পর্ব ১: প্রথম পরিচয়
রোহানের জীবন ছিল বেশ স্বাভাবিক। নিজের ছোট্ট ব্যবসা চালিয়ে ভালোভাবেই দিন কাটছিল তার। মা-বাবা চেয়েছিলেন, রোহান যেন বিয়ে করে সংসারী হয়। অবশেষে পরিবারের চাপে, একদিন সে বিয়ে করল রিয়াকে।
বিয়ের প্রথম কয়েকটা দিন খুব ভালো কেটেছিল। রিয়া খুবই সুন্দরী আর বুদ্ধিমতী মেয়ে ছিল। রোহান ভেবেছিল, রিয়ার মতো স্ত্রী পেয়ে তার জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারল, রিয়ার ভেতরটা ততটা সুন্দর নয় যতটা সে বাইরে থেকে দেখেছিল।
রিয়ার চাহিদা ছিল অসীম। সে চাইত বিলাসবহুল জীবন, দামী পোশাক, গহনা, আর প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিস। রোহান শুরুতে বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই নেয়। কিন্তু দিন যতই গড়াতে থাকে, রিয়া তার চাহিদা বাড়াতেই থাকে, আর রোহানের উপর চাপ বাড়তে থাকে।
পর্ব ২: অত্যাচারের শুরু
বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই রিয়া ধীরে ধীরে তার আসল রূপ দেখাতে শুরু করল। সে রোহানের সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করত, তার মা-বাবাকে সম্মান করত না, আর প্রতিদিনই নতুন কোনো চাহিদার কথা বলত। রোহান প্রথমে এসব মেনে নিত, ভাবত যে সংসার মানে সামঞ্জস্য রাখা। কিন্তু রিয়া দিন দিন আরও একগুঁয়ে ও স্বার্থপর হয়ে উঠতে লাগল।
একদিন রোহান দোকান থেকে বাড়ি ফিরে দেখল, রিয়া তার জন্য অপেক্ষা না করেই খেয়েছে, আর রোহানের জন্য কোনো খাবার রাখেনি। যখন সে এ নিয়ে কথা বলতে গেল, রিয়া রেগে গিয়ে বলল, "তোমার সংসারে আর আমার কোনো কিছু করার ইচ্ছে নেই। আমি তোমার চাকর নই!"
রোহান অবাক হয়ে গেল। সে ভেবেছিল, রিয়া একটু সময়ের পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তার এই আচরণ দিন দিন আরও খারাপ হতে লাগল।
পর্ব ৩: মানসিক অত্যাচার
রিয়া শুধু রোহানের উপরই নয়, তার মা-বাবার উপরও মানসিক অত্যাচার শুরু করল। সে সবসময় তাদের অপমান করত, তাদের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলত না, আর ছোটখাটো বিষয় নিয়েও বিশাল ঝগড়া বাঁধিয়ে ফেলত। রোহান মাঝে মাঝে নিজের ঘরে বসে ভাবত, কেমন করে তার জীবন এত বদলে গেল।
একদিন রোহান যখন তার দোকানে গিয়ে বসে ছিল, তখন রিয়ার ফোন এলো। রিয়া আবার নতুন কিছু কিনতে চায়, কিন্তু রোহানের পক্ষে সেই খরচ করা সম্ভব নয়। যখন রোহান না বলল, তখন রিয়া তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। ফোনের ওপার থেকে চিৎকার করে বলতে লাগল, "তোমার মতো মানুষের সাথে বিয়ে করে আমার জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। তুমি কিছুই করতে পারো না!"
রোহানের চোখে পানি চলে এলো। সে বুঝতে পারল, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে।
পর্ব ৪: প্রতিরোধের শুরু
রোহান তার বন্ধুর সাথে একদিন এই সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলল। তার বন্ধু তাকে পরামর্শ দিল, "দেখ, জীবনে সবকিছুই সহ্য করতে হয় না। তুমি যদি এখন কিছু না করো, তাহলে তোমার জীবনটা শেষ হয়ে যাবে। সম্পর্ক মানে দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া, কিন্তু রিয়া যা করছে, তা অত্যাচারের সমান।"
রোহান ভাবতে শুরু করল। সে সত্যিই কি এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই শুধু এত কিছু সহ্য করে যাচ্ছে? তার কি নিজের জন্য কিছু করার অধিকার নেই?
সেই রাতেই রোহান ঠিক করল, আর নয়। সে রিয়ার সাথে একটা স্পষ্ট কথা বলবে।
পর্ব ৫: সিদ্ধান্ত
পরের দিন, রোহান রিয়ার সামনে বসে তার সমস্ত কষ্টের কথা খুলে বলল। সে বলল, "রিয়া, এইভাবে চলতে পারে না। তুমি যা চাও, তা পূরণ করার চেষ্টা আমি সবসময় করেছি। কিন্তু তুমি আমাকে, আমার পরিবারকে, আমাদের সম্পর্ককে সম্মান দাওনি। সম্পর্ক মানে ভালোবাসা, বোঝাপড়া আর সম্মান। তুমি যদি সেটা দিতে না পারো, তাহলে আমরা একসাথে থাকতে পারব না।"
রিয়া প্রথমে কিছুটা থমকে গেল। সে ভাবেনি রোহান এভাবে তার সামনে দাঁড়াবে। কিন্তু তারপরও সে তার স্বভাব অনুযায়ী চিৎকার করে উঠল, "তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে? তুমি কি ভেবেছো, তুমি ছাড়া আমি বাঁচব না?"
রোহান শান্ত গলায় বলল, "আমি তোমার প্রতি সব দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু এখন আমি আমার নিজের জন্যও কিছুটা শান্তি চাই।"
পর্ব ৬: মুক্তি
রোহান বুঝতে পারল, রিয়ার সাথে এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করার কোনো মানে নেই। সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল, সম্পর্কের ইতি টানবে। রিয়ার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল কঠিন, কিন্তু রোহান জানত, এটা তার মানসিক শান্তি আর ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয়।
রিয়ার থেকে আলাদা হওয়ার পর, রোহান আবার তার পুরোনো জীবন ফিরে পেল। সে বুঝতে পারল, জীবনের প্রতিটি সম্পর্ককেই মূল্য দিতে হয়, কিন্তু যখন সেই সম্পর্ক অত্যাচারে রূপ নেয়, তখন সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই শ্রেয়।
---
শেষ:
এই গল্পটি শুধুই এক অত্যাচারী বউয়ের নয়, বরং সেই সমস্ত মানুষদের জন্য, যারা জীবনে অত্যাচার আর মানসিক কষ্ট সহ্য করে যায়। সম্পর্ক মানেই ভালোবাসা আর বোঝাপড়া, কিন্তু যখন সেই সম্পর্ক থেকে শান্তি আর সম্মান হারিয়ে যায়, তখন নিজেকে মুক্ত করা প্রয়োজন।
অত্যাচারী বউ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
572
Views
2
Likes
1
Comments
5.0
Rating