রুমের দরজা বন্ধ করে ভাবতে লাগলাম কেন নীলা আমার সাথে এমন করলো । সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম
প্রতিটা সময় নীলার স্মৃতি গুলো মনে পড়তো । তখন অনেক কষ্ট পেতাম । এভাবে তিন মাস ডিপ্রেশনে চলে গেছিলাম । রুম থেকে কখনোই বের হতাম না । গল্প লেখাও বাদ দিয়ে ছিলাম ।
আম্মু আব্বু ভাবলো এভাবে চলতে থাকলে আমি পাগলই হয়ে যাবো । তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলো আমাকে আপুর বাসায় অর্থাৎ ঢাকায় পাঠাবে ।
ওখানে নতুন আবহাওয়া অনেক ভালো লাগবে । তাই পরের দিন ই পাঠিয়ে দিল ঢাকায় । ওখানে গিয়ে নতুন কলেজে আমার ভর্তির ব্যবস্থা করা হলো ।
আপু দুলাভাই অনেক বুঝানোর পর আমি পড়াশোনায় মনোযোগ দেই । তবুও নীলার কথা আমার মনে পড়ে ।
এভাবে পড়াশোনার মধ্যে দিয়ে আমার জীবন থেকে পাঁচটি বছর চলে যায় । এখন আর নীলাকে মনে পড়ে না । আর এখন আমার অনেক বন্ধু হয়েছে । আগের মতো আর গল্প ও লেখা হয় না । অনার্স পাশ করেছি । মাস্টার্স এ ভর্তি হবো ।
আমার দুলাভাই একজন ডাক্তার । আমি সেদিন দুলাভাইকে খাবার দিতে গেছিলাম । আর তখনই আমি নীলাকে দেখতে পাই পাঁচ বছর পর । তারপর আপনারা তো জানেন ই । চলুন এবার ফেরা যাক বর্তমানে ।
বর্তমান,,,,,,,,,,
নীলা আমাকে দেখা করতে বলেছে । ওর থেকে আমি জানতে চাই কেন সে সেদিন এলো না । আমাকে সে কেন ধোঁকা দিলো ।
পরেরদিন চলে গেলাম নীলার দেয়া ঠিকানা মতো ।
একটা বেঞ্জে বসে আছি । এখনো নীলা আসে নি । অনেক্ষন বসে থাকার পর দেখি নীলা এলো । কিন্তু ওর দিকে যখন তাকায় তখন আমার চোখ কপালে উঠলো । সেদিন ওতোটা খেয়াল করি নি ।
চোখ কপালে উঠার কারন হলো নীলা একটা ঠিঙ্গা দিয়ে এক পায়ে ভর দিয়ে আমার দিকে আসছে । আর পা নেই ।
ওর এই অবস্থা দেখে আমার চোখ দিয়ে অজান্তেই ঝরঝর করে পানি আসতে লাগলো । ওর এ অবস্থা কেমনে হলো । কি হইছিলো সেদিন,,,,,
নীলা আমার কাছে আসতেই আমি কোনো রকম চোখ মুছে নিজেকে শান্ত করলাম । নীলাই আমাকে প্রথমে বললো,,,,,,,
নীলাঃ কেমন আছো রকি ?
আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো । তুমি কেমন আছো ?
নীলাঃ আমার আর ভালো । তবুও আছি আলহামদুলিল্লাহ ।
আমিঃ নীলা অবস্থা তোমার কি করে হলো ?
নীলাঃ সেটা বলবো বলেই তো এসেছি ।
আমিঃ হুমম তো বলো ।
নীলাঃ আমি সেদিন তোমার কাছেই ছুটে আসতে ছিলাম । অনেক খুশি সেদিন ।
আমিঃ তারপর,,,
নীলাঃ কুষ্টিয়ায় আমাকে এক ছেলে অনেক ডিসটার্ব করতো । তার জন্য তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেই । পুলিশ ওকে অনেক মারধর করে । আমি তোমার কাছে যেদিন আমার স্কুটার চালিয়ে ছুটে আসছিলাম সেদিনই ও জেল থেকে ছাড়া পায় আর আমাকে ফলো করে পিছু করে ।
আমিঃ তারপর,,,,,
নীলাঃ তারপর আমি যত জোরে স্কুটার চালায় ওরা তত জোরেই কাছে চলে আসে । তারপর সামনে থেকে হঠাৎ একটা কার এসে আমার স্কুটারে ধাক্কা মারে আর আমি অনেক দূরে রাস্তায় গিয়ে পড়ি । আর স্কুটারটা আমার এক পায়ে এসে পড়ে ।
কত স্বপ্ন নিয়ে তোমার কাছে ছুটে আসছিলাম সেই স্বপ্ন ওই ছেলেগুলোর জন্য নিমিষেই শেষ হয়ে গেল । যখন পড়ে ছিলাম চোখের সামনে তোমার ছবিই ভেসে আসছিলো ।
তারপর আমি আর কিছুই বলতে পারি না । যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম । উঠার চেষ্টা করেও পারছিলাম না । তখন ডাক্তার এসে বলে আমার এক পা কেটে ফেলা হইছে । পা টায় অনেক জোরে আঘাত লেগে অকেজো হয়ে গেছিলো ।
বলেই নীলা থামলো । নীলার দিকে দেখি নীলার চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি বয়ে চলেছে । আমার ও নীলার কথা শুনে চোখ থেকে পানি ঝরছে ।
তারপর আমি নীলাকে বললাম,,,,
আমিঃ এতো কিছু তোমার সাথে হয়ে গেল আমাকে একবারও জানাও নি কেন ?
নীলাঃ তোমাকে জানালে আমি জানি তুমি আমার জন্য ছুটে আসতে । কিন্তু আমি চাইনি তোমার সুন্দর জীবন নষ্ট করতে । আমি তোমার ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি । তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো মেয়ে ডিজার্ভ করো । তাই আমি ইচ্ছে করেই তোমাকে কিছু জানায় নি ।
তারপর আমি ভাবলাম । একটা মেয়ে একটা ছেলেকে ঠিক কতটা ভালোবাসলে এরকম করতে পারে আমার জানা নেই । আমি নীলাকে কতটা ভুল বুঝেছি । কতটা ঘৃনা জমিয়ে নিয়ে বেঁচে আছি । ছিঃ এখন নিজের প্রতিই ঘৃণা হচ্ছে ।
তারপর নীলাকে বললাম,,,,
আমিঃ আচ্ছা নীলা তোমার হাজবেন্ট ওকে দেখছি না । কালকে হাসপাতালেও দেখলাম । আর তোমার সন্তান কয়টা,,,কি হইছে,,,ছেলে নাকি মেয়ে ?
নীলা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,,,,,,,,,,,,,
নীলাঃ বিয়েই হয় নি । আর বাচ্চা হা হা ।
আমিঃ মানে
নীলাঃ মানে আমার মতো অপয়া আর বোঝা কে ঘাড়ে চাপানোর জন্য কে বিয়ে করবে বলো । তাই আমার বিয়ে হয় নি ।
তারপর আমি যা করলাম নীলা তা দেখে চমকে উঠলো । কারন আমি,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,
পাঁচ বছর পর
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
266
Views
15
Likes
0
Comments
5.0
Rating