পাঁচ বছর পর

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রায় ঘন্টা খানেক কেটে গেল । নীলা এখনো আসলো না । নিশাত বললো,,,,,,

নিশাতঃ ভাইয়া কই আসতেছে না তো । একটু ফোন করেন না । আমাকে তো আবার যেতে হবে ।

আমিঃ হুমম ।

তারপর নীলা কে ফোন করলাম । ফোনের ওপাশ থেকে একটা মেয়ে বলতেছে,,,,

"""আপনি যে নাম্বারে ফোন করেছেন সেটা এই মুহূর্তে বন্ধ আছে""""

প্রথমে ভাবলাম খুব সামান্য ব্যাপার । কিছুক্ষণ পর আবার নীলাকে ফোন দিলাম । কিন্তু আবার তার ফোন বন্ধ পেলাম । এভাবে অনেক্ষন নীলার ফোনে ট্রাই করলাম ।

কিন্তু বারবার ফোন বন্ধই পেলাম । তখন আমার পায়ের মাটি সরে যেতে লাগলো । আমি অনেচ ঘামতে শুরু করলাম ।

আমার এরকম অবস্থা দেখে নিশাত আমাকে বললো,,,,,

নিশাতঃ কি হয়েছে ভাইয়া ।

আমিঃ কিছু না ।

নিশাতঃ নীলা কখন আসবে ।

আমিঃ ওর ফোন বন্ধ পাচ্ছি ।

এদিকে নিশাতকেও ওর আম্মু বারবার ফোন দিচ্ছে । তখন নিশাত আমাকে বললো,,,,,,

নিশাতঃ ভাইয়া আমাকে যেতে হবে আম্মু অনেক্ষন ধরে ফোন দিচ্ছে । আমার আর গল্পের পূর্ণতা দেখা হলো না ।

তারপর কষ্ট গুলো চেপে রেখে আমি নিশাত কে হাসি মুখেই বিদায় দিলাম ।

তারপর নীলাকে আমি ফোন করেই যাচ্ছি কিন্তু বারবার ফোন বন্ধই পেলাম । মনে আমার অন্য ধারনা চলে আসছে,,,,

আমিঃ তাহলে নীলা আমাকে ঠকালো ? নীলা কি আর আসবে না ? ও কেন ফোন বন্ধ রাখছে ?

এসব ভাবতে ভাবতে চোখের কণা দিয়ে অজান্তেই পানি পরা শুরু করেছে । চোখের পানি যেন কোনো বাধাই মানছে না ।

চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে আসছে । পরক্ষণেই নিজেকে শান্ত করে স্টশনের এক কোনায় বসে রইলাম ।

হয়তো নীলা আসবে । দুপুর থেকে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসছে । আর আমি শুধু চারিদিকে দেখছি এই হয়তো নীলা আসবে ।

সন্ধ্যাও গড়িয়ে রাত চলে এলো । আমি ওখানেই বসে শুধু একটা কথাই ভাবছি ।

আমিঃ কেন আমার সাথে নীলা এমন করলো । এতোদিন কি তাহলে ও আমার সাথে ভালোবাসার মিথ্যা অভিনয় করেছে । কিন্তু আমি তো তাকে সত্যিই ভালোবেসে ছিলাম ।

এগুলো ভাবতে ভাবতেই আবার চোখ গুলো ঝাপসা হয়ে আসছে । তক্ষুনি ফোনের রিংটোনটা বেজে উঠলো । আমি খুব তড়িঘড়ি করে ফোন বের করলাম । ভাবলাম নীলা ফোন করেছে ।

কিন্তু আমি নিজেই ভুল প্রমাণিত হলাম । আম্মু ফোন করেছে । এখন আমি আম্মুকে কে বলবো । কত বড় মুখ করে বলেছিলাম নীলা অনেক ভালো মেয়ে । ও আমাকে অনেক ভালোবাসে । এখন আমি তাকে কে জবাব দিবো ।

তারপর আম্মুর ফোন রিসিভ করলাম ।

আমিঃ হ্যালো আম্মু ।

আম্মুঃ কি রে আর তো ফোন করলি না । ওদিকে সব ঠিক ঠাক আছে তো । বউমাকে নিয়ে বাসায় আসছিস তো । কতদূর তোরা এখন । বউমাকে ফোনটা দে না একটু কথা বলবো ।

আমি আম্মুকে কে বলবো বুঝতে পারছি না । অজান্তেই কান্না চলে আসছে । জোরে কান্না করলে আম্মুও কাঁদবে । তাই মুখ চেপে ধরে অনেক কান্না করছি । কোনো কথা বলছি না ।

আম্মুঃ কি রে রকি কথা বলছিস না কেন ? সব ঠিক আছে তো ।

তারপর কান্না থামিয়ে শান্ত গলায় বললাম,,,,,,,,,,,,,,,

আমিঃ নীলা আসে নি আম্মু । ওর ফোন সুইচ অফ করা ।

আম্মুঃ কি বলছিস এগুলো ।

আমিঃ ঠিক ই বলছি আম্মু ।

আম্মু বুঝতে পারছে আমি কান্না করছি ।

আম্মুঃ এতো রাত পর্যন্ত তুই স্টেশনেই আছিস নাকি ।

আমিঃ হ্যাঁ আম্মু যদি নীলা আসবে ।

আম্মুঃ ও আর আসবে না বাবা । তুই ফিরে আয় ।

আমিঃ সকাল পর্যন্ত দেখি না আম্মু ।

আম্মুঃ বাবা শো................

পুরো কথা বলার আগেই কেটে দিলাম । আম্মুর সাথে কথা বলতে পারছি না । বুক ফেটে কান্না বের হয়ে আসছে । কেন নীলা এমন করলো ।

সারারাত স্টেশনে কাটালাম । আর প্রতি দশ মিনিট পর পর নীলাকে ফোন করেছি । কিন্তু বন্ধ পাইছি ।
আমি জানি নীলা আর আসবে না । তবুও নিজের অশান্ত মন কে শান্ত করার জন্য বারবার ফোন করি ।

সকাল হয়ে যায় তবুও নীলা এলো না । এক বুক কষ্ট নিয়ে সকালের ট্রেনে কুষ্টিয়া থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য উঠে পড়লাম ।

তারপর স্টেশন থেকে নেমে গাড়ি করে বাসায় চলে এলাম । সারা রাস্তা অনেক কান্না করেছি । যেখানে নিজের ভালোবাসার মানুষ কে নিয়ে ফেরার কথা সেখানে খালি হাতে বাড়ি ফিরলাম ।

দরজায় কলিংবেল বাজাতেই আম্মু এসে খুলে দিলো । আমাকে এরকম দেখেই আম্মু কাঁদতে লাগলো । আমিও আম্মুকে জড়িয়ে ধরে ধরে অনেক কাঁদতে লাগলাম ।

আম্মু আমাকে কি বলে শান্তনা দিবে কিছুই বুঝতেছে না । আমি শুধু আম্মুকে বললাম,,,,,,

আমিঃ আমার সাথেই কেন এমন হয় আম্মু । জীবনের প্রথম কাউকে এতোটা ভালোবাসলাম । আর দেখো সব ভালোবাসা কাঁটা হয়ে আমার লাইফে কষ্টের প্রতীক হয়ে দাড়িয়েছে ।

আম্মুঃ চুপ কর বাবা,,,চুপ কর ।

আম্মুও অনেক কাঁদছে । তারপর আমি আমার রুমে এসে দরজা লাগিয়ে দিলাম । আর ভাবতে লাগলাম কেন ও আমার সাথে এমনটা করলো,,,,,,,,,??

চলবে,,,,,,,,,,

পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
306 Views
18 Likes
0 Comments
4.7 Rating
Rate this: