...
আমিঃআমি আসতে রাত হবে।ঠিক দেড়টায় ডেলিভারিম্যান আসবে'
আপনি দরজা খুলে ডেলিভারিম্যান থেকে খাবারের প্যাকেট টি নিয়ে
খাবার খেয়ে নিয়েন।টাকা দিতে হবে না?
আফিয়া::আচ্ছা।

বিকেল টা কলিগদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে পার হয়ে গেলো।রাতে
বাসায় ফিরলাম।আফিয়া বলল...
আফিয়া::কোনো খোঁজ ফেলেন?
আমিঃআজকেই নিউজ টা ছড়িয়ে দিলাম।জানি না কখন পায়।
রাতে খাবার খেয়ে দু'জনেই ঘুমিয়ে গেলাম।

এভাবেই কিছু দিন কেটে গেলো।কিন্তু এখনো মিজানের কোনো খোঁজ
পেলাম'মেয়েটা বড় আসা দিয়ে ছিলাম।আসা টাকি পূর্ণ হবে না।
একদিন কেবিনে বসে এফএম রেডিওতে গান গাচ্ছিলাম।হুট করেই
একটা কল আসলো...

আমি হ্যালো বলতেই ওপাশ থেকে একটি লোক বলল..
--ধানমন্ডি লেকের পাড়ে মিজানুর রহমান নামের ছেলেটাকে এখনই পেয়ে যাবেন?
--আপনার পরিচয় টা বলবেন একটু।
--আমার পরিচয় জেনে আপনার কোনো লাভ হবে না?আপনি যদি
ছেলে দেখতে চান এখনই লেকের পাড়ে চলে আসুন'আর আমার
গিফট টা?
--আপনি অবশ্যই পেয়ে যাবেন।

বলেই ফোন রেখে দিলাম।কেবিন থেকে বের হয়ে'গাড়ি নিয়ে ধানমন্ডি লেকের
পাড়ে চলে আসলাম।গাড়ি থেকে নেমে আশে পাশে তাকিয়ে
লোক টাকে দেখতে পেলাম না।একটু সামনে যেতেই লেকের পাড়ে বসে
থাকা একটা লোক দেখতে পেলাম।কাছে গিয়ে বললাম..

আমিঃইউর নাম মিজান?
মিজান::ইয়েস।
আমিঃহায় আমি নিরব 'বসতে পারি।
মিজান:: অবশ্যই বসুন?
আমিঃআপনাকে অনেক দিন খুঁজেছি'আজ পেলাম।
মিজান::কেন?
আমিঃএই মেয়েটাকে আপনি চিনেন(আফিয়ার একটা ছবি দেখিয়ে
বললাম)
মিজান হেসে দিয়ে বলল..
মিজা:: ইয়াহ
আমিঃআপনার ভালোবাসার মানুষ রাইট?
মিজান::আপনি জানলেন কি ভাবে।
আমিঃআমি ওর স্বামী'কিন্তু আমাদের মাঝে এখনো' স্বামী স্ত্রীর একে অপরের
অধিকার পাইনি?
মিজান::কেন'আপনি না ওর স্বামী।
আমিঃসে আপনাকে ভালোবাসে বলে আপনার কাছে ফিরে আসতে চাই বলে'
আমি এখনো আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে ছুঁয়ে দেখিনি?
মিজান:আমি বিশ্বাস করবো কি ভাবে?
আমিঃআপনার ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে শুনতে পাবেন।
মিজান::রাইট..
আমিঃআমি এখন উঠি?
মিজান::ঐ একটা সিগারেট দে(দোকানদারকে বলল)
আমিঃআমি সিগারেট খাইনা।আপনার একটা ভিজিটিং কার্ড দেন তো?
মিজান::অবশ্যই

কার্ড নিয়ে মিজানের সাথে কথা বলে বাসায় ফিরে আসলাম।বাসায় আসতে রাত
হয়ে গেলো।বাসায় এসে রান্না করতে যাবো।এমন সময় আফিয়া
এসে জিজ্ঞেস করলো।
আফিয়া::খোঁজ পেয়েছেন কি?
আমি ভেবে ছিলাম আফিয়া কে মিজানের সাথে দেখা করিয়ে সারপ্রাইজ
দিবো।তাই আমি আফিয়াকে বললাম।
আমিঃএখনো পাইনি'তবে অবশ্যই পেয়ে যাবো।

আফিয়া আর কিছু বলেনি'রাতে রান্না বান্না করে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
পরের দিব বিকেলে ফ্রেশ হয়ে আফিয়াকে বললাম..
আমিঃরেডি হোন'ঘুরতে যাবো?
আফিয়া::এখন।
আমিঃহুম বিয়ের পড় আপনাকে নিয়ে ঘুরা হলো না।চলুন আজ দু'জন
মিলে ঘুরে আসি।

একটু পড় আফিয়া রেডি হলো।দুজনেই বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের
হলাম।প্রথমেই ঢাকা পূর্বাচল নতুন শহর। তিনশো ফিড হয়ে কাঞ্চনব্রিজ
বানিজ্য মেলায় ঘুরে আসলাম।নিজের গাড়ি থাকায় ঢাকা শহর ঘুরতে
তেমন একটা সময় যায়নি।বিকেল পাঁচটার দিকে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে আসলাম।
গাড়ি থেকে নেমে আফিয়া অনেকটা অবাক হয়ে গেলো'সে বিশ্বাসই করতে
পারছেনা'তার ভালোবাসার মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

মিজানআনন বলে একটা চিৎকার দিয়ে জড়িয়ে ধরলো।আমি গাড়ির পাশে
হেলান দিয়ে বুকে হাত দু'টো গুঁজে দূর থেকে ওদের পূর্ণতা দেখতে
লাগলাম।কেমন জানি আমার চোখের কোনে পানি জমে গেলো।আমার বুকের বাম
পাশটায় যেন চিনচিন করে ব্যথা করতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পড় আমি ওয়ের কাছে গেলাম।আমি বললাম...
আমিঃমিজান ভাই'এবার বিশ্বাস হয়েছে তো?
মিজান:: হুম।

আফিয়া মিজান এর গালে কিস করে বলল।
আফিয়া::জান আমরা বিয়ে করছি কবে?
মিজান:: এত অস্থির হচ্ছ কেন জান।আমি তো তোমাকে বিয়ে করবো।
আফিয়া::কখন করবা জান বলো?
মিজান::কালকে তোমাকে আমি ফোন করে জানিয়ে দিব'আজ আমার
একটা মিটিং আছে বিজনেসের'এখন তুমি যাও।
আফিয়া::না জান'আমি যাবো না'অনেক পড় তোমার সাথে দেখা?
মিজা::এখন যাও বলতেছি।
আফিয়া::আচ্ছা জান'তাহলে আসি'কালকেই কিন্তু আমরা বিয়ে করবো?

বলেই আফিয়া উঠে এলো।আমরা আবার বাসায় ফিরে এলাম।
আফিয়া বলল...
আফিয়া::আপনি আমাকে বলেননি কেন'মিজানের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি?
আমিঃআপনাকে সারপ্রাইজ দিবে ভেবেছিলাম।
আফিয়া::আচ্ছা আমাদের ডিভোর্সের কি খবর'কাগজ হাতে আসবে
কখন?
আমিঃকালই চলে আসবে।
আফিয়া::সত্যি?
আমিঃহুমমমম

তারপর খেয়ে ধেয়ে ঘুমি গেলাম।পরের দিন সকালে আমি অফিসে চলে
গেলাম।বিকেল ছয়টার দিকে আফিয়া কল দিয়ে বলতে লাগলো...

আফিয়া::আজ নাকি একটা পার্টি আছে'মিজান কল করে যেতে বলল
আপনি যাবেন?
আমিঃআমার কাজ পড়ে আছে'আমি যেতে পারবো না।আপনি যান।
আফিয়া:: ওকে।
আমিঃশোনেন?
আফিয়া::জ্বি বলুন।
আমিঃমিজান ছেলেটা আমার ভালো মনে হচ্ছে না? সাবধানে থাকবেন।
আফিয়া::আপনি আমার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে এত বড় কথা
বলতে পারলেন।
আমিঃআমি খারাপ কিছু বলিনি...

টুট টুট করে ওপাশ থেকে ফোন কেটে দিলো।রাত আটটায় এক অচেনা
নাম্বার থেকে আমার ফোনে কল আসলো।
---হ্যালো.....
---আপনি নিরব নিশ্চয়ই
---হ্যাঁ...
---আপনি মিজানের হাত থেকে আফিয়াকে বাঁচান প্লিজ'বিয়ের নাম করে
আফিয়ার সাথে উল্টা পাল্টা কিছু করে বসবে?

কথাটি শোনা মাত্রই যেন পেটের ভিতর একটা কামড় মেরে উঠলো।
ফোন কেটে তাড়াতাড়ি আফিয়ার নাম্বারে কল দিলাম।ঐ পাশ থেকে
আফিয়া রাগ করে আমার ফোন রিসিভ করতেছে না।প্রায় কয়েকবার
কল দেওয়ার পরেও কল রিসিভ করলো না।মেজাজ টা পুরাই খারাপ
হয়ে গেলো।ঐ লোকটাকে আমার কল দিলাম।কল দিয়ে পার্টির ঠিকানা
টা নিলাম।তাড়াতাড়ি গাড়ি বের করে পার্টির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

মিজান আর তাইয়েবার কথা পার্টিতে,,,,,,,,,,,,

.....
মিজান::আমি কি ভাবে বিশ্বাস করবো'এক ছাদের নিচে'তোমরা দু'জন
কিছু করনি"আমি কি ভাবে বিশ্বাস করবো'নিরব তোমাকে ছুঁয়ে দেখেনি?
আফিয়া::কি বলতেছ এসব তুমি।
মিজান::আমি ঠিকই বলতেছি?
আফিয়া::মিজান বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু'তুমি নিরবের নাম মুখে
নিবা না'তুমি ওর যোগ্য না।
মিজান::ওর নাম নিলে তোমার জ্বলে কেন? নিশ্চয়ই তুমি ওর সাথে ঐসব
করেছ?
আফিয়া::ঠাস ঠাস...ছিহ মিজান ছিহ এই ছিলো আমার বিশ্বাস।তোর মত
একটা লম্পটকে আমি ভালোবেসে ছিলাম'তাও আবাট তোর মত একটা
কাপুরুষকে আমি বিশ্বাসও করেছিলাম।ভাবতেই আমার ঘৃণা হচ্ছে।

মিজান গাল ধরে বলতে লাগলো।
মিজান::সবার সামনে তুই আমাকে চড় মেরেছিস'আজ তোকে আমি সবার
সামনে নগ্ন করে নষ্ট করবো।দেখি তোকে বাঁচায় কেডা?

বলেই একটানে আফিয়ার গা থেকে শাড়ি খুলতে যাবে ঠিক তখনই আমি
চলে আসলাম।এসেই একটা লাথি মেরে সাইডে ফেলে দিলাম।

মিজান::বাহ'তোর হিরো এসে গেছে দেখছি?
আমিঃশুধু একবার আমার স্ত্রীর গায়ে হাত দিয়ে দেখ তোর কি অবস্থা
কি?

মিজান::হাহাহাহাহা"হিহিহিহি'হুহুহুহুহুহুহু'আবে ঐ কি করবি আমার'একটা চুলও
ছিঁড়তে পাড়বি না'দেখেছিস আমরা কতজন?
আমিঃতা আমার জন্য কোনো ব্যপারই না'আমার শর্টগানে যে গুলি আছে
সেটাতেই যথেষ্ট বলেই ঠুস ঠুস করে সব কয়টাকে উড়িয়ে দিলাম....

আফিয়া:: দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললল'
আফিয়া::আপনাকে অনেক ভালোবাসি'আমি একজন ভুল মানুষকে
ভালোবেসে ছিলাম'প্লিজ আমাকে আপনি মাফ করে দিন'আমি কখনো
আপনাকে স্ত্রীর অধিকার দিতে পারিনি।আমি আপনাকে অনেক কষ্ট
দিয়েছি?

আমি আফিয়ার কপালে একটা চু'মু দিয়ে বললাম।
আমিঃমাফ করে দিয়েছি পাগলী।



_*****************সমাপ্ত********************
15 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই