পাঁচ বছর পর

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
রুমের দরজা বন্ধ করে ভাবতে লাগলাম কেন নীলা আমার সাথে এমন করলো । সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম

প্রতিটা সময় নীলার স্মৃতি গুলো মনে পড়তো । তখন অনেক কষ্ট পেতাম । এভাবে তিন মাস ডিপ্রেশনে চলে গেছিলাম । রুম থেকে কখনোই বের হতাম না । গল্প লেখাও বাদ দিয়ে ছিলাম ।

আম্মু আব্বু ভাবলো এভাবে চলতে থাকলে আমি পাগলই হয়ে যাবো । তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলো আমাকে আপুর বাসায় অর্থাৎ ঢাকায় পাঠাবে ।

ওখানে নতুন আবহাওয়া অনেক ভালো লাগবে । তাই পরের দিন ই পাঠিয়ে দিল ঢাকায় । ওখানে গিয়ে নতুন কলেজে আমার ভর্তির ব্যবস্থা করা হলো ।

আপু দুলাভাই অনেক বুঝানোর পর আমি পড়াশোনায় মনোযোগ দেই । তবুও নীলার কথা আমার মনে পড়ে ।

এভাবে পড়াশোনার মধ্যে দিয়ে আমার জীবন থেকে পাঁচটি বছর চলে যায় । এখন আর নীলাকে মনে পড়ে না । আর এখন আমার অনেক বন্ধু হয়েছে । আগের মতো আর গল্প ও লেখা হয় না । অনার্স পাশ করেছি । মাস্টার্স এ ভর্তি হবো ।

আমার দুলাভাই একজন ডাক্তার । আমি সেদিন দুলাভাইকে খাবার দিতে গেছিলাম । আর তখনই আমি নীলাকে দেখতে পাই পাঁচ বছর পর । তারপর আপনারা তো জানেন ই । চলুন এবার ফেরা যাক বর্তমানে ।

বর্তমান,,,,,,,,,,

নীলা আমাকে দেখা করতে বলেছে । ওর থেকে আমি জানতে চাই কেন সে সেদিন এলো না । আমাকে সে কেন ধোঁকা দিলো ।

পরেরদিন চলে গেলাম নীলার দেয়া ঠিকানা মতো ।
একটা বেঞ্জে বসে আছি । এখনো নীলা আসে নি । অনেক্ষন বসে থাকার পর দেখি নীলা এলো । কিন্তু ওর দিকে যখন তাকায় তখন আমার চোখ কপালে উঠলো । সেদিন ওতোটা খেয়াল করি নি ।

চোখ কপালে উঠার কারন হলো নীলা একটা ঠিঙ্গা দিয়ে এক পায়ে ভর দিয়ে আমার দিকে আসছে । আর পা নেই ।

ওর এই অবস্থা দেখে আমার চোখ দিয়ে অজান্তেই ঝরঝর করে পানি আসতে লাগলো । ওর এ অবস্থা কেমনে হলো । কি হইছিলো সেদিন,,,,,

নীলা আমার কাছে আসতেই আমি কোনো রকম চোখ মুছে নিজেকে শান্ত করলাম । নীলাই আমাকে প্রথমে বললো,,,,,,,

নীলাঃ কেমন আছো রকি ?

আমিঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো । তুমি কেমন আছো ?

নীলাঃ আমার আর ভালো । তবুও আছি আলহামদুলিল্লাহ ।

আমিঃ নীলা অবস্থা তোমার কি করে হলো ?

নীলাঃ সেটা বলবো বলেই তো এসেছি ।

আমিঃ হুমম তো বলো ।

নীলাঃ আমি সেদিন তোমার কাছেই ছুটে আসতে ছিলাম । অনেক খুশি সেদিন ।

আমিঃ তারপর,,,

নীলাঃ কুষ্টিয়ায় আমাকে এক ছেলে অনেক ডিসটার্ব করতো । তার জন্য তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেই । পুলিশ ওকে অনেক মারধর করে । আমি তোমার কাছে যেদিন আমার স্কুটার চালিয়ে ছুটে আসছিলাম সেদিনই ও জেল থেকে ছাড়া পায় আর আমাকে ফলো করে পিছু করে ।

আমিঃ তারপর,,,,,

নীলাঃ তারপর আমি যত জোরে স্কুটার চালায় ওরা তত জোরেই কাছে চলে আসে । তারপর সামনে থেকে হঠাৎ একটা কার এসে আমার স্কুটারে ধাক্কা মারে আর আমি অনেক দূরে রাস্তায় গিয়ে পড়ি । আর স্কুটারটা আমার এক পায়ে এসে পড়ে ।

কত স্বপ্ন নিয়ে তোমার কাছে ছুটে আসছিলাম সেই স্বপ্ন ওই ছেলেগুলোর জন্য নিমিষেই শেষ হয়ে গেল । যখন পড়ে ছিলাম চোখের সামনে তোমার ছবিই ভেসে আসছিলো ।

তারপর আমি আর কিছুই বলতে পারি না । যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম । উঠার চেষ্টা করেও পারছিলাম না । তখন ডাক্তার এসে বলে আমার এক পা কেটে ফেলা হইছে । পা টায় অনেক জোরে আঘাত লেগে অকেজো হয়ে গেছিলো ।

বলেই নীলা থামলো । নীলার দিকে দেখি নীলার চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি বয়ে চলেছে । আমার ও নীলার কথা শুনে চোখ থেকে পানি ঝরছে ।

তারপর আমি নীলাকে বললাম,,,,

আমিঃ এতো কিছু তোমার সাথে হয়ে গেল আমাকে একবারও জানাও নি কেন ?

নীলাঃ তোমাকে জানালে আমি জানি তুমি আমার জন্য ছুটে আসতে । কিন্তু আমি চাইনি তোমার সুন্দর জীবন নষ্ট করতে । আমি তোমার ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি । তুমি আমার চেয়ে অনেক ভালো মেয়ে ডিজার্ভ করো । তাই আমি ইচ্ছে করেই তোমাকে কিছু জানায় নি ।

তারপর আমি ভাবলাম । একটা মেয়ে একটা ছেলেকে ঠিক কতটা ভালোবাসলে এরকম করতে পারে আমার জানা নেই । আমি নীলাকে কতটা ভুল বুঝেছি । কতটা ঘৃনা জমিয়ে নিয়ে বেঁচে আছি । ছিঃ এখন নিজের প্রতিই ঘৃণা হচ্ছে ।

তারপর নীলাকে বললাম,,,,

আমিঃ আচ্ছা নীলা তোমার হাজবেন্ট ওকে দেখছি না । কালকে হাসপাতালেও দেখলাম । আর তোমার সন্তান কয়টা,,,কি হইছে,,,ছেলে নাকি মেয়ে ?

নীলা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললো,,,,,,,,,,,,,

নীলাঃ বিয়েই হয় নি । আর বাচ্চা হা হা ।

আমিঃ মানে

নীলাঃ মানে আমার মতো অপয়া আর বোঝা কে ঘাড়ে চাপানোর জন্য কে বিয়ে করবে বলো । তাই আমার বিয়ে হয় নি ।

তারপর আমি যা করলাম নীলা তা দেখে চমকে উঠলো । কারন আমি,,,,,,,,,

চলবে,,,,,,,
266 Views
15 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: