নয়নে লাগিল নেশা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:


পর্ব ১: প্রথম সাক্ষাৎ

কলকাতা শহরের ব্যস্ততার মাঝে, একটি পুরনো বইয়ের দোকান ছিল যেখানে প্রায় প্রতিদিনই যেত মুকুল। মুকুল ছিল একজন বই প্রেমী, তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রিয় ছিল পুরনো বই সংগ্রহ করা। একদিন, সে একটি বিশেষ বই খুঁজতে গিয়ে দোকানে এল। বইটির নাম ছিল “অলিভিয়া” এবং এটি একটি প্রাচীন রোমান্স উপন্যাস।

সেইদিন বইয়ের দোকানে প্রথম দেখা হয় মিতালি নামের একটি মেয়ের সাথে। মিতালি ছিল খুবই প্রাণবন্ত এবং বইয়ের প্রতি তার অদ্ভুত আকর্ষণ ছিল। যখন মুকুল বইটি খুঁজছিল, মিতালি তার পাশে এসে দাঁড়াল এবং বলল, “আপনি কি এই বইটি খুঁজছেন? আমি মনে করি, এটি আমার সাথেই আছে।”

মুকুল একটু বিস্মিত হয়ে বলল, “হ্যাঁ, আমি অনেকদিন ধরে এই বইটি খুঁজছি। কিভাবে এটি আপনার কাছে এলো?”

মিতালি হেসে বলল, “আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে এটি খুঁজছিলাম। আমরা যদি একসাথে বইটি পড়ি, তাহলে হয়তো আমাদের গল্পে কিছু মিষ্টি মুহূর্ত যোগ হবে।”

এই কথার সাথে সাথে মুকুলের মন একটু নরম হয়ে গেল। তাদের মধ্যে কথোপকথন শুরু হলো এবং তারা বুঝতে পারল যে, বইয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা তাদের একে অপরের কাছে নিয়ে এসেছে।


---

পর্ব ২: বন্ধুত্বের সূচনা

মুকুল আর মিতালি বইয়ের দোকানে একে অপরের সাথে আরও সময় কাটাতে লাগল। তারা বইয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করত, পুরনো কাব্য এবং সাহিত্যের আলাপ-আলোচনা করত। তাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকল।

মুকুল দেখতে পেল, মিতালি শুধু একটি বই পড়ার ভালোবাসা নয়, তার মধ্যে এক ধরনের গভীরতা রয়েছে। মিতালি কখনো নিজের জীবনের গল্প শেয়ার করত, কখনো জীবনের কঠিন সময়ের কথা বলত। মুকুলও তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুলে বলেছিল। এই ধরনের খোলামেলা আলোচনা তাদের বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করে তুলেছিল।

একদিন মিতালি মুকুলকে তার প্রিয় বইয়ের একটি লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল। সেখানকার শান্ত পরিবেশ এবং পুরনো বইয়ের গন্ধ মুকুলকে মুগ্ধ করে তুলল। তারা সেখানে সময় কাটাল, আর সেই দিন থেকেই তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে একটা বিশেষ ভাব চলে আসল।


---

পর্ব ৩: প্রেমের সনাক্তকরণ

সময় যেভাবে চলে যাচ্ছে, মুকুল আর মিতালি তাদের সম্পর্কের মধ্যে একটি নতুন ধরণের অনুভূতি অনুভব করতে লাগল। তারা একে অপরকে শুধু বন্ধু হিসেবে নয়, বরং গভীরভাবে ভালোবাসতে শুরু করেছিল।

একদিন, মুকুলের বাড়িতে বসে তারা একে অপরকে তাদের মনের কথা খুলে বলল। মুকুল মিতালির দিকে তাকিয়ে বলল, “মিতালি, আমি জানি যে আমরা বন্ধু হিসেবে শুরু করেছি, কিন্তু আমি অনুভব করছি যে আমার হৃদয় শুধু তোমার জন্যই অপেক্ষা করছে। তুমি কি আমার জীবনের অংশ হতে চাও?”

মিতালি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর ধীরে ধীরে বলল, “মুকুল, আমি অনেকদিন ধরে তোমার প্রতি একই অনুভূতি বহন করছি। আমি চাই তুমি আমার জীবনের অংশ হও।”

এই স্বীকৃতি তাদের সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রা এনে দিল। তারা একে অপরের প্রতি প্রেমের এই নতুন অনুভূতি আরও গভীরভাবে অনুভব করতে শুরু করল।


---

পর্ব ৪: সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ

তাদের প্রেমের সম্পর্ক নতুন হলেও, এটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল। মিতালির পরিবারের কিছু আপত্তি ছিল, কারণ তারা মুকুলের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। মিতালির পরিবার মুকুলকে বেশ কিছু প্রশ্ন করতে শুরু করল, এবং মিতালি ও মুকুলের প্রেম সম্পর্ককে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে লাগল।

মুকুল এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিল, কিন্তু সে মিতালির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। সে মিতালির পরিবারের সাথে খোলামেলা আলোচনা শুরু করল, তাদের তার জীবনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বোঝানোর চেষ্টা করল।

একদিন মিতালির পরিবারের সাথে একটি গুরুতর আলোচনার পর, তারা মুকুলের আন্তরিকতা এবং ভালোবাসা বুঝতে পারল। ধীরে ধীরে তাদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে শুরু করল, এবং তারা মুকুলকে গ্রহণ করতে রাজি হলো।


---

পর্ব ৫: একসাথে জীবন শুরু

মুকুল আর মিতালির সম্পর্ক সব বাধা কাটিয়ে এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। তাদের প্রেমের সৌন্দর্য আর আন্তরিকতা তাদের জীবনের নতুন অধ্যায়ে নিয়ে গেল।

একদিন, মুকুল একটি বিশেষ প্রস্তাব দিল। সে মিতালিকে তার প্রিয় পার্কে নিয়ে গেল, যেখানে তারা প্রথমে দেখা হয়েছিল। সে মিতালির হাতে একটি আংটি পরিয়ে বলল, “মিতালি, আমি চাই তুমি আমার জীবনের অংশ হও, চিরকাল। আমি তোমাকে ভালোবাসি এবং আমাদের জীবন একসাথে কাটাতে চাই।”

মিতালি আনন্দে অভিভূত হয়ে বলল, “আমি রাজি, মুকুল। আমাদের ভালোবাসা এবং সম্পর্কের এই সুন্দরতা চিরকাল অটুট থাকবে।”


---

শেষ:

“নয়নে লাগিল নেশা” একটি প্রেমের গল্প, যা প্রেমের প্রকৃত সৌন্দর্য এবং সম্পর্কের গুরুত্বকে প্রমাণ করে। মুকুল আর মিতালির সম্পর্কের মাধ্যমে বোঝা যায়, সত্যিকারের প্রেম শুধুমাত্র একটি অনুভূতি নয়, বরং একে অপরকে সমর্থন করা, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা এবং একসাথে জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা। তাদের প্রেমের গল্প একটি সুন্দর এবং চিরকালীন বন্ধনের পরিচয় বহন করে।
178 Views
3 Likes
0 Comments
2.0 Rating
Rate this: