অব্যক্ত অনুভূতি

-এখানে কেনো এসেছো?তোমার friends রা তো তোমার জন্য wait করছে।তাদের কাছে যাও (মেয়েটি সামনে তাকিয়ে)

-তুমি শুধু শুধু রাগ করছো মায়ামি।আমার ওদের সাথে কিছু কাজ ছিলো।তাই আমি এখানে সময়মত আসতে পারিনি (ছেলেটি মায়ামির পেছনে দাঁড়িয়ে)

-হ্যাঁ তো যাও না ওদের কাছে।কাজ করো গিয়ে।আমার কাছে আসার কী প্রয়োজন ছিলো?এই নিশা চল (বলে মায়ামি তার পাশের মেয়েটি মানে নিশার হাত ধরে চলে গেলো)

-মায়ামি,মায়ামি?(ছেলেটি পিছু ডাকলেও মেয়েটি দাঁড়ায় না)

-এত রাগ যে কোথা থেকে আসে এর খোদা ভালো জানে?(দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলেটি)

কী পাঠকগণ,কিছু বুঝছেন না তো?চলুন আপনাদের মনের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিই।এতক্ষণ যে মেয়েটিকে ছেলেটির সাথে ঝগড়া করতে দেখলেন,তার নাম মায়ামি।Inter 1st year এর student সে।দুধে আলতা গায়ের রং,উজ্জ্বল কালো মণিবিশিষ্ট চোখ যে কাউকে সম্মোহিত করার জন্য যথেষ্ট।খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে।তবে রাগটা একটু বেশি।
যে ছেলেটি মায়ামিকে মানানোর চেষ্টা করছিলো সে মাহির।মাহির পড়ে Inter 2nd year এ।মাহিরের গায়ের রংও উজ্জ্বল ফর্সা।এক কথায় যাকে বলে crush material.

মাহির প্রায় দুমাস ধরে মায়ামির পেছনে ঘুরছে।সে মায়ামিকে কখনও প্রকাশ্যে বলেনি সে তাকে ভালোবাসে।তবে তার কাজের মাধ্যমে মাহির বুঝিয়ে দেয় তার অব্যক্ত অনুভূতি।
অন্যদিকে মায়ামির অবস্হাও অনেকটা সেরকমই।তবে সে তার অনুভূতি মাহিরকে বুঝতে দেয় না।মায়ামি চায় মাহির যেদিন তাকে নিজে প্রপোজ করবে সেদিন সেও নিজের মনের কথা মাহিরকে বলবে।তাছাড়াও মাহির যে তার পেছনে ঘোরে সেটা বেশ ভালোই উপভোগ করে মায়ামি।মায়ামির একটা বদঅভ্যেস রয়েছে।সে মাহিরের সাথে ঠিকমতে কথা বলতে পারে না।মাহির সামনে থাকলেই দুনিয়ার যত রাগ এসে ভর করে তার মাথায়।কেন যে এটা হয় সে নিজেও বুঝতে পারে না।

🌸______________________________🌸

মায়ামি করিডোর দিয়ে হাঁটছে আর মাহির তার পিছুপিছু হাঁটছে।মাহির পায়ের জোর লাগিয়ে মায়ামির পাশাপাশি হাটতে লাগালো।

-হ্যালো (মাহির)

মায়ামি কিছু না বলে আরও দ্রুত হাঁটতে লাগলো।

-একটু কথা বলা যাবে (মাহির)

-(হাটা থামিয়ে) আমি যখন কথা বলতে চেয়েছিলাম তখন তো ব্যস্ত ছিলে।তাহলে এখন কেন কথা বলতে চাইছো?(মায়ামি)

-আচ্ছা বাবা সরি।প্লিজ এবারের মতো মাফ করে দাও (মাহির অসহায়ভাবে তাকিয়ে)

মায়ামি মাহিরের এই দৃষ্টি অগ্রাহ্য করতে পারলো না।সে মাহিরের থেকে চোখ ফিরিয়ে নিল।কারণ বেশিক্ষণ সে সেই চোখের দিকে তাকালে সে হারিয়ে যাবে মাহিরের চোখে।


-আচ্ছা এবারের মতো মাফ করলাম।(মায়ামি)

মাহিরের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।


🌸________________________________🌸


-সত্যিই তোদের ব্যাপার-স্যাপার আমি কিছু বুঝি না। (নিশা)

-কেন কী বুঝিসনা? (মায়ামি)

-এই যেমন আজকে তোদের ঝগড়া হলো।ভালো কথা,আবার কিছুক্ষণের মধ্যে মিটমাটও হয়ে গেলো।(নিশা)

-কেনো তুই কী চাচ্ছিলিস এটা continued হোক?(মায়ামি)

-আরে আমি সেটা কখন বললাম?(নিশা)

-তাহলে কি বলছিস পরিষ্কার করে বল তো (মায়ামি)

-তুই ভাইয়ার ওপর রাগ দেখালি ঠিক আছে।আবার এতো সহজে গলে গেলি কেন?(নিশা)

-তোর ভাইয়া ক্ষমা চেয়েছে বলে (মায়ামি)

-ওহ।এভাবে যদি তোকে প্রপোজটা করত (নিশা আফসোসের স্বরে)

-সে দিন কী আদও আমি দেখতে পারবো?(মায়ামি)

-আচ্ছা তুইও তো বলতে পারিস একটু ভাইয়াকে (নিশা)

-তোর ভাইয়া বলেছে?(মায়ামি)

-কিন্তু ও তো ওর কাজকর্মের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয় ওর মনের কথা।তুই তো সেটাও করিসনা। (নিশা)

-তোর ভাইয়াকে দেখেই তো আমার রাগ ওঠে।আমি কীভাবে কী করবো?(মায়ামি)

-🤦‍♀️🤦‍♀️🤦‍♀️(নিশা)


🌸________________________________🌸


কিছুদিন পর.....……………………

সময় নিজের মতো বয়ে চলেছে।তবে পরিবর্তন তেমন কিছু হয়নি।মাহির বা মায়ামির কেউই কাউকে নিজের মনের অব্যক্ত অনূভুতিগুলো বলে উঠতে পারিনি।


মায়ামি আর নিশা কলেজ গার্ডেনে হাটাহাটি করছিল।এমন সময় মায়ামিকে একটি মেয়ে ডাক দেয়।মায়ামি আর নিশা মেয়েটির কাছে যায়।

-চেনো আমাকে?(মেয়েটি)

-হ্যাঁ কিছুটা মনে করতে পারছি।তুমি মাহিরের বেস্ট ফ্রেন্ড মালাইকা না?(মায়ামি)

-তোমার কথায় কিছুটা ভুল আছে।তুমি আমার নামটা তো ঠিক বলেছো।কিন্তু বাকিটা একটু ভুল হয়ে গেলো।(মালাইকা)

-মানে?(মায়ামি)

-মানে আমি মাহিরের বেস্টফ্রেন্ডের থেকেও বেশি কিছু।তুমি আমাকে ওর গার্লফ্রেন্ড বলতে পারো,বেস্টফ্রেন্ড বলতে পারো।আবার ওর নরমাল ফ্রেন্ডও ভাবতে পারো।কিন্তু আমি মাহিরের অনেক কাছের কেউ (মালাইকা শেষের কথাটা একটু জোর দিয়ে বললো)

-আপু,তুমি কী বলতে চাইছ আমি বুঝতে পারছি না। (মায়ামি)

-অত বুঝে তোমার কাজ নেই।এখন আমি যেই কথাটা বলবো সেটা ভালো করে বোঝ।তুমি মাহিরের সাথে আর কথা বলবে না।(মালাইকা)

-কেন?(মায়ামি)

-কিসের জন্য আমি সেটা বলতে পারবো না।তবে তুমি যদি এরপর মাহিরের সঙ্গে কথা বলো আমি মাহিরের বাবাকে তোমাদের সম্পর্কে জানাতে বাধ্য হবো।(মালাইকা)


মায়ামির মাথায় বাজ ভেঙে পড়লো।নিশার অবস্হাও অনেকটা সেরকম।মালাইকা নিঃসন্দেহে মায়ামিকে ব্ল্যাকমেইল করছে।

-ক..কেনো আপু কোনো সমস্যা (মায়ামি
অস্ফুটস্বরে)

-আমি জানিনা কিছু।শুধু জানি তুমি যদি আর একবার মাহিরের সাথে কথা বলো,instant সেটা মাহিরের বাবার কানে চলে যাবে।Mind it (মালাইকা এটি কড়া গলায় বলে চলে গেলো)

মায়ামির হাত পা কাঁপছে।অল্প কিছুতেই সে অনেক বেশি panicked হয়ে যায়।আর এখানে তো তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে।নিশা কোনোরকমে মায়ামিকে ক্লাসরুমে নিয়ে গেল।

-(মাথার চুল খামচে ধরে) ন...নিশা আমি কি করবো এখন?(মায়ামি কোনোরকমে)

-মায়ামি,মায়ামি শান্ত হ।এত বেশি panicked হোস না (নিশা মায়ামিকে শান্ত করে)

-দেখ আমার হাত পা রীতিমতো কাঁপছে।(মায়ামি)

-এ নে পানি খা (Water pot এগিয়ে দিয়ে নিশা)

মায়ামি ঢকঢক করে সমস্ত জল খেলো।


-আমার কী ওর সাথে সব রকমের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া উচিত?(মায়ামি)

-এমা কেনো?(নিশা)

-সত্যিই যদি ওই মালাইকা আংকেলকে বলে দেয় আমাদের কথা?(মায়ামি)

-কী সব যা তা কথা বলছিস মায়ামি।ও কিছু করতে পারবে না।(নিশা)

-আমি আর এসব নিতে পারছি না নিশা।তুই জানিস আমি একটুতেই অসুস্থ হয়ে পড়ি।আর সেখানে তো.............।আমি আজই মাহিরের সাথে সবকিছু শেষ করে দেবো।(মায়ামি)

-দাঁড়া, দাঁড়া।এভাবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিস না।তাড়াঘুরোয় নেয়া সিদ্ধান্ত সবসময় ভুল হয়।আমি বলি কি তুই আগে মাহির ভাইয়ার সাথে কথা বল।তারপর ভেবে দেখ কী করব (নিশা)

-বলছিস?(মায়ামি)

-হুম (নিশা)

-আচ্ছা আমি কথা বলবো ওর সাথে।(মায়ামি)

সেদিন ছুটির কিছুক্ষণ আগে মাহির,মালাইকা আর তার কিছু বন্ধুবান্ধব কলেজে বসে ছিলো।মালাইকার নজর সবসময় মাহির আর মায়ামির দিকে ছিলো।মায়ামি অনেক সাহস সঞ্চয় করে মালাইকার সামনে মাহিরকে গিয়ে বললো -

-তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।একটু side এ আসতে পারবে?(মায়ামি)

-হ্যাঁ sure চলো (মাহির)

মাহির মায়ামির সাথে চলে গেলো।মালাইকা রীতিমতো রাগে ফুসছে।


-বলো কী বলবে।(মাহির)

-জানো,তোমার এক খুব কাছের ফ্রেন্ড আমকে ব্ল্যাকমেইল করেছে? (মায়ামি)

-কে সে?(মাহির অবাক হয়ে বললো)

-মালাইকা (মায়ামি)

ব্যাস,আর কিছু শুনলো না মাহির।মালাইকা মাঠে বসে মাহির আর মায়ামিকেই দেখছিলো।মাহির-"মালাইকা" বলে তার কাছে আসতে লাগলো।মায়ামি মাহিরকে পিছু ডাকলো।

-মাহির,আমার পুরো কথাটা শোনো (মায়ামি এই বলে দ্রুত পা চালিয়ে মাহিরের পেছন পেছন গেল।সে কিছুটা বিরক্তও হলো মাহির তার কথা পুরোপুরি না শোনাতে)

-কী হয়েছে তোর?(মাহির)

মায়ামি ততক্ষণে সেখানে উপস্হিত হয়ে গেছে।

-কী আবার হবে?(মালাইকা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে)

-তুই মায়ামিকে কি বলেছিস? (মাহির)

মালাইকা চোখ গরম করে মায়ামির দিকে তাকালো।

-কিছু বলিনি আমি ওকে (মালাইকা)

-মিথ্যে কথা বলবি না মালাইকা।কেন করছিস এসব তুই? (মাহির)

-আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই (মালাইকা)

-তোর সমস্যাটা কী?আমি একজনকে ভালোবাসি সেখানে তোর সমস্যাটা কোথায়?(মাহির চেচিয়ে)

-আছে আমার সমস্যা।আমি রিলেশন করতে দেব না তোকে।তুই করবি না রিলেশন।আর যদি তোদের মধ্যে আজকের পর আর কোনো সম্পর্ক থাকে আমি কিন্তু সত্যি আংকেলকে বলে দেব তোদের কথা (মালাইকা)

-What the........(মাহির)

-(মায়ামি চেচিয়ে)Enough is enough.অনেক হয়েছে।আমি নিতে পারছি না আর।মাহির,তুমি থাকো তোমার মালাইকাকে নিয়ে।আমার পক্ষে আর তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখা সম্ভব হচ্ছে না।(মায়ামি এই বলে উল্টো ঘুরে সেদিকে পা বাড়ালো)

-মায়ামি,মায়ামি দাঁড়া,মায়ামি (নিশাও এ বলে মায়ামির পেছন পেছন ছুটলো)


-তুই কী করলি মায়ামি এটা (নিশা)

-যা করেছি তা সবার ভালোর জন্য করেছি।এটা করলে মাহির ভালো থাকবে।(মায়ামি)

-আর তুই,তোর কী হবে?তুই ভালো থাকতে পারবি মাহির ভাইয়াকে ছেড়ে?(নিশা)

-আমি মানিয়ে নেবো।কিন্তু এখন আমি আর মাহিরের সাথে কোনোরকম যোগাযোগ রাখবো না।সব সম্পর্ক শেষ করে দেবো আমি ওর সাথে। (মায়ামি)

-আরে আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না তোরা দুজন দুজনকে ভালোবাসিস, তাহলে মালাইকা,একটা থার্ড পার্সন এর জন্য তোরা কেন আলাদা হবি?কে ও?(নিশা চিল্লিয়ে)

-মালাইকা কোন সাধারণ কেউ নয় নিশা,ও মাহিরের অনেক কাছের কেউ।মাহিরের বাবাকে চিনিস তুই?যদি উনি একবার আমাদের কথা সব জেনে যায় তাহলে মাহির তো শেষ হবেই,সাথে আমারও ক্ষতি হবে।(মায়ামি)


মায়ামি একটা জায়গায় বসে কাদতে থাকে।মাহিরের তার এই অবস্থা দেখে খারাপ লাগে।সে মায়ামির কাছে যেতে গিয়েও পারে না।কারণ মালাইকা তাদের উপর নজর রাখছে।


-তুই যা করার কর।কিন্তু আমি মাহির ভাইয়ার সাথে কথা বলবো (নিশা)

-বল,কিন্তু আমাকে আর কিছু মধ্যে টানিস না। (মায়ামি)

নিশা গিয়ে মাহিরকে ডাকে।নিশার মাহিরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় সে মাহিরকে ভাইয়া বললেও তাকে তুই বলে সম্বোধন করে।


-ভাইয়া শোন (নিশা)

-হুম।বল (মাহির)

-ঐ মালাইকার ব্যাপারটা বল তো আমাকে।কী চাচ্ছেটা কী ও (নিশা)

-শোন,মালাইকা হলো আমার cousin.ওর একটা ক্রাইম কথা আমি আমাদের family তে বলে দিয়েছিলাম।এখন ও সেটার রিভেঞ্জ নেওয়ার জন্য এসব করছে।এখন আমার ওর বিরুদ্ধে একটা প্রুভ দরকার।তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।(মাহির)

-দেখ আমি তোদের family matter এ ঢুকতে চাই না।সেটা তোদের নিজেদের ব্যাপার।কিন্তু মায়ামিকে এখানে জড়ানো হচ্ছে কেন?ওর দিকে তাকানো যাচ্ছে না,ও এতটা upset হয়ে আছে।আর হ্যাঁ,তুই জানিস কিনা জানি না,মায়ামি কিন্তু তোকে ভালোবাসে।ও এতদিন এই কথাটা তোকে বলেনি, কারণ তুইও বলিসনি ওকে।এখন মালাইকা একটা তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে তোদেরকে আলাদা করবে কিনা সেটা তোদের ডিসিশন (নিশা)

সেদিনকার মতো সবাই সবার বাড়ি চলে গেলো।নিশার কথাগুলো তাকে খুব চিন্তিত করে তুলেছিল।মায়ামি তাকে ভালোবাসে এটা শুনে সে খুশি তো হয়েছিলো,কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে নিজের খুশিটাকে ধরে রাখা খুব দুষ্কর কাজ।সে ভেবে পাচ্ছিলো না সে কী করবে।দোটানায় পড়ে গিয়েছিলো সে।


সেদিনের পর কলেজ পনেরো দিনের জন্য বন্ধ ছিল।ছুটির মধ্যেই মায়ামি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো।অতিরিক্ত চিন্তা ও জ্বর থাকায় সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।তৎক্ষণাৎ তাকে ICU তে নেওয়া হয়।কিছুদিন পর সে কিছুটা সুস্থ হয়।এই ঘটনার কথা মাহির জানতো না।


কলেজ খুলতেই সেখানে একটি অনুষ্ঠান হয়।মাহির মায়ামিকে সেখানে একটি সাদা ড্রেস পড়ে আসতে বলেছিল।কারণ সেও সেদিন সাদা ড্রেস পরবে।কিন্তু আসার সময় মায়ামির সাদা ড্রেসে জুস পড়ে যাওয়ায় সে আর ওই ড্রেসটি পড়তে পারেনি।সে একটি কালো ড্রেস পড়ে আসে।সেটা দেখে মাহির অনেক রাগ করে।সে সাদা ড্রেস পাল্টে একটা কফি কালারের ড্রেস পড়ে আর মায়ামির সাথে কথা না বলেই চলে যায়।


মায়ামি মাহিরকে একমাস তার থেকে দূরে থাকতে বলে।কারণ মায়ামির মা তাদের কিছুটা সন্দেহ করছেন।কিন্তু মাহির ভাবে,মায়ামি তার থেকে দূরে যেতে চাচ্ছে,তাই সে আর অভিমান করে মায়ামির সাথে কথা বলেনি।

এক সপ্তাহ ধরে মাহির কলেজে আসল না।মায়ামি প্রতিদিন ক্লাসের বেল না দেওয়া পর্যন্ত কলেজের গেটের দিকে চেয়ে থাকতো।কিন্তু মাহির আসত না।অবশেষে তার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাহির আসে।কিন্তু তাকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়।মায়ামির এতে খারাপ লাগে।
মায়ামি লক্ষ্য করে মাহির তাকে ইগনোর করা শুরু করেছে।মালাইকার সাথে একটু বেশি মিশছে।সে মাহিরকে তার থেকে দূরে থাকতে বলেছে।কিন্তু একেবারে দূরে সরে যেতে তো বলেনি,না মালাইকার সাথে মিশতে বলেছে।ধীরে ধীরে তার মনের মাহিরের প্রতি একটা চাপা অভিমান জেকে বসে।


নিশা শেষে মাহিরের কাছে গিয়ে বলে-

-কী হয়েছেটা কী তোর?মায়ামির সাথে এমন কেন করছিস তুই?(নিশা)

-আমি কী করলাম?মায়ামির কথামত তো কাজ করছি আমি।ওর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখছি না।(মাহির)

-আচ্ছা সেটা বুঝলাম।কিন্তু মায়ামি কি তোকে মালাইকার সাথে মিশতে বলেছিল?তুই ওর সাথে এত ক্লোজ হলি কেন? (নিশা)

-আরে তুই আমার অবস্থাটা বুঝতে পারছিস না।এখন মালাইকার সাথে ভালো ব্যবহার না করলে ও বাড়িতে সব বলে দেবে।আর আমি এখন ওর সাথে ভালো ব্যবহার করছি যাতে আমি ওর বিরুদ্ধে একটা প্রমাণ পাই।(মাহির)

-সেটা তুই মায়ামিকে বলেই তো করতেপারিস। জানিস ও কতটা কষ্ট পাচ্ছে?কতটা ভেঙে পড়েছ ও।কিছুদিন আগে ও আইসিইউ তো ছিল (নিশা)

কথাটা শুনেই মাহিরের বুক ধক করে ওঠে।


-আইসি ইউ তে ছিল মানে,কি হয়েছিল ওর?(মাহির)

নিশা মাহিরকে সব খুলে বলে।

-প্লিজ ওর কাছে যা।ওর সাথে কথা বল।ওর রাগ ভাঙা।আমি ওর এই অবস্থা দেখতে পাচ্ছি না (নিশা)

-কোথায় আছো ও এখন? (মাহির)

-I think ও এখন বাড়ি যাবে।তবে এখনও যায়নি।(নিশা)

নিশার বলতে দেরি কিন্তু মাহিরের গেটের দিকে যেতে দেরি হলো না।সে দেখলো মায়ামি গেট ক্রশ করতে যাবে এখনই,তবে তার সাথে এখন একটা মেয়ে আছে।মাহির কান ধরে মায়ামির দিকে যেতে থাকে।মায়ামি তা দেখে তো আকাশ থেকে পড়ে।তাড়াতাড়ি গেট পেরিয়ে সে গাড়িতে উঠতে যাবে তখনই মাহির তার সামনে আসে।কান ধরে বলে-


-প্লিজ মায়ামি রাগ করো না।আমাকে ক্ষমা করে দাও তুমি।আমি বুঝতে পারিনি তুমি এত কষ্টে আছো।(মাহির)

মায়ামি চোখ দিয়ে তার পাশের মেয়েটাকে ইশারা করলেও মাহির তা বুঝতে পারে না।আসলে যে মেয়েটা মায়ামির পাশে ছিলো,সে যদি মায়ামি আর মাহিরের সম্পর্কে জেনে যায় তাহলে সে মায়ামির মাকে সব বলে দেবে।


-প্লিজ রাগ করে থেকো না (মাহির একইভাবে)

-ভাইয়া আপনি এসব কী বলছেন?আমি কেনো আপনার ওপর রাগ করে থাকতে যাবো?(মায়ামি)

-ভাইয়া!!!!!!(অবাক হয়ে মাহির)

-হ্যাঁ,ভাইয়া আপনি এক কাজ করুন আপনি বরং নিশার কাছে যান ওকে সরি বলুন।তাহলেই আমি আপনাকে ক্ষমা করে দেবো।এখন আমি আসি হ্যা (মায়ামি এই বলে চটজলদি গাড়িতে উঠে গেল)

মাহির বোকার মতো হা করে মায়ামির গাড়িটির চলে যাওয়া দেখতে থাকল।

-ভাইয়া,,,Like seriously??(মাহির)


মায়ামি গাড়িতে উঠে দেখে মেয়েটি তার দিকে সন্দিগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে।

-ঐ ছেলেটা কে ছিলো? (মেয়েটি)

-আরে নিশার বয়ফ্রেন্ড।আমার আর নিশার সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে তো তাই ক্ষমা চাইতে এসেছিল (মায়ামি)

-ওহ (মেয়েটি)

গাড়ি আবার আপন গতিতে চলতে থাকলো।


🌸_______________________________🌸


পরদিন মাহির মালাইকার বিরুদ্ধে একটি প্রুভ খুঁজে পায়।সে তার এবং তার বয়ফ্রেন্ডের ছবি তুলে তা দেখিয়ে মালাইকাকে ব্ল্যাকমেইল করে।ঐ চোরের ওপর বাটপারি আরকি😅এ ঘটনায় মালাইকা দমে যায় এবং মাহিরের ক্ষতি করার চিন্তাভাবনা ছেড়ে দেয়।


সেদিনই মাহির আর মায়ামি দুজনে পার্কে দেখা করে।


মায়ামি কিছু বলতেই যাচ্ছিল কিন্তু তার আগে মাহির বলে -

-সব কথা বাদ দাও,আগে এটা বলো তুমি আমাকে কালকে ভাইয়া কেন বললে?(মাহির)

-আরে কালকে তোমার সাথে কথা বললে আমার  পাশে যে মেয়েটা ছিল,ও সব বুঝে যেত আর আমাদের ব্যাপারে আমার আম্মুকে সব বলে দিত।তাই আমি তোমাকে ভাইয়া বলে ডেকেছি।(মায়ামি)

মাহির স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।

-আমি তো ভাবলাম........... তুমি জানো তুমি আমাকে ভাইয়া বলেছ দেখে আমার সারারাত ঘুম হয়নি (মাহির)

মায়ামি মাহিরের কথা শুনে ফিক করে হেসে ফেলে।

-তুমি হাসছো,জানো কালকে আমার কি অবস্থা হয়েছিল (মাহির)

-ঠিক হয়েছে।নিজে যখন মালাইকার সাথে মেশো,তখন (মায়ামি)

-আরে সেটা তো আমি ওর বিরুদ্ধে প্রুফ নেওয়ার জন্য করেছিলাম (মাহির)

-আমাকে তো বলতে পারতে।আর এক সপ্তাহ কোথায় গায়েব ভয়ে গিয়েছিলে হুম? (মায়ামি)

-তুমিই তো বলেছিলে তোমার সাথে একমাস কোনো যোগাযোগ না রাখতে।(মাহির)

-আমি যোগাযোগ রাখতে বলিনি কিন্তু ইগনোর করতে বলেছিলাম? (মায়ামি)

-আচ্ছা বাবা ভুল হয়ে গেছে, সরি।যাই হোক,নিশা কিন্তু আমাকে সব বলেছে।একটা সত্যি কথা বলতো-Do you love me?(মাহির)

-সব কথা মুখে প্রকাশ করতে হয় না।কিছু কথা বুঝে নিতে হয়।(মায়ামি)

-আমি বুঝে তো নিয়েছি।কিন্তু তাও তোমার মুখ থেকে শুনতে ইচ্ছে করছে ঐ three magical words (মাহির)

-মানুষ তো দিনে কতবার ঐ three magical words বলে কিন্তু আসলে কি সেগুলো মন থেকে বলে?যদি সত্যি মনে অপরপ্রান্তের মানুষটির প্রতি অনূভুতি থেকে থাকে তাহলে টা ব্যক্ত না করলেও ভালোবাসা এক বিন্দু কমে না।আমি জানি আমাদের ভালোবাসা সেই ভালোবাসাগুলোর মধ্যে একটা।তাহলে কি আমাদের নিজের feelings confess করার দরকার আছে?আমাদের lovestory তে নাহয় feelings টা unconfessed ই থাক।(মায়ামি)

-ঠিকই বলেছো।আমাদের unconfessed feelings আর confessed করে কাজ নেই।আমাদের ভালোবাসা এমনিই সুন্দর (মাহির)

এরপর দুজনে একে অপরের উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হলো।


____________________________
48 Views
2 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(2)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
মোঃ আলমগীর হোসেন (আতিক)
21-Sep-2024, 09:55 AM

দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ দারুণ হয়েছে আপু।

মালিহা মেধা
মালিহা মেধা
21-Sep-2024, 02:01 PM

অসংখ্য ধন্যবাদ

Reader photo
চৈত্রিকা
16-Sep-2024, 10:13 AM

💗💗💗