পেত্নীর প্রতিশোধ

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পেত্নীর প্রতিশোধ

একবার, একটি প্রাচীন ও শান্ত গ্রামে, যেখানে সবকিছু ছিল প্রাকৃতিক ও সুন্দর, দুটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সুমি ও তুলি, বাস করত। তারা ছিল অপরূপ সুন্দরী এবং সাহসী। তাদের প্রতিদিনের জীবন ছিল সুখময়, তবে তাদের জীবনে একদিন একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে যা তাদের সম্পূর্ণ জীবনকে বদলে দেয়।

গ্রামের একটি পুরনো ভবন, যা অনেক দিন ধরে পরিত্যক্ত ছিল, সেই ভবনটি সম্পর্কে নানা ধরনের গল্প শোনা যেত। গ্রামবাসীরা বলত যে বাড়ির ভিতরে একটি পেত্নী থাকে, যে নাকি তার মৃত্যুর পর প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। পেত্নীটি ছিল এক কুৎসিত নারী, যার প্রেতাত্মা একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল।

একদিন, সুমি ও তুলি, যারা নিজেদের সাহসী মনে করত, সিদ্ধান্ত নিল যে তারা ওই বাড়িতে যাবে এবং পেত্নীর রহস্য উদঘাটন করবে। তারা জানত যে এটি একটি বিপজ্জনক অভিযান হতে পারে, কিন্তু তাদের কৌতূহল এবং সাহস তাদের ঠেকাতে পারেনি।

রাতের অন্ধকারে, তারা প্রাচীন বাড়ির দিকে হাঁটল। বাড়ির প্রবেশদ্বারে পৌঁছানোর পর, তারা একটি পুরনো তালা দেখতে পেল। তাদের সাহস দিয়ে তালা খুলে, বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করল। বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই, তাদের মধ্যে একটি ঠান্ডা হাওয়া ছড়িয়ে পড়ল এবং একটি ভীতিকর অনুভূতি তাদের ঘিরে ধরল।

বাড়ির প্রতিটি কক্ষে ঘুরে, তারা একটি পুরনো সিন্দুক আবিষ্কার করল। সিন্দুকটি অদ্ভুতভাবে বন্ধ ছিল, তবে সুমি কিছু পুরনো চিহ্ন দেখে বুঝতে পারল যে এটি খুললে কিছু রহস্যময় ব্যাপার সামনে আসবে। তারা সিন্দুক খুলতেই একটি অদ্ভুত বই এবং কিছু প্রাচীন চিত্রকর্ম বের হলো।

বইটির পাতা উল্টানোর সাথে সাথে, তারা জানতে পারল যে পেত্নীটির জীবনের ইতিহাস ও তার মৃত্যুর কারণের বিস্তারিত বিবরণ লেখা ছিল। পেত্নীটি ছিল একদিন এক ধনী পরিবারের সদস্য, কিন্তু তার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং তাকে হত্যা করে। তার মৃত্যুর পর তার প্রেতাত্মা শান্তি পায়নি এবং সে তার হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত ছিল।

সুমি ও তুলি সিদ্ধান্ত নিল যে তারা পেত্নীটির প্রতিশোধের বিষয়টি সমাধান করবে। তারা গ্রামবাসীদের সহায়তা নিয়ে পেত্নীটির মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খোঁজ করতে লাগল। তারা জানতে পারল যে হত্যাকারীরা গ্রাম থেকে পালিয়ে গেছে এবং তাদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত ছিল। তারা বহুদিন ধরে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং অবশেষে হত্যাকারীদের পরিচয় উদঘাটন করতে সক্ষম হলো। তারা জানতে পারল যে হত্যাকারীরা একটি দূরবর্তী শহরে বসবাস করছে।

সুমি ও তুলি শহরে গিয়ে হত্যাকারীদের সন্ধান করল। তারা তাদের মুখোমুখি হয়ে, তাদের পেত্নীটির প্রতি দায়িত্ব নিতে বলল। হত্যাকারীরা তাদের অপরাধের জন্য অনুশোচনা করল এবং ক্ষমা চাইল।

সুমি ও তুলি তাদের অপরাধের জন্য তাদের সাজা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল, কিন্তু তারা পেত্নীটির আত্মাকে শান্তি দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ প্রার্থনা আয়োজন করল। প্রার্থনার মাধ্যমে পেত্নীটির আত্মা শান্তি লাভ করল এবং তার প্রতিশোধের ক্ষুধা শান্ত হলো।

গ্রামে ফিরে এসে, সুমি ও তুলি গ্রামবাসীদের কাছে তাদের অভিযান এবং সাফল্যের কথা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করল। গ্রামবাসীরা তাদের সাহসিকতা এবং বীরত্বের জন্য তাদের প্রশংসা করল এবং বাড়িটি পুনরায় শান্তি লাভ করল।

এই অভিজ্ঞতার পর, সুমি ও তুলি তাদের জীবনের নতুন লক্ষ্য গ্রহণ করল—মৃত্যুর পরেও যারা শান্তি খুঁজছে তাদের সাহায্য করা। তাদের এই নতুন পথচলা তাদের জীবনের এক নতুন দিক উন্মোচন করল এবং তাদের বন্ধুত্ব আরো গভীর হলো।

এভাবে, সুমি ও তুলি পেত্নীটির প্রতিশোধের গল্পের মাধ্যমে শুধু একটি আত্মার শান্তি প্রতিষ্ঠিত করল না, বরং নিজেদের জীবনের এক নতুন অর্থ খুঁজে পেল।

229 Views
0 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this: