একটি ছোট গ্রামে, ঘন বন এবং লুকানো পাহাড়ের মধ্যে একটি প্রাচীন দুর্গ ছিল, যা দীর্ঘকাল ধরে পরিত্যক্ত ছিল। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করত যে দুর্গের মধ্যে একটি পেত্নী এবং একটি ভূত বাস করে, যারা তাদের প্রেমের কাহিনীকে চিরকালীন করে রেখেছে। দুর্গটির নাম ছিল "অভিশপ্ত প্রাসাদ," এবং এখানকার গল্প ছিল এক রোমান্টিক ও রহস্যময় জাদুর কাহিনী।
অতীতের গল্পে বলা হয়েছিল যে প্রাসাদের পেত্নী ছিল মধুবালা, একটি রূপসী যুবতী, যিনি একজন রাজকুমারের প্রেমে পড়েছিলেন। রাজকুমার ছিল দেবরাজ, যে ছিল সাহসী এবং ভালো হৃদয়ের অধিকারী। তাদের প্রেম ছিল গভীর এবং অবিস্মরণীয়, কিন্তু এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা তাদের মিলনকে বাধা দেয়। একটি চক্রান্তের কারণে, দেবরাজের জীবন বিপন্ন হয় এবং মধুবালা তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়। তাদের দুজনের প্রেম অপূর্ণ থাকে, এবং তাদের আত্মা চিরকাল দুর্গে বন্দী হয়ে যায়।
একদিন, শহরের এক তরুণী, প্রিয়া, একটি ঐতিহাসিক গবেষণার জন্য গ্রামে এসে পৌঁছল। প্রিয়া প্রেম এবং অতীতের রহস্য নিয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিল এবং সে অভিশপ্ত প্রাসাদ এবং মধুবালা ও দেবরাজের কাহিনী অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিল। প্রিয়া বিশ্বাস করত যে এই কাহিনীর মধ্যে কিছু অপ্রকাশিত সত্য রয়েছে যা তাকে নতুন অনুপ্রেরণা দেবে।
প্রিয়া দুর্গে প্রবেশ করে এবং পুরনো চিঠি, চিত্রকর্ম এবং ইতিহাসের নিদর্শন খুঁজতে শুরু করল। সে একটি পুরনো পাণ্ডুলিপি পেল, যা মধুবালা ও দেবরাজের প্রেমের গল্প এবং তাদের বিচ্ছেদের কারণ বর্ণনা করছিল। পাণ্ডুলিপিতে লেখা ছিল যে তাদের প্রেম পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশেষ পূর্ণিমার রাতে একটি আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে।
প্রিয়া এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করল। পূর্ণিমার রাতে, প্রিয়া দুর্গের ভিতরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করল, যেখানে মধুবালা ও দেবরাজের প্রেমের স্মরণে মন্ত্র পাঠ করা হবে। গ্রামবাসীরা অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিতে এসে উপস্থিত হল।
অনুষ্ঠানের সময়, পূর্ণিমার চাঁদের আলো দুর্গের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল এবং একটি রহস্যময় পরিবেশ তৈরি হল। প্রিয়া মন্ত্র পাঠ শুরু করল এবং ধীরে ধীরে, দুর্গের মধ্যে একটি কোমল আলো ছড়িয়ে পড়ল। মধুবালা এবং দেবরাজের আত্মা একে একে দৃশ্যমান হল, তাদের প্রেমের ছাপ মুখে ছিল।
মধুবালা ও দেবরাজ প্রিয়ার কাছে এসে বললেন যে তাদের দীর্ঘকালীন অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। তারা ধন্যবাদ জানালেন এবং প্রিয়ার সাহায্যে তাদের প্রেমের জাদু পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। তাদের আত্মা শান্তি লাভ করেছে এবং তাদের প্রেমের ইতিহাস চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
প্রিয়া তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন, যা মধুবালা ও দেবরাজের প্রেমের কাহিনী এবং তাদের মুক্তির গল্প তুলে ধরবে। বইটি গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিতি লাভ করল এবং এটি প্রেমের অমরত্ব ও আত্মার শান্তি নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করল।
এভাবে, মধুবালা ও দেবরাজের প্রেমের কাহিনী চিরকাল স্মরণীয় হয়ে রইল এবং প্রিয়ার কাজ প্রেম ও রহস্যের মাধ্যমে আত্মার মুক্তির একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রমাণিত হল।
ভূতের প্রেমের জাদু
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
336
Views
2
Likes
0
Comments
0.0
Rating